পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হেনে এগোচ্ছে আম্ফান

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ২০ মে ২০২০, বুধবার, ৫:৪২

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে দিঘা থেকে এই ঘূর্ণিঝড় ৯৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে কলকাতায় শুরু হয়েছে আম্ফানের দাপট। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তুমুল বৃষ্টি ও প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। ঝড়ো বাতাসের কারণে কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় গাছ উপড়ে পড়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দুপুর আড়াইটা থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আম্ফানের সামনের অংশ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবেশ করেছে।

দুপুর ৩টার দিকে সাগরদ্বীপ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে আম্ফান। দিঘা থেকে ছিল ৬৫ কিলোমিটার দূরে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের গতিমুখ বর্তমানে পুরোপুরি পশ্চিমবঙ্গের দীঘা ও সাগরদ্বীপ বরাবর।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বুলেটিনে জানিয়েছে, বর্তমানে আম্ফানের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার, যা ১৯০ পর্যন্ত বাড়ছে।

এদিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার পর এবার দেশের অভ্যন্তরেও মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে।

সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে- যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮৯ কিমি অথবা তারও অধিক বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ৪ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিমি বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নদীবন্দরের জন্য চার নম্বর মহাবিপদ সংকেতই হচ্ছে চূড়ান্ত সতকর্তা। আম্ফানের তীব্রতার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে কলকাতার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, ভারতীয় উপকূলের দিকে এই ঝড় অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে প্রবল ঝোড়ো বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিও শুরু হয়ে যায়।

আইএমডি ভুবনেশ্বরের আধিকারিক সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে, ভূখণ্ডে প্রবেশের প্রক্রিয়া দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়েছে এবং প্রায় চার ঘণ্টা চলবে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখ প্রাচীরের অংশটি পশ্চিমবঙ্গে মাটিতে প্রবেশ করছে।

জিনিউজ বলছে, কলকাতার রেড রোড, নিউ আলিপুর, খিদিরপুরে আম্ফানের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতার নিউটাউনে। তুমুল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলির বিভিন্ন জায়গায়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গণস্বাস্থ্যের কিটে পরীক্ষা

করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী