মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

বাস ভাড়া ৮০% বাড়ানোর প্রস্তাব

আল-আমিন

প্রথম পাতা ৩১ মে ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫১

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর ১লা জুন থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার। আর এতে চলাচলরত যাত্রীদের ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিআরটিএ’র গণপরিবহন ভাড়া নির্ধারণ কমিটি। অন্যদিকে এই মুহূর্তে বাসের ভাড়া বাড়ানো হলে যাত্রীদের জন্য তা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হবে বলে জানিয়েছেন, গণপরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। করোনায় সরকার কর্তৃক লকডাউন ঘোষণার পর অনেকেই ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। যারা গ্রামে গেছেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন কর্মহীন। এছাড়াও যারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন তাদের অনেকেরই অর্থনৈতিক টানাপড়েন চলছে। ভাড়া বাড়ানোর পর করোনার প্রভাব কেটে গেলে ওই বর্ধিত ভাড়া কমানো হবে কী-না, স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে কী-না, এই বিষয়ে কোন পক্ষই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।
পরিবহন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, দেশ থেকে এখনও মহামারী করোনার প্রভাব যায়নি।
সড়কে চাঁদাবাজির বন্ধের পদক্ষেপ না নিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্য না কমিয়ে, পরিবহনের চালক-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ সম্পর্কিত কোন প্রকার প্রশিক্ষণ না দিয়ে, গণপরিবহন চালুর মধ্যদিয়ে জনগণকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে, সড়কে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে সরকার সড়কে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি আরো বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা অযৈক্তিক ভাড়া বাড়ানোর কঠোর প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মোল্লা জানান, আমরা আজকে বিআরটিএ’র গণপরিবহণ ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সকলের উপস্থিতিতে ৮০ শতাংশ ভাড়া নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি। অর্থাৎ ৫০ ভাগ যাত্রীর কাছ থেকে ৮০ ভাগ ভাড়া নেয়া হবে। প্রত্যেক বাসে ৫০ শতাংশ সিট খালি রাখতে হবে। সেই ক্ষেত্রে বাস মালিকরা লোকসানে পড়তে পারে। এজন্য বাস ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন মানবজমিনকে জানান, সরকার যা সিদ্ধান্ত নিবে তা আমাদের মানতে হবে নইলে প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কে প্রতিবাদ করবে? প্রতিবাদ করার কেউ কী আছেন?
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, যেকোন সংকটে বা অজুহাতে দেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ালে তা স্বাভাবিক সময়ে কমানোর কোন নজির নেই। বরং সময় গেলে আরো বাড়ে। ভাড়া বৃদ্ধির তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিাবাদ জানান। ভাড়া বাড়ানোর বিরোধী বা প্রতিবাদকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন গণপরিবহন লকডাউন থাকার কারণে মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে রয়েছে এটা সত্য, কিন্তু বাড়তি ভাড়া নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পযাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এটা মনিটর করবে কে? কীভাবে এটা নিশ্চিত হবে। বাস্তবে কোনো পরিবহনই স্বল্পযাত্রী বহন করবে না, স্বাস্থ্যবিধিও মানবে না।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি ভর্তুকি ছাড়া বর্তমানে গণপরিবহণের ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে না। একটি গাড়ি রাস্তায় বের হলেই জ্বালানি খরচ, ড্রাইভার ও হেলপারের বেতন, মেরামত ও নানা খাতের চাঁদা বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা খরচ হয়। যাত্রীর ভাড়া থেকেই এসব খরচ মেটাতে হয়। অন্য সময়ে দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করা হয়। এখন করোনা পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালালে খরচ উঠবে না। ফলে বাড়তি ভাড়া সমাধান হবে বলে মনে হয় না।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

এনায়েত

২০২০-০৫-৩০ ১৭:৩৭:১৭

কার পকেটের টাকা দিয়ে ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধ করা হবে। মথা ঠিক আছেনি ? এসির নীচে বসে ঠান্ডা বাতাস খাওয়া সকলের ভাগ্যে জোটেনা । ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করলে কত টাকা মিলবে ? কত টাকা বাস ভাড়া দিবে ? কত টাকা বাকী থাকবে , এই হিসাব করেছন ? এই কোন বাংলাদেশ সবাই যারযার মতো করে আইন -কানুন তৈরি করে।

আবুল কাসেম

২০২০-০৫-৩০ ১৬:১৩:৪৩

সড়কে প্রতি বছর দুই হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। (সূত্রঃপ্রথম আলো) যার খেসারত দিতে হয় যাত্রীদের। একটা স্বাধীন দেশে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানির কোনো বৈধতা আছে কী? সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ না করে আশি শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করার কোনো যুক্তিসংগত কারন থাকতে পারেনা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও অনেক পরিবহনের কনডাক্টর যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায় করতো। যার কারনে যাত্রীদের সাথে বাস স্টাফদের প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদ ও হাতাহাতি পর্যন্ত হতো। যে কারনে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটতো। যাত্রীদের বর্তমান আর্থিক দুরবস্থার কথা না ভেবে ভাড়া বাড়ানো একপেশে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঞ্চাশ ভাগ যাত্রী কম বহন করার কথা বলা হলেও মালিক শ্রমিকদের এব্যাপারে বাধ্য করবে কে? তারা বরাবরই আইন অমান্য করেছে। বেপরোয়া আচরণ করেছে। এখনো যদি তারা নির্ধারণের চেয়ে বেশি যাত্রী তোলে এবং আশি শতাংশের যায়গায় একশো ভাগ বেশি ভাড়া আদায় করে তাদের রুখবে কে? অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এদেশে পরিবহন সেক্টরে কোনো কালেই যাত্রীদের স্বার্থ বা সুবিধা বিবেচনা করা হয়নি।সড়কে চাঁদাবাজি, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত গেইটে ঝুলিয়ে যাত্রী বহন করাসহ বহু অনিয়ম আছে আগে সেগুলো বন্ধ করা উচিত। মহামারি কবলিত জনগণের মাথায় মরার উপর খাঁড়ার ঘা চাপিয়ে দেয়া কতোটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা পুনঃ বিবেচনার দাবি রাখে।

ইকবাল

২০২০-০৫-৩০ ১২:৪৩:০৯

গনপরিবহনের উপর লকডাউন বহাল থাকুক।যতদিন পরিস্হিতি ভাল না হবে গনপরিবহন বন্ধ রাখাই যুক্তিযুক্ত হবে।বাংলাদেশের পরিবহন খাত এমন একটা প্রতিষ্ঠান যারা নিয়ম নীতির তোয়াক্কাই করেনা।এখন যদি ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া এ ভাড়া আর কমাবেনা কোন সময়।তাই পরিস্হিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গনপরিবহন লকডাউনের আওতায় থাকার জোর দাবী জানাচ্ছি।

Md.Rasel Chowdhury

২০২০-০৫-৩০ ১২:৩১:০৪

৫০% যাত্রী পরিবহণ কতটা কঠোর ভাবে মানা হবে তা আমার জানা নেই,৮০% ভাড়া বাড়ানোর কোন মানেই হয় না,সড়কে জিপির নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হোক,সামরিক বাহিনি সড়ক নিয়ন্রন করবে, আর না হলে ভাড়া না বারিয়ে বাসের সিট অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করা হোক- ড্রাইভার, হেল্পার, যাত্রীদের মাস্ক, সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্রন করা হোক, অহেতুক জনগণ এর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে রাঘব বোয়ালদের পেট ভড়িয়ে লাভ কি,আপনার আমার অর্জিত অর্থ তাদের পকেট ভারি করছে,আর আমাদের ষোল আনা ক্ষতি হচ্ছে

মোঃ গোলাম মোস্তফা

২০২০-০৫-৩০ ১১:০৮:১১

বাসের ভাড়া ৮০% বৃদ্ধির চেয়ে একজন যাত্রীর জন্য দুই টিকেট বাধ্যতামূলক করলে ভালো হতো। এতে করে লকডাউন উঠে গেলে পূর্বের ভাড়া বহাল হত। অন্যথায় লকডাউন উঠে গেলেও বাসের ভাড়া কমবে বলে মনে হয় না।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

করোনার টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট

সেবার নামে প্রতারণা রিজেন্টের

৭ জুলাই ২০২০

মানবপাচার

পিয়নের অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকা

৭ জুলাই ২০২০

 মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল এমপি’র অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ ...

২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের মৃত্যু শনাক্ত ৩২০১

৭ জুলাই ২০২০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩২০১ ...

ক রো না কা ল

ঘরে ঘরে টানাটানি

৬ জুলাই ২০২০

বিশ্বে ১ দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

৬ জুলাই ২০২০

মহামারি শুরুর পর থেকে এযাবৎকালের মধ্যে একদিন বা ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত