করোনা: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা তদন্তে প্রস্তাব পাস

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ১৯ মে ২০২০, মঙ্গলবার

করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা তদন্ত করার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক বৈঠকে। মঙ্গলবার বৈঠকের দ্বিতীয় দিন সকল সদস্য দেশের সম্মতিতে প্রস্তাবটি পাস হয়। তাতে করোনা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শতাধিক দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। করোনা মোকাবিলায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতার মধ্যে এ প্রস্তাব পাস হলো।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই দিনব্যাপি বার্ষিক বৈঠক শুরু হয়। করোনা সংকটের কারণে এবার ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। করোনা মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীনের পক্ষপাতিত্ব করছে সংস্থাটি। সাময়িকভাবে অর্থায়ন বন্ধ করেছে। চীনের সঙ্গেও তীব্র বৈরিতা চলছে দেশটির। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি, করোনা মোকাবিলায় তথ্য গোপন করেছে চীন।
প্রথম দিনের বৈঠক শেষে সোমবার রাতে ট্রাম্প টুইটারে লেখা এক চিঠিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম ঘেব্রিয়েসুসকে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম দেন। লিখেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে। ঘোষণা দিতে হবে যে, চীন করোনা নিয়ে মোটেও স্বচ্ছ ছিলো না। অন্যথায় স্থায়ীভাবে সংস্থাটিতে অর্থায়ন বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, এই মুহূর্তে ওই চিঠি নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই সংস্থাটির। পরবর্তীতে দিনশেষে ঘেব্রিয়েসুস এক বক্তব্যে বলেন, করোনা মোকাবিলায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়া অব্যাহত রাখবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে সরাসরি ট্রাম্পের চিঠির বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
মঙ্গলবার কোনো বিরোধীতা ছাড়াই পাস হয় ইইউ’র প্রস্তাবটি। এর প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টেড্রস জানিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার পর্যালোচনা যত দ্রুত সম্ভব শুরু হবে।
সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, প্রস্তাবটির অন্যতম শিকার হবে চীন। দেশটির বিরুদ্ধে করোনা মোকাবিলায় অবহেলার অভিযোগ সম্প্রতি বেড়েছে। তা সত্ত্বেও চীন এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এটা শুরু হওয়া উচিৎ। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের হুমকির পর সংস্থাটিকে ২০০ কোটি ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। দুই বছর ধরে এ অনুদান দেয়া হবে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত