মধ্যরাতে করোনা রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এভারকেয়ারের বিরুদ্ধে

মোহাম্মদ ওমর ফারুক

প্রথম পাতা ৩ জুন ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬

আজিজুল ইসলাম। মিরপুরের বাসিন্দা। নিয়মিত সপ্তাহে দুই বার ডায়ালাইসিস করান এভারকেয়ার (সাবেক এ্যাপোলো) হাসপাতালে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১শে মে ডায়ালাইসিস করতে ওই হাসপাতালে যান তিনি। ওই দিন রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা টেস্ট করানোর জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। যদিও এর আগে একবার টেস্ট করিয়ে ফলাফল নেগেটিভ এসেছিলো। পরের দিন বিকাল তিনটায় টেস্টের রেজাল্ট দেয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে দশটার দিকে জানানো হয় তার করোনা পজেটিভ। ফলাফল জানার পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদাসীন আচরণ করতে শুরু করেন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোগীকে বাসায় বা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। এই নিয়ে রোগীর স্বজনদের সাথে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায় রাত দুইটার দিকে রোগীকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন স্বজনরা। শুধু তাই নয় দুই দিনে বিভিন্ন টেস্ট করিয়ে রোগীর স্বজনদের কাছে বিল করা হয় ৮২ হাজার টাকা। যা অস্বাভাবিক বলে দাবি করছেন আজিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে। তিনি বলেন, সাড়ে দশটায় যখন হাসপাতাল থেকে বলা হলো বাবাকে এখানে তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না। তখন  ভেবে পাচ্ছিলাম না কি করবো। তাদেরকে অনুরোধ করলাম তারা যেনো বাবাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করায়। প্রথমে রাজি হয়ে আমার কাছ থেকে বন্ড সইও নেয়, কিন্তু তারা পরে বলে এখানে করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না। যদিও তার এক বার বলে করোনা ইউনিটে একটি সিট খালি আছে। পরে আবার বলে খালি নেই। এসব করতে করতে রাত দুইটা বেজে যায়। এই ফাঁকে বিভিন্ন হাসপাতাল খোঁজার চেষ্টা করছিলাম যেখানে বাবাবে ভর্তি করানো সম্ভব হবে। কিন্তু হাসপাতাল  খোঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে মুগদা হাসপাতালের খবর পেলাম। পরে হাসপাতাল থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয়। পরে মুগদা এসে ভর্তি হই। এখানেও নানান ঝামেলা। বাবাকে আইসিইওর দরকার হলেও আইসিইও পাচ্ছি না। বাবার কন্ডিশন ভালো না।
এদিকে কিডনি সমস্যায় ভোগা আজিজুল ইসলাম গত বেশ কয়েক বছর ধরে এভারকেয়ারে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের সিনিয়র কনসাটেল্ট ডা. ফাহমিদা বেগমের তত্ববধায়নে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেলেন।
এই বিষয়ে এভার কেয়ার হাসপাতালের কমিউনিকেন্স অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা জামিল এই মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। অভিযোগের ব্যাপারে এভারকেয়ার হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

m n alam

২০২০-০৬-০৪ ০১:৩৫:১৬

ever care really not good hospital they don't care people take too much money

Aktarujjaman

২০২০-০৬-০২ ১৯:৪০:৫৯

এটা সবচাইতে ভুল সিদ্ধান্ত কারন, করোন রোগীর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে, চললে কোন সমস্যা নাই। কারন আমিও করোনা রোগী ছিলাম। তাই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনারা এমন নিষ্ঠুর আচরন করবেন না। করোনা তেমন কোন সমস্যা নাই সঠিক সময় চিকিৎসা পেলে ৯৯% ভাল হয়

BEST MART

২০২০-০৬-০৩ ০৮:০৯:৩৭

destroy the hospital, You are not able to treat the patient

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৬-০৩ ০১:২৩:১৮

Now it is named as Never Care Hospital.

Mizanur Rahman

২০২০-০৬-০২ ১১:৩২:৩১

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদের লাইসেন্স বাতিল করার জোর আবেদন করছি। অন্ততঃ একটা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিন যাতে আপনার জনগন মনে শান্তি।পায়।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মোমেনকে জয়শংকরের চিঠি

বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে

৯ জুলাই ২০২০

১৪ দলের সমন্বয়ক আমু

৯ জুলাই ২০২০

রিজেন্ট বন্ধের নির্দেশ

কে এই শাহেদ?

৮ জুলাই ২০২০

বাংলাদেশ ফেরতদের করোনা

ফ্লাইট বন্ধ করলো চীন ও ইতালি

৮ জুলাই ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত