রাজনগরে অজ্ঞাত নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা

রহস্য উদ্‌ঘাটন গ্রেপ্তার ৬

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে

বাংলারজমিন ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার

রাজনগরর অজ্ঞাত নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে দুইজন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্ধি দিয়েছে। গতকাল দূপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মৃত তরমুজ মিয়া ওরফে তম্মু মিয়া পুত্র জমশেদ মিয়া (৫২), একই উপজেলার চাঁনভাগ গ্রামের হোসেন খাঁ পুত্র বাদশা খাঁ (৩২), সৈয়দনগর (ভাঙ্গারহাট) ইলাছ মিয়া পুত্র শিপন মিয়া (৩০), চাঁনভাগ (টিলাগাঁও) গ্রামের মজিদ মিয়া স্ত্রী এনা বেগম ওরফে গোলাপী(৩৫), একই গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার রনিখাই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির স্ত্রী সালমা বেগম (২৫)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন মৌলভীবাজার বড়দল গ্রামের মৃত শেখ আবুল কালাম আজাদ এর পুত্র শেখ হুমায়ুন আহমদ(২৫)।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) প্রেস ব্রিফিং-এ জানান গত ১২ জুন সকালে রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরভাগ ইউপিস্থ চাঁনভাগ দক্ষিণ টিলা গ্রামে জনৈক মুকুল মিয়ার আকাশী বাগানের একটি গাছ থেকে অজ্ঞাতনামা মহিলার (১৮-২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে আলামত জব্দ ও ময়না তদন্তে গণধর্ষন ও হত্যার আলামত পায়। পরে আসামীদের ধরতে তার দিক নির্দেশনায় মৌলভীবাজার সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম,ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম,এসআই বিনয় ভূষন,এসআই কালাম ও এসআই অজিত কুমার তালুকদারসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম বিষয়টি ব্যাপক তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে আসামী জামশেদ মিয়াকে আটক করে নিবিরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
দীর্ঘ কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়া স্বীকার করেন তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জমসেদ এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান খুন হওয়া নারী ধারণা করা হচ্ছে একজন দেহব্যবসায়ী ছিল। আসামী সালমা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে,অজ্ঞাতনামা মৃত মহিলার ছদ্মনাম সুমি বেগম। তবে তাহার কোন ঠিকানা জানে না এবং জনৈক রুকশানা বেগম মৃত ছদ্মনাম সুমী বেগমকে আসামী সালমার নিকট দিয়েছিল। আসামীরা সালমা বেগম এর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা চুক্তিতে একরাতের জন্য এনেছিল। তাকে প্রথম রাতে আসামীরা এনা বেগম ওরফে গোলাপী বাড়িতে রেখে অসামাজিক কাজ করছিল। দ্বিতীয় দিন কাজ করতে না দেওয়ায় তাকে তারা খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। তবে গ্রেফতারকৃত আসামীদের কাছ থেকে ওই অজ্ঞাত নারীর পরিচয় এখনো পুলিশ সনাক্ত করতে পারেনি। প্রেস বিফ্রিং-এ এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

খাবারে বিষ মিশিয়ে প্রবাসী স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

৪ আগস্ট ২০২০

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্বামীকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ...

শ্রীপুরে বজ্রপাতে কৃষক নিহত

৪ আগস্ট ২০২০

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বজ্রপাতে দশরত ওরফে দশাই (৩০) নামের এ কৃষকের ...

হিজলায় বজ্রপাতে পেয়ারা ব্যবসায়ী নদীতে পড়ে নিখোঁজ

৪ আগস্ট ২০২০

বরিশালের হিজলায় বজ্রপাতের ঘটনায় শামীম (৩৪) নামের এক পেয়ারা ব্যবসায়ী নদীতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। উপজেলার ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত