‘এমপি-মন্ত্রীরা সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন না, এটাই বাস্তবতা’

সংসদ রিপোর্টার

এক্সক্লুসিভ ১৬ জুন ২০২০, মঙ্গলবার

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশীদ। বলেছেন, করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্ত। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার অবশ্যই জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশারাখি। এই সময়ে জাতির মধ্যে থাকা ক্ষতগুলো দূর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। গতকাল সংসদ অধিবেশনে ২০১৯-২০২০ অর্থ-বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা সংসদে আসছি। রবিবারও দু’জন মন্ত্রী-এমপি ইন্তেকাল করেছেন।
সারা বিশ্ব নিঃসন্দেহে একটা কঠিন অবস্থায় পড়েছে। তিনি দেশের হাসপাতালগুলোর দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, এমপি-মন্ত্রীরা করোনা আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে না। সিএমএইচ বা প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন। এটাই বাস্তবতা। বিএনপি নেতা হারুণ বলেন, এই দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা কি? সরকারি হাসপাতালগুলোর কি অবস্থা? বিএসএমএমইউ’র মতো একটা স্পেশালাইজড হাসপাতাল সেখানে এখন পর্যন্ত কোভিডের চিকিৎসা চালু করা যায়নি, আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। সেখানে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা নেই। অথচ গণস্বাস্থ্যের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কোডিড-১৯ পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছে। সেই কিটের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার,  কি কারণে দিচ্ছে না সেটারও কোনো ব্যাখাও নেই। অনুমোদন দিতে কেন এতো সময় লাগছে? তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন দিতে পারলে উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারতাম। গণস্বাস্থ্যের মতো প্রতিষ্ঠান যদি এধরণের কিট উদ্ভাবন করতে পারে বিএসএমএমইউ অভিজ্ঞ চিকিৎসক গবেষক সেখানে কি কাজ হচ্ছে? করোনা নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, নমুনা পরীক্ষা হার বাড়ানোর। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, প্রতিদিন মাত্র ৮-১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছি,তার ফলাফল প্রকাশ করছি। এটি খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালগুলোতে কোন ধরণের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের ১০ দিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। বাজেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ২০২৯-২০২০ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর প্রায় ৩৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়-ব্যয় প্রায় সমান। মার্চ থেকে সমস্ত কিছু বন্ধ। তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার কোটি টাকা, সেখানে প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে। বৈদেশিক সাহায্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ হাজার কোটি সেখানে পেয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা কীভাবে সমন্বয় হবে বাজেটে তা বলা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগে খরচ করব, টাকা কোথা থেকে আসবে জানি না। একটা সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে এরকম বক্তব্য আসতে পারে? বাজেট কি জন্য তাহলে? বাজেট দিয়েন না, টাকা খরচ করতে থাকেন। টাকা খরচ করার পর বাজেট দিয়েন।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

মহাসড়কের পাশে বানভাসিরা

‘কহন যেন ছাপড়ার উপর গাড়ি উইঠ্যা পড়ে’

২৯ জুলাই ২০২০

বিজয়নগরে বেহাল সড়ক

২৯ জুলাই ২০২০

ভিজিএফ চালের স্লিপ জাল করে ধরা খেলো ইউপি সদস্য

২৯ জুলাই ২০২০

হতদরিদ্র সাগরী খাতুন ভিজিএফ চালের স্লিপ পেয়ে গতকাল দুপুরে চাল নিতে আসেন ঝিনাইদহ সদরের হলিধানী ...

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়্যুথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী

২৮ জুলাই ২০২০

আজ থেকে পশুর হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত

২৮ জুলাই ২০২০

 রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত