স্বাস্থ্যবিধি উধাও!

শাহনেওয়াজ বাবলু

এক্সক্লুসিভ ২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৬

করোনাভাইরাসে নাকাল পুরো বিশ্ব। এর ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থা অনেকটাই বিপর্যস্ত। এই অবস্থা থেকে কবে উত্তরণ ঘটবে তা কারো জানা নেই। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে আসার পর থেকে সরকার কঠোরভাবে এর মোকাবিলা করার ঘোষণা দেয়। প্রথমে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের অনেক জেলা উপজেলা এবং রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা লকডাউন করা হয়।
কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে ঈদুল ফিতরের পর থেকে সরকার সাধারণ ছুটি তুলে নেয় এবং লকডাউন কিছুটা শিথিল করে। সরকার ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সকল জেলা, উপজেলার এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকাকে রেড, গ্রিন এবং ইয়োলো জোনে ভাগ করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপরেও বিভিন্ন শর্ত এবং নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ৬ই মে একটি নির্দেশনা জারি করে বলে, মাস্ক না পরে বা অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে চলাচল করলে ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। ঘোষণায় এই আইন জেলা প্রশাসক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যতোই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে কিন্তু কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। তারপরেও এখনো মাস্ক ছাড়াই বাজার ঘাটে ভিড় করছে মানুষ। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সেটা এখন অনেকটাই ম্রিয়মান। শারীরিক দূরত্ব, সামাজিক দূরত্ব এই স্লোগানগুলোর ব্যবহারও তেমন দেখা যায় না। মার্কেট খুলে দেয়ার পর থেকেই রাজধানীতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সড়কে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা। রাজধানীতে যানবাহনের ভিড় বাড়ায় যানজটও দেখা যাচ্ছে। শুধু রাজধানীতে নয়। সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। রাজধানীর অলিগলিতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। দোকানে দোকানে ভিড় করছেন মানুষ। গতকাল সকালে রাজধানীর রায়ের বাজারে সরজমিন গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। বাজারের মধ্যে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব কেউই মানছে না। বাজারের ভেতরে প্রায় মুদি দোকানগুলোতে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। যদিও প্রায় সব দোকানের বাইরে একটি সাদা কাগজে লেখা স্বাস্থ্যবিধি মেনে গোল চিহ্ন দেয়া স্থানে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনুন। কিন্তু ক্রেতাদের কেউই তা মানছেন না। তারা পাশাপাশি অনেকে প্রায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন। দোকানে থাকা কর্মচারীর মুখে নেই কোনো মাস্ক। বাজারের প্রায় সব দোকানে একই চিত্র। বাজারের চিত্র দেখে বোঝা মুশকিল যে দেশে করোনাভাইরাস নামে ভয়াবহ কোনো সংক্রমণ আছে। হোটেলগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র। সবগুলো হোটেলেই একসঙ্গে বসে খাচ্ছেন সবাই। যারা খাবার খাচ্ছেন তারাও কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আর যারা খাবার দিচ্ছেন তাদের হাতে নেই গ্লাভস বা মুখে নেই কোনো মাস্ক। এদিকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শপিং মলে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। মার্কেটের প্রবেশপথে হাত ধোয়াসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নেই। প্রতিটি দোকানের সামনেও হাত ধোয়াসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ থাকলেও মানছেন না দোকানিরা। রাজধানীর হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায় দেখা গেছে এমন দৃশ্য। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই অনেকে এভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করায় অযথাই জনসমাগম হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে তিন ফিট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও কোনো দোকানি কিংবা রাস্তায় চলাচল করা সাধারণ মানুষ তা মানছে না।
রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি না মানার দৃশ্য। প্রায় প্রতিটি মার্কেটের সামনে হকাররা বেচা বিক্রি করছেন। কিন্তু ক্রেতা এবং বিক্রেতা কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। অনেকের মুখে মাস্ক কিংবা হাতে গ্লাভস নেই। এছাড়া চা দোকানগুলোতে চলছে আড্ডা। যানবাহনেও মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জামান

২০২০-০৭-২৫ ০১:৫৪:০৬

সময়োপযোগী লেখা। শুভকামনা মানবজমিন পরিবারের জন্য। শাহনেওয়াজ বাবলুর জন্য শুভকামনা।

Shahid

২০২০-০৭-২৫ ০১:২৫:২৩

বাহিরে মাস্ক পরে যাওয়াটা যেন আর ইজি লাগছে না। প্রায়ই লোকে মাস্ক পরছে না। হ্যান্ড শ্যাকের জন্য হাত বাড়ায়। গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতে চায়। কী আশ্চর্য। আমরা আসলে ভীতু। যতক্ষণ শোরগল ততক্ষণ কাবু!

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

স্মরণ

আতাউস সামাদ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট

জেএন্ডজের সিঙ্গেল ডোজ পরীক্ষা শুরু

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

৪ঠা অক্টোবর থেকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

আগামী ৪ থেকে ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত দুই সপ্তাহব্যাপী ধাপে ধাপে সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ...

করোনাজয়ী তমার আর্জি

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

হিলি স্থলবন্দরে পিয়াজ আমদানি বন্ধ

১১ ট্রাক পচা পিয়াজ নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত