ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল

প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ, ৪ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ৪ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৭:০৭ | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৯

দেশের চারটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠিত টাস্কফোর্স। বেঁধে দেয়া সাত দিনের মধ্যে ভুতুড়ে বিল সমন্বয় করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সুপারিশ করা হয়। এছাড়া টাস্কফোর্স-এর সুপারিশ অনুযায়ী চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঢাকার দক্ষিণে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ওই চারজন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করে টাস্কফোর্স। এছাড়া ৩৬ জন প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার এবং ১৩ মিটার রিডার সুপারভাইজারকে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে। ঢাকা উত্তরের বিতরণ সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) দু’জন মিটার রিডারকে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে।

রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের দু’জন মিটার রিডার বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিতরণ সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারিকে কারণ দর্শাও, বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স।
দেশের সব থেকে বড় বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির কারা কারা ভুতুড়ে বিলের জন্য দায়ী এ ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি আরইবি। এখনো কোনো তথ্য দেয়নি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি)।

এর মধ্যে টাস্কফোর্স কমিটির দেয়া সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপিডিসি। সুপারিশ অনুযায়ী যে চারজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আদাবর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন, একই এলাকায় দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়হানুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী মো. মজিবুল রহমান ভূঁইয়া ও কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রি কো অর্ডিনেটর জেসমিন আহমেদ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া ৩৬টি আঞ্চলিক এর নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশে ছয়টি বিতরণ সংস্থা রয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রকৃত বিলের চেয়ে কোথাও কোথাও তিন থেকে ১০ গুন বেশি বিল করার অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত ২৫শে জুন বিদ্যুৎ বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠিত হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মাহবুব

২০২০-০৭-০৫ ১০:২৮:৩২

আমার নিয়মিত বিল ৮০০-৯০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু মে মাসে আমার বিল এসেছে ৫৭০৫/- টাকা। এ হলো অবস্থা। এদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মোঃ হেফাজুর রহমান

২০২০-০৭-০৪ ২২:১৫:৪৪

মহোদয়, আমি একজন ডেসকোর নিয়মিত গ্রাহক। লক ডাউনের জন্যে মার্চ শেষ সপ্তাহ/২০২০ থেকে মে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আমার বকেয়া বিল ৫২০/ মাত্র ( সার্ভিস সার্চ + মিটার রেন্ট বাদে)। কিন্তু ১৫ ই জুন/২০২০ আমার বাসার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কতৃর্পক্ষ। ডেসকোর অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারি আমার বকেয়া বিল নাকি সর্বসাকুল্যে ২৩৭৫/-!!!!!!!!!!!!!!!! অন্য কোন উপায় পেয়ে ডেসকোর নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে বাসায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু এ কেমন করে সম্ভব এতে টাকা বিল!!!!!!! ২৩৭৫/- ডেসকোর এ গাফলতি ক্ষমার অযোগ্য। ইচ্ছা করে এরাই যা ইচ্ছা তাই বিল করে গ্রাহককে জিম্মি করে টাকা আদায় করে । প্রসঙ্গত আমি একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।

Akbar Ali

২০২০-০৭-০৪ ২১:২১:০৯

তার মানে এরা এই অপকর্মটি হর-হামেশায় করে। জনগণেরও ধারনা, সরকারী ও সংস্থার কর্মচারীদের ক্ষমতা অনেক। ওরা চাইলে এসব করা ওদের জন্য কোন ব্যাপার না।

Mohammad Shahjahan

২০২০-০৭-০৪ ০৭:২০:০৮

ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেবে সরকার

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



আরব নিউজের রিপোর্ট

ঢাকা-ইসলামাবাদের শান্ত কূটনীতি