একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে...

শহীদুল্লাহ ফরায়জী

অনলাইন ৭ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার, ২:৫৮ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২০

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় 'আমরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি'.. এই প্রত্যয় ঘোষণা করে বীর সেনানীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধের দেশে প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন জায়গায় বিনা বিচারে মানুষ খুন হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণে মানুষ খুন করা রাষ্ট্রের জন্য যেন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ যারা কথিত বন্দুকযুদ্ধে মানুষ খুন করেছে রাষ্ট্র তাদের এই কাজগুলোকে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান মনে করে পদকও দিয়েছে।

টেকনাফ থানার বহুল প্রশংসিত (!) এবং পদকপ্রাপ্ত প্রদীপ কুমার দাশ বছর দুয়েক আগে টেকনাফ থানায় যোগ দেন। সৌভাগ্যবান প্রদীপ কুমার দাশের সময়টুকুতেই দেড় শতাধিক 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটেছে টেকনাফ থানায়। পদক পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনে তিনি নিজেই পুলিশ সদর দপ্তরে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের কথা  উল্লেখ করেন এবং সবকটি ঘটনায় আসামি নিহত হয় বলে জানান। জনগণের জীবন সুরক্ষা  দিতে গিয়ে পুলিশ ঝুঁকিতে পড়েছে এমন জনবান্ধব কাজকে এখন আর কৃতিত্বপূর্ণ অবদান বলে মর্যাদা দেয়া হয় না।

প্রদীপ কুমার দাশ পদক পাওয়ার জন্য কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের বর্ণনা দিতে গিয়ে একটি ঘটনায় লেখেন, দক্ষিণ লেঙ্গুরবিলের ফরিদ আলমকে নিয়ে তার সহযোগী ভুলু মাঝির বাড়িতে উপস্থিত হলে অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে।
সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফরিদ আলম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সন্ত্রাসীরা গুলি করে পুলিশকে লক্ষ্য করে আর মারা যায় ইয়াবা ব্যবসায়ী ফরিদ আলম। এটাই প্রদীপ কুমার দাসের কৃতিত্ব। সন্ত্রাসীদের নিশানা ব্যর্থ হওয়াই প্রদীপ কুমার দাশের ভাগ্য খুলে গেল। লাশের সংখ্যা দিয়ে রাষ্ট্র কৃতিত্ব নির্ধারিত করে আর সর্বোচ্চ পদক দেয়।

যে পুলিশকে পদক দেয়া হচ্ছে যোগ্যতার জন্য তার এলাকায় দেড়শত দিন বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে। দেশের সবচেয়ে বেশি বন্দুকযুদ্ধ যেখানে সেখানে তার সফলতা কতটুকু। সেখানে কি মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, না মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে। যার এলাকায় মাদক ব্যবসা বিস্তার ঘটেছে সেই কর্মকর্তাকে কিভাবে পদক দেওয়া হয় আর দেড়শত বন্দুকযুদ্ধে কতগুলো বন্দুক উদ্ধার হয়েছে, সরকার কি পদক দেয়ার পূর্বে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েছিল?

৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে প্রতিবার দুইটা মুখস্ত গল্পের যেকোনো একটা গল্প জাতির সামনে হাজির করা হয়। হত্যা করে মিথ্যাচার সংবলিত একটা বয়ান দিয়ে হত্যার সপক্ষে এমন যুক্তি উত্থাপন করা হয় যেন হত্যা করা রাষ্ট্রীয় আদর্শ। যারা খুন করছে তারা রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার সপক্ষে আর যারা খুন হয়েছে তাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।
 
মেজর সিনহাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড ভিন্নমাত্রা পায়। একজন তরুণ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং দেশ মাতৃকার তরে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা তার প্রতিদান দিয়েছি বুকে ৬টি গুলি চালিয়ে, লাশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে। আমরা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর  হাসপাতালে নিয়ে যাবার নাটক করেছি। মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে হয়তো মেজর সিনহা বলেছেন আমি আবার আসবো ফিরে, বিনা কারণে আমাকে হত্যা করার জন্য, আমার লাশকে অপমান করার জন্য রাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ জানাতে আসবো।

এক সম্ভাবনাময় স্বপ্নচারী মানুষের সমস্ত স্বপ্নকে আমরা নিমিষেই শেষ করে দিলাম। মেজর সিনহার প্রশ্নে রাষ্ট্র অন্তত তদন্ত কমিটি করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন সিনহা মো. রাশেদ খানকে পুলিশের হেফাজতে হত্যা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সব অস্ত্রধারী বাহিনীকে সংবিধান অনুযায়ী সুশৃংখল হতে হবে। এ দাবি রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তির সাথে জড়িত ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের অঙ্গীকারের সাথে জড়িত।
 অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিবেকের এই তাড়না, রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা উচ্চারণ করায় অন্ধকার সমাজের মাঝে একটু আশার আলো বিতরণ হয়েছে। তাদের এই বিবেক তাড়িত উচ্চারণ এখানেই যেন থেমে না যায়। জাতি আশা করে প্রতিটি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে তাদের সাহসী প্রতিবাদ যেন অব্যাহত থাকে।

রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান মেজর খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, ক্রসফায়ারে মৃত্যু বা হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে গায়েব করে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ দমন করার প্রবণতার নেতিবাচক দিক প্রকাশ পাচ্ছে। অবৈধভাবে আস্কারা পেয়ে গড়ে ওঠা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ক্রসফায়ার বা হারিয়ে যাওয়ার হুমকি ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন ও এলাকায় অযাচিত নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেছে। আইনের শাসনের দুর্বলতার কারণে হয়রানি এড়াতে অধিকাংশ জনগোষ্ঠী এসব আইনবহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসে না।
খন্দকার নুরুল আফসার আরো বলেছেন, এ ধরনের অবৈধ প্রক্রিয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় সঙ্ঘবদ্ধ ফ্রাঙ্কেনস্টাইন গড়ে উঠেছে যারা পুলিশের পোশাক পরে ও সরকারী অস্ত্র ব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় মেজর সিনহাকে হত্যা করেছে। কোন সভ্য সমাজ এটা মেনে নিতে পারে না।
অথচ আমাদেরকে মেনে নিতে হচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্র বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করলে উদ্বিগ্ন হয়না। কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজনও মনে করে না। একজন পুলিশ পরিদর্শক তার বিবেচনায় রাষ্ট্রে কোন নাগরিক বেঁচে থাকবে বা কোন নাগরিক বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে সেই নির্ধারণ করছে। একজন পুলিশ পরিদর্শকের করুণার উপর নির্ভর করছে একজন নাগরিক অপরাধী হবে কি হবে না, মাদক জড়িয়ে গ্রেপ্তার করবে কি করবেনা। জোর করে অপরাধী বানানোর প্রবণতা নিয়ে কতবার কথা উঠেছে কিন্তু তার কোনো প্রতিকারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।  জনগণের হাহাকার সরকারের কাছে কোন আবেদন সৃষ্টি করে না। কারণ জনগণের ভোট সরকারের প্রয়োজন পড়ে না। যাদের প্রয়োজন পরে সরকার তাদেরকেই আশ্রয় দেয় প্রণোদনা দেয়।

প্রদীপ কুমার দাশ ঘোষণা দিয়েছিল মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িঘরে আগুন দেবে. কিন্তু তখন কি পুলিশ বিভাগ বুঝতে পারেনি যে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া  কোনভাবেই পুলিশি কাজ হতে পারে না। এই যে আইন বহির্ভূত ঘোষণা দিয়েছিল প্রদীপ কুমার দাশ, এই জন্য তাকে কি কোন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছিল? মেজর সিনহার বিষয় না হলে আরো ১০০জন নাগরিক নিহত হলেও প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার হতো কিংবা গ্রেপ্তার হতো?

পাকিস্তানি নিষ্ঠুর শাসকগণ বাঙালি কে খুন করা বৈধ বিষয় মনে করত। হানাদার বাহিনী মনে করত বাঙালিকে সমূলে উৎখাত করতে পারলেই দেশপ্রেম রক্ষিত হয়। স্বাধীন দেশেও রাষ্ট্রের অগ্রগতি উন্নয়ন ভাবমূর্তি সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি নামে অহরহ মানুষ খুন করে সরকার দেশপ্রেমের প্রমান দেয়। মানুষকে খুন করেই সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে বলে বয়ান দেয়। পাকিস্তানিদের ক্ষোভ ক্রোধ ছিল বাঙ্গালীদের উপর, সুযোগ পেলেই ভয়ানক ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিত। আমার দেশের সরকার আমার দেশের জনগণের উপর কি কারণে ক্ষুব্ধ  বা ক্রুদ্ধ। স্বাধীনতার পর কত মানুষ রাজনৈতিক কারণে হত্যার শিকার হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল তার হিসেব কেউ জানে না।

রাষ্ট্র জনগণের সামনে সত্য উদঘাটন করবে। কারণ রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের। কোন একজন নাগরিক যদি ভুলে হত্যার শিকার হয় রাষ্ট্র সে সত্য স্বীকার করে দায় মাথায় তুলে নেবে। মানুষ খুন করে মিথ্যা গল্প বানানোর জন্য  রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হয় নাই।

আমরা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণ ভোট দিয়ে শাসক নির্বাচন করার উপযোগী নয়। ফলে সরকার নিপুন দক্ষতা ও গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে ভোটের ব্যবস্থাকে  নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। সমাজদেহে ভয়ের সংস্কৃতি বিস্তার করে দিয়েছে।এছাড়াও বাংলাদেশ সন্ত্রাসী আর মৌলবাদীদের ঘাঁটিতে  পরিণত হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আমরাই রাজনৈতিক স্বার্থে এসব অপপ্রচার করেছি। ঈদের পূর্বে আমরাই বলেছি সারা দেশে জঙ্গি হামলা হতে পারে। ঈদের পরের দিন বলেছি বাংলাদেশে জঙ্গি নাই। রাষ্ট্রকে নিয়ে ছেলে খেলা করতে গিয়ে রাষ্ট্রের গায়ে জঙ্গি তকমা আমরাই লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সরকার ক্ষমতার অন্ধমোহে এসব কিছুকেই সাফল্য হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার করে বাহবা কুড়াতে চায়।

আমরা রাষ্ট্রকে ক্ষমতার স্বার্থে সুবিধাজনক অবস্থান দিয়ে বিচার করছি। এসব করে রাষ্ট্রকে পরাশক্তির ঘুটি হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে সন্ত্রাস সহিংসতা  নির্মূল না করতে পারলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে, আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে - এসব আদর্শ আমরাই প্রচার করেছি। ফলে ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমরা পরাশক্তির টার্গেটে পরিণত হয়েছি। বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণে এ অঞ্চলে পরাশক্তিদের শক্তি সমাবেশে আমাদের সমীকরণ কোথায় দাঁড়াবে তা আমাদের কারো জানা নেই। পরাশক্তির অর্থ ও শক্তি একদিন যে আমাদের গিলে খাবে সেইটুকু দুরদৃষ্টি আমাদের নেই।

পরাশক্তির দ্বন্দ্বে সিরিয়া লেবানন ইরাক রাষ্ট্রগুলির রক্তপাত আর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে আমরা  কোন শিক্ষা নিতে পারিনি। আমরা যারা আজকে ক্ষমতার দম্ভে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি একদিন যে আমরাও এই অভিন্ন অবিচারের শিকার হতে পারি সে বিবেচনাবোধটুকু আমাদের নেই।

রাষ্ট্রকে ক্ষমতার  রাজনৈতিক স্বার্থে আমরাই  বিপজ্জনক করে তুলেছি। ভোটের অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, শাসনতান্ত্রিক অধিকার, সব অধিকার না হয় ক্ষমতাবানদের নিয়ন্ত্রণে থাক, উন্নয়নের স্বর্গরাজ্যে ক্ষমতাসীনরাই বাস করুক, সরকার অনন্তকাল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকুক, শুধু নাগরিকদের জীবন রক্ষার অধিকারটুকুর নিশ্চয়তা দেয়া হোক ,শুধু এটুকুই অসহায় দেশবাসীর দাবি।

এই নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা অবশ্যই বদলাতে হবে। সত্য বলার মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম শুরু করতে হবে।

সত্য  প্রসঙ্গে মিশেল ফুকো বলেছেন গ্রিক শব্দ 'পারহেসিয়া' বলতে বুঝায়-কোন বক্তা যখন সত্যের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি তা বিবৃত করেন এবং সত্যকথনকে দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করে তার নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেন, বক্তা তার স্বাধীনতাকে সঙ্গী করে যখন কোন প্ররোচনা দেওয়ার বদলে বেছে নেন অকপটতাকে, মিথ্যা বলা বা নীরব থাকার বদলে সত্য বলাকে তার জীবন ও জীবনের নিরাপত্তা বদলে মৃত্যুর ঝুঁকিকে ...বেছে নেন তোষামোদ করার পরিবর্তে সমালোচনা করাকে এবং নিজের স্বার্থ ও নৈতিক উদাসীনতার বদলে তার নৈতিক কর্তব্যকে।
'দমন পীড়ন মূলক রাষ্ট্রযন্ত্র'তত্ত্বের জনক ফরাসি দার্শনিক লুই আলথুসার বলেছেন সত্য বলার মধ্যে থাকতে হবে ১. আন্তরিকতা ২. তাতে থাকতে হবে সত্য, নিজের বিশ্বাস নয়, সত্য ৩. তাতে থাকবে বিপদ অর্থাৎ ফাঁসি, ফায়ারিং স্কোয়াড  ইত্যাদির ভয় পার হয়ে বলতে হবে সেই সত্য ৪.তাতে থাকতে হবে সমালোচনা ,আত্মসমালোচনা, আত্মতোষণ নয় ৫. আর শেষে থাকতে হবে কর্তব্যেরবোধ, সত্য আমাকে বলতেই হবে কারণ আমার বলাটা এখন প্রয়োজন।
(উদ্ধৃতিঃ  মাসরুর আরেফিন এর ‘আলথুসার’ থেকে)।
রাষ্ট্র এবং তার নাগরিককে অবশ্যই সত্য বলার নৈতিক কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে। বর্তমান সরকার সবসময় বলে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সব করছে।
বঙ্গবন্ধুর একটা অনুরোধ সরকার ইচ্ছা করলেই রক্ষা করতে পারে। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন ‘আর যদি একটা গুলি চলে আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল…   ‘ বঙ্গবন্ধুর প্রিয় দেশের প্রিয় লোককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা না করে সরকার বঙ্গবন্ধুর অনুরোধ রক্ষার সম্মানটুকু চাইলেই দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে  বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও গুম বন্ধ করলেই বঙ্গবন্ধুর আত্মার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শিত হবে।
আমরা অপেক্ষা করে দেখি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সরকার কি ভূমিকা গ্রহণ করে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি ধ্বংস করে দিলে একদিন আমাদের চরম মাশুল দিতে হবে।

৭ আগস্ট ২০২০

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

লাবণ্য

২০২০-০৮-০৯ ১১:৫৪:০৪

ভালো লাগলো।।

Dip Chowdhury

২০২০-০৮-০৮ ০৭:৩৫:২৮

"Every action has an equal and opposite reaction " - আসিতেছে শুভ দিন, শুধিতে হইবে ঋণ।

মাসুম

২০২০-০৮-০৭ ১০:৩৮:৫২

একজন ওসি ২২ মাসে ১৭৪ জনকে খুন করলো , আবার খুন করে পুরস্কারও পেলো । আমাদের বাঘা বাঘা সাংবাদিক আর মিডিয়া কোথায় ছিল ? তারা কেন কোন রিপোর্ট করলো না ? তারা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতো , তাহলে কি অনেকগুলো প্রান বাঁচানো যেতো না ?

Mahmud

২০২০-০৮-০৭ ১০:৩১:৩৯

১৯৪৫ থেকে ১৯৭১ এর ম্যাচের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানী বাহিনী কতজন বাঙালি কে গুঁ, হত্যা, ক্রসফায়ারে দিয়েছে?

এম.এ.হান্নান

২০২০-০৮-০৭ ২৩:১০:৫৬

নাম না নাজা হাজার প্রদীপের মধ্যে মাত্র এক প্রদীপ দুর্ভাগ্যক্রমে ধরা পড়ে গেছে। দু'চার জন প্রদীপ ধরা পড়লে গড-ফাদারদের কিছুই হবেনা। গড-ফাদাররা কখনো ধরা পড়েনা।

Adv.N.I.Bhiuyan

২০২০-০৮-০৭ ০৯:৩৯:৫০

রাষ্ট্র আজ হত্যাকারী এজন্যই কি হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ? হত্যাকারী হয় বাদী, হত্যার শিকার ও ভিক টিম হয় আসামী, এটাই কেন কথিত শ্রেষ্ঠ বাঙালির আদর্শ হবে, হয়তো এইসব হত্যা বন্ধ করুন নয়তো আদালত বন্ধকরে দিন,, আর একটিও ক্রস ফায়ার দেখতে চাই না

Abdul motin

২০২০-০৮-০৭ ২২:০৩:৩৯

First step will be effective for accountability organize a free and fair election because you all know how last election done totally unacceptable so why you all closed eye . Men is mortal so die with glory and honor .

Morsidul

২০২০-০৮-০৭ ০৭:১৭:২০

বারে বারে চড়াই তুমি খেয়ে যাও ধান এইবার চড়াই তোমার বান্ধিবো পরাণ

Gemini babul

২০২০-০৮-০৭ ০৬:২৯:৪৪

ধন্যবাদ মানবজমিন, লেখক আর রাওয়া ক্লাব কে।

MD. ALAMGIR JALIL

২০২০-০৮-০৭ ১৯:২৫:২৮

Shahidullah Farayzi , you have pointed out pain and feelings of the nation. This is so touchy " মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে হয়তো মেজর সিনহা বলেছেন আমি আবার আসবো ফিরে, বিনা কারণে আমাকে হত্যা করার জন্য, আমার লাশকে অপমান করার জন্য রাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ জানাতে আসবো"।

tasmin

২০২০-০৮-০৭ ০৫:০৫:৪০

Thanks for such good writing. Thanks to Chairman of RAOWA for the steps.

Zahurul Chowdhury

২০২০-০৮-০৭ ১৮:০১:০৯

Hats of to Daily Manob Zamin for publishing this kind of Wonderful Article which reflects the expectations of 16 crore Bangladeshis except few black sheep.

হাবিবুর রহমান

২০২০-০৮-০৭ ১৮:০০:১৪

যখন কোন আইনের সদস্য ধরা খায়, তখন তার কুকর্মের তথ্য জানা যায়। আগে জানা যায় না কেন?

ওমর ফারুক

২০২০-০৮-০৭ ০৪:৩২:০৫

বর্তমানে দেশে যা চলছে এ কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল? এই পরিস্থিতির জন্যই কি আমরা জীবনককে তুচ্ছ করে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধিন করেছিলাম?স্বাধিনতার স্বাদ কি এ?

Ferdaus

২০২০-০৮-০৭ ০৪:১৮:৩২

যথার্থই লিখেছেন, একটি রাষ্ট্র যখন ক্রসফায়ারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে এবং তার কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়না; স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে ঐ কোন ধরনের সমাজব্যবস্থায় বাস করছি। সরকারি কার্যক্রমে অলিখিত আর্থিক লেনদেন চলছে বলে জানা যায় এইসব অলিখিত আর্থিক লেনদেন একটি সরকার বা দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার নিয়ামক নহে। এসকল এর প্রতিকার না হলে ঐ রাষ্ট্রের সুষ্ঠু চলমান প্রক্রিয়া ক্রমাগতভাবে অবনতির দিকে যাবে।

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২০-০৮-০৭ ১৭:০৭:৪১

ইতিমধ্যে আমরা সিঙ্গাপুরে পরিণত হয়েছি এবং কিছু দিনের মধ্যে জাপানে পরিণত হতে যাচ্ছি। কোন ক্ষেত্রে আমরা সিঙ্গাপুরে পরিণত হয়েছি তা হয়তো এই রসালো বুলিগুলো যারা আওড়ান তারাই বলতে পারবেন। একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা যখন গণতন্ত্র থেকে দুরে এবং পুলিশের পেশী শক্তির উপর নির্ভর হয়ে পড়ে তখন এরকম ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক। সম্ভবত ২০৪ ক্রস ফায়ারের পর ২০৫ নম্বরই মেজর সিনহার সিরিয়াল। এবং ভাগ্গিস ২০৫ নম্বরে মেজর সিনহা না হলে কত নম্বর পর্যন্ত এই ক্রস ফায়ার চলতে থাকতো তা মনে হয় যারা ক্রস ফায়ার করেন তাদেরও জানা নাই, হয়তো যারা ক্রস ফায়ারের লাইসেন্স ইস্যু করেছেন তারাই জানবেন। যত বড় অপরাধীই হোক তাকে বিচারের মুখোমুখি না করে ক্রস ফায়ারে হত্যা করার আইন মনে হয় এখন কোন আফ্রিকার দেশেও নাই। ভয়ানক সন্ত্রাসীকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্ছ ব্যক্তি ক্ষমা করেন আর নিরীহ মানুষ ক্রস ফায়ারে প্রতিদিন প্রাণ দিচ্ছে। ক্রস ফায়ার দাতাদের দেখলে মনে তারা যেন আফ্রিকার ভয়ানক হিংস্র পশুদের মুখোশ পরে আছে। তাদের কাছে কেউ নিরাপদ নয়, আজকে গতকাল পর্যন্ত ২০৪ জন আজকে সিনহা কালকে যে আমি নয় তারোবা নিশ্চয়তা কি?

নজরুল

২০২০-০৮-০৭ ০৩:৫৩:৫৯

এরকম হাজারো প্রদীপ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে।

জিলানী

২০২০-০৮-০৭ ০২:০৭:৩৩

রাওয়া কে ধন্যবাদ, দেরীতে হলেও যে বলিষ্ঠ কন্ঠ দেখিয়েছেন, তা যেন জারী থাকে। সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কন্ঠ যেন বলিষ্ঠ থাকে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

পূর্ণাঙ্গ হলো সেচ্ছাসেবক দল

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

নবাবগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ...

নয় বছরে ৯ বিয়ে, অপেক্ষায় আরও ৪

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত