ইমরানের সঙ্গে মিলিটারির হানিমুনের ইতি ঘটছে

নিজস্ব প্রতিনিধি

অনলাইন ৭ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:১৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৬

জিন্নাহর পরে পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৪ সালেই বিশিষ্ট বাঙালি নেতা ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। পাকিস্তান ভাঙ্গার বীজ জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দিয়ে বপন করেছিলেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জন্মের তিন মাসের মধ্যে উপজাতি লস্করদের সহযোগিতায় কাশ্মীরে অভিযান চালান। প্রতিষ্ঠা করেন আজাদ কাশ্মীর। ভারতের সঙ্গে সবকটি যুদ্ধের শুরুটা পাকিস্তান করেছে। এসবের পরিণতি হলো আজকের পাকিস্তান। ইমরান খানের প্রতি সামরিক বাহিনী হতাশ। ইমরান ভেবেছিলেন, সামরিক বাহিনী যেহেতু সব বিরোধী দলকে কাবু করেছে, তাই তিনি ও তার দলই সকল অবস্থায় মিলিটারির পেয়ারের থাকবে।
পাকিস্তান তার ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছে। এর পরিণতি হলো, পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে চলেছে। ’

পাকিস্তানি লেখক ও বিশ্লেষক ইউসুফ নাজার তার একটি নিবন্ধে ওই পর্যবেক্ষণ ফুটিয়ে তুলেছেন। জনাব ইউসুফ যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্সি ফার্ম পরিচালনা করেন। তিনি এর আগে সিটি গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট ইউনিটের প্রধান ছিলেন।
গত সপ্তাহান্তে একটি পাকিস্তানি টিভি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে বর্তমানে অবিভক্ত পাকিস্তান ভেঙে যাওয়া, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ, কোটাব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয়ে যেসব তথ্য সাধারণত প্রচার করা হয়ে থাকে, তা ঐতিহাসিক নিরিখে খণ্ডিত, অসত্য, অতিরঞ্জিত এবং সত্যের অপলাপ।
ইউসুফ নাজার এর ভাষায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রের দু'টুকরো হয়ে যাওয়ার ঘটনা কোন একটি বছরের সংঘটিত ঘটনাবলীর আলোকে দেখলে চলবে না। কারণ এই সমস্যার শুরু হয়েছিল যেদিন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ সেটা ঘোষণা করেছিলেন। নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাঙালিরা ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা ছাড়াই জাতীয় ভাষা কি হবে, সেই সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নেন জিন্নাহ। সেই একটি ঘোষণা বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ বপন করেছিল।
তার বর্ণনায়, ছাত্ররা বায়ান্নতে আন্দোলন গড়ল। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাংলাদেশে শহীদ দিবস হলো। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সূচনা ঘটলো এর মধ্যে দিয়েই। কেন্দ্রীয় সরকারে পাঞ্জাবি ও মুহাজিরদের কর্তৃত্বাধীন সরকারের নীতির কারণেই ১৯৫৪ সালে ফজলুল হক পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। পরিহাস হলো তিনিই লাহোর রেজুলেশনের প্রস্তাবক ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানে তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ভুলভাবে তাকে অপসারণ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
লেখক তার নিবন্ধে পাকিস্তানের ইতিহাসের কোটা ব্যবস্থা আরোপের তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান কোটা পদ্ধতির প্রবর্তন করেছিলেন । পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৫৬ ভাগ । কিন্তু তাদের জন্য কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছিল মাত্র ৪২ শতাংশ । করাচির জনসংখ্যা ছিল দেড় শতাংশ। কিন্তু তার জন্য কোটা রক্ষা করা হয় দুই শতাংশ। ভারত থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য রাখা হয়েছিল ১৫ শতাংশ।
এভাবে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মুহাজিররা তাদের জনসংখ্যার অনুপাতের চেয়ে বেশি কোটা ভোগ করেছে। সাধারণভাবে এটা জনপ্রিয় যে, জুলফিকার আলী ভুট্টো সিন্ধে ৬০/৪০ শতাংশ কোটা প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৯৭১ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান । ভুট্টো ১৯৭২ সালে এই ব্যবস্থার অবসান করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । কিন্তু সেটা তিনি করে যেতে পারেননি । সামরিক সরকারগুলোও পরে আর এতে পরিবর্তন আনেনি।

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ
অধিকাংশ পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন যে, ভারত ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান আক্রমণ করেছিল এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র । কিন্তু এটাই ঐতিহাসিক রেকর্ড যে , পাকিস্তান ১৯৬৫–র যুদ্ধ শুরু করেছিল। এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধের সূচনা ঘটেছিল কাশ্মীর নিয়ে । ১৯৪৭–৪৮ সালের ঘটনা। কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং মিরপুর এলাকায় একটি মুসলিম বিদ্রোহ ঘটেছিল। তখন উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানের উপজাতিদের একজন লস্করের নেতৃত্বে অ্যাবোটাবাদ উপত্যাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার শক্তিশালী উপজাতি কাশ্মীরে ঢুকে গিয়েছিল। ওই সময় কাশ্মীরের মহারাজার নিরাপত্তায় যখন ভারতীয় সৈন্যরা এগিয়ে আসে, তখন লস্করদের সঙ্গে পাকিস্তানের নিয়মিত সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করেছিল । আর সেই প্রতিরোধের মুখেই পাকিস্তান সেদিন কাশ্মীরের পাঁচ ভাগের দুই ভাগ করতলগত করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই ভূখণ্ডই আজ ইতিহাসে আজাদ-কাশ্মীর নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালের ৩০ অক্টোবর কায়েদে আজমের বিশেষ দূত হিসেবে মির লায়েক আলী ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর সেখানেই মার্কিন অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানান।

ইউসুফ নাজার লিখেছেন, দুটি ঘটনা পাকিস্তানের জন্মের তিন মাসের মধ্যে ঘটেছিল। আর সেটা হচ্ছে উপজাতি লস্করদের ব্যবহার করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অর্থনৈতিক সহায়তার অনুরোধ জানানো । আর এই দুটি সিদ্ধান্তই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিতে পরবর্তীকালে এক দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। জিন্নাহ ছিলেন একজন শান্তিবাদী এবং সাংবিধানিক উপায়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা। ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী ছিলেন। অথচ তিনি সেই সময়ের উদীয়মান নিও উপনিবেশবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিলেন সামরিক সমাধানে। আর তখন সময়টা ছিল এমন যে পাকিস্তানের অস্তিত্বই ছিল একটা হুমকির মুখে।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আজগর খান আইয়ুব খানের ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের অংশ ছিলেন। ষাটের দশকে তার অবসরের পরে তার একটা দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আমরা লক্ষ্য করি। ২০১৮ সালে তার মৃত্যুর তিন বছর আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ’ভারতের জন্য আমাদের নীতি সর্বদাই ভুল। ভারতের বিরুদ্ধে যত যুদ্ধ হয়েছে তার সবটাই আমরা শুরু করেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ এবং কারগিল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

হতাশ মিলিটারি
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রসঙ্গে তিনি নির্দিষ্ট মতামত রেখেছেন তাঁর এই নিবন্ধে । তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানের পৌনঃপুনিক সমস্যা হলো তার রাষ্ট্রকাঠামোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন সব সময় তার সামনে জ্বলন্ত থেকেছে । সামরিক হাইকমান্ড ইতিমধ্যেই ইমরান খানের প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছে। অথচ এই সামরিক বাহিনী ২০১১ সাল থেকে তাকে সক্রিয় সমর্থন দিয়ে আসছিল। ইমরান ভেবেছিলেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়ার পর সামরিক বাহিনীর সামনে আর কোনো বিকল্প নেই । আমরা যদি ‘পলিমিক্স’ভুলে যাই, তাহলে এটা বলতে হবে, এটা একটা প্রকৃতপক্ষে অত্যান্ত দুঃখজনক রাষ্ট্রীয় ঘটনা । পাকিস্তানের বর্তমান সংকট আইনগত নয় । এটা একটা রাজনৈতিক সংকট। এটা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার যে, এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের যে প্রথাগত চিন্তাভাবনা রয়েছে, সেই পরামর্শ বা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করলে কোনো সমাধান মিলবে না । এ পর্যন্ত যেসব ব্যবস্থাপত্র আমরা সামনে দেখতে পাচ্ছি, সেগুলো সবই সিমটম এর প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়া । কিন্তু পচন এমন রুপ নিয়েছে, যেটাকে গ্যাংগ্রিন বলা যায়, পাকিস্তান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে চলেছে । পাকিস্তান এখন একটি অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি । প্রশ্ন হল এটিকে টিকিয়ে রাখার মতো রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে আমাদের কি পদক্ষেপ নিতে হবে । যারা এটা মনে করেন যে , কেবলমাত্র সামরিক বাহিনী এই রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে, তারা একটা বিষয় বুঝতে পারছেন না যে, কোন সামরিক বাহিনীর পক্ষে একটি রাষ্ট্রকে একত্রিত করে দীর্ঘকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়, যদি সেই রাষ্ট্র একটি ভায়াবেল ( টেকসই) রাষ্ট্র না হয়।

ইসুফ নাজার আরো লিখেছেন, আমরা মিথ্যাচার দিয়ে এমন একটা জাতি গঠন করতে পারিনা । যখন এই মিথ্যাচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভয়ানক বিপর্যয়কে আড়াল করা । আর যা তাদের দ্বারাই সৃষ্ট। এর অর্থ এই নয় যে জাতি কখনো ভুল করতে পারে না । কিন্তু তফাৎটা হলো প্রজ্ঞাবান জাতি তার ভুলগুলোকে স্বীকার করে নেয়। এবং সেগুলো শুধরে নিতে পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কেবলমাত্র নতুন করে যদি শুরু করা যায়, তাহলেই এমন ব্লান্ডার স্বীকার করে নেয়া সম্ভব, যা সুদুরপ্রসারী ক্ষতকে সারিয়ে তুলতে পারে । এর একমাত্র পথ হচ্ছে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি। যে চুক্তির আওতায় সেনাবাহিনীর জেনারেলরা শপথ নেবেন, তারা রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবেন না । তারা এটা নাও শুনতে পারেন কিন্তু এটাই হচ্ছে মূল কথা ।

১৯৫০ এর দশক থেকে শুরু করে সব সংকটের মূলে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ । এটা খুব সহজ বিপদ এলে রাজনীতিকদের ঘাড়ে দোষ চাপানো। এবং সংকট জমাট বাধলে কোন না কোন একটা উপায়ে সেখান থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেই, রাজনীতিকদেরই উন্মোচিত করাটাও একটা সুবিধাজনক উপায় হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আসছে পাকিস্তানের রাজনীতিতে। এধরণের পরিস্থিতিতে সেইসব রাজনীতিবিদদেরকেই দায়ী করা হয়, যারা রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে থাকেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৭-০৭ ০৫:৪১:১৬

পাকিস্তানি লেখক ও গবেষক জনাব ইউসুফ নাজার পাকিস্তানের ইতিহাসের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তবে একটি বিষয়ে আপত্তি আছে। তিনি বলেছেন জিন্নাহর পরে পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন, জিন্নাহর জনপ্রিয়তাকে বহু বহু গুণে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান। জিন্নাহ তাঁর সময়ে বড়োমাপের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, একথা সত্য। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ন্যায্য দাবী নিয়ে বঙ্গবন্ধুর উত্থান ঘটার পরে তাঁর জনপ্রিয়তা গগনচুম্বী হয়ে ওঠে এবং জিন্নাহর জনপ্রিয়তার বাতি নিভে যায়। একথাও সত্য যে, জিন্নাহ ছিলেন আধুনিক শিক্ষিত, ভদ্র, নম্র, মননশীল ও রুচিশীল রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু তাঁর মধ্যে দুরদর্শিতার চরম অভাব লক্ষ্য করা যায়। ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির পরে জিন্নাহ সাহেব পূর্ব পাকিস্তানে সফরে আসেন। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে তাঁকে স্মারকলিপি দেয়া হয়। তিনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বললেন, উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা। পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী মানুষের মায়ের ভাষা বাংলাকে অবজ্ঞা করে তিনি সেদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি চরম অদূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। ভাবতে অবাক লাগে, এতো বড়ো মাপের একজন নেতা কেনো সেদিন বাঙালীদের সেন্টিমেন্ট বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন। আসলে পাকিস্তানীরা এক ধরনের গাদ্দার জাতি। জনসংখ্যায় পূর্ব পাকিস্তান ছিলো সংখ্যাগুরু। তবুও তাদেরকে পদে পদে অবহেলা, অপমান, ও উপেক্ষার স্বীকার হতে হয়েছে। ছাত্রদের দাবি ছিলো, পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষীদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করতে হবে ; পশ্চিম পাকিস্তানের নয়। জিন্নাহ সাহেব এই ন্যায্য দাবীটি উপেক্ষা করে চরম গাদ্দারী করেছেন। এরপর গণতন্ত্র হত্যা আসে সামরিক শাসন। আইয়ুব খান রাতের আঁধারে করে ও সর্বক্ষেত্রে আমাদের সাথে বৈষম্যের পাহাড় রচনা করে এবং আমাদেরকে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখে দীর্ঘ তেইশটি বছর। ঢাকা শহরে বিহারিদের উল্লম্ফ আচরণ আমাদেরকে বেদনার্ত ও আহত করে। এরপরে বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সত্তর সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করার পারেও গাদ্দার পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তারপর আমরা প্রত্যক্ষ করি, একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চের কালো রাতে আমাদের নিরীহ ঘুমন্ত মানুষের উপর পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার চিত্র। নয় মাসের যুদ্ধের সময়ে তারা আমাদের সাথে কী নিষ্ঠুর ও বর্বর আচরণ করেছে তা বিশ্বের মানুষ দেখেছে। এক সাগর রক্ত, সম্ভ্রম, ইজ্জত ও জীবনের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে স্বপ্নের বহু কাংক্ষিত স্বাধীনতা আমরা লাভ করতে সমর্থ হই। এজন্যই ভারত ও অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের স্বাধীনতার মূল্য বহুগুণ বেশি। যদিও সব দেশের কাছেই তাদের স্বাধীনতা অত্যন্ত পবিত্র, প্রিয় ও মূল্যবান। কিন্তু আমাদের মতো এতো মা বোনের ইজ্জত ও মানুষের রক্ত কেউ কোরবানি করেছে কিনা জানা নেই।।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনের সময় বাড়ল

৯ আগস্ট ২০২০

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ পুনর্গঠনের সময় বৃদ্ধি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঋণ পুনর্গঠনে আগের ...

লাখো শ্রমিককে কুয়েত ছাড়তে হচ্ছে

২০ হাজার শ্রমিক থেকে পাপুলের আয় ১৪০০ কোটি

৯ আগস্ট ২০২০

কবিতা

আবার ফিরে আসবো

৯ আগস্ট ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত