মালয়েশিয়ায় প্রবাসী নিপীড়নের তদন্ত ও রায়হানের নিরাপত্তা দাবি ২১ সংগঠনের

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ১১ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৯:৫৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫৪

মালয়েশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের ওপর চলা নিপীড়নমূলক আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে একজন বাংলাদেশিকে সমন জারি করাসহ সার্বিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের ২২টি সংগঠন। মালয়েশিয়া সরকারের কাছে তারা সাংবাদিক ও প্রবাসীদের কোন ধরনের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন, ঢাকার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। আজ শনিবার ২১ টি সংগঠনের একটি যৌথ বিবৃতিতে এ আহবান জানানো হয়।

যৌথ বিবৃতি প্রদানকারী ওই সংগঠনগুলো হলো- রামরু, ওয়ারবি, ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), ওকাপ, বিএনএসকে, আইআইডি, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, বমসা, বাসুগ, ইনাফি, কর্মজীবী নারী, বিএনপিএস, ডেভকম, ইমা, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, রাইটস যশোর, বিলস, বাস্তব, ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন এবং মাইগ্রেশ নিউজ।

গত ৩রা জুলাই লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট-শীর্ষক প্রতিবেদনটি আল-জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়। এতে দেখানো হয়, মালয়েশিয়া সরকার মুভমেন্ট কনট্রোল অর্ডার (এমসিও) এর মাধ্যমে মহামারির সময়ে অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়ার নিপীড়েনের যে ছবি ওঠে এসেছে সেটা নিন্দনীয় ও গভীর উদ্বেগের। মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এই ধরনের অভিযোগে অতীতেও ছিলো।
মালয়েশিয়া সরকাররে এই ঘটনাগুলো তদন্ত করা উচিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এই ঘটনার পর আল জাজিরার সাংবাদিকদের ডেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মালয়েশিয়া। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে আমরাও এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে সাক্ষাতকার দেয়ায় বাংলাদেশি তরুণ মো. রায়হান কবিরকেও (২৫) খোঁজা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তাতে বলা হয়েছে, রায়হান কবিরের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে সমন জারি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্থানীয় প্র্রশাসন যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা দেখেছি, রায়হানের বিষয়ে তথ্য জানতে এরই মধ্যে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশের আইজি গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

২১ সংগঠনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেয়া কোন অন্যায় নয়। আর রায়হান কোন অপরাধও করেননি। তিনি বৈধভাবে সেখান থাকছেন। অথচ এমনভাবে মালয়েশিয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে খুঁজছে- যেন সে বড় অপরাধী। আমরা জানতে পেরেছি রায়হানকে ধরার জন্য বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকেও হয়রানি করা হচ্ছে। এসব ঘটনা আমাদের আহত করেছে। আমরা রায়হানসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

মালয়েশিয়ার যেসব মানবাধিকার সংস্থা প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেখানকার আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখার অনুরোধ করছে সংগঠনগুলো। পাশপাশি মালয়েশিয়া সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমরা নিপীড়নের ঘটনাগুলো তদন্ত করার আহবান জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে তৎপর হয়ে রায়হান কবিরের নিরাপত্তা নেয়াসহ প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Shamsul Hoque

২০২০-০৭-১১ ০৯:৩৯:২৮

We want to see in right track.

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত