তার কর্মযজ্ঞ দেখছি,বিস্ময়ের সকল সীমা অতিক্রম করছে

গোলাম মোর্তোজা

ফেসবুক ডায়েরি ১২ এপ্রিল ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩৯

• ২৫ দিনে ৩০১ শয্যার করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল বানানোর উদ্যোগ নিলেন।অর্ধেক কাজ শেষ হলো।মিছিল-ভাঙ্গচুর করে হাসপাতালের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।
• হতাশ না হয়ে কিছু টাকা জোগাড় করে ১০ হাজার গরীব পরিবারকে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিলেন।পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়াচ্ছেন।কোনো ঘোষণা-প্রচার প্রচারণা নেই।শুধু বললেন,আরও কিছু টাকা পেলে আরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে পারতাম। আর বললেন,প্রবাসীদের টাকায় দেশ চলে।তারা এখন খুব কষ্টে আছেন।সরকারের উচিত তাদের পাঠানো থেকে এক বিলিয়ন ডলার এখন বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে তাদের সহায়তা করা।
• করোনা পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করলেন তার গড়া প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা।এই প্রতিকূল সময়েও ব্রিটেন থেকে কাঁচামাল আনার ব্যবস্থা করলেন।পৌঁছতে দেরি হওয়ায় চীন থেকে কাঁচামাল নিয়ে এলেন।কিট উৎপাদন শুরু হলো।ভোল্টেজ ওঠা-নামাজনিত বৈদ্যুতিক গোলযোগে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।অভিযোগ না করেই বললেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পেলে হয়ত উৎপাদন বন্ধ করতে হতো না।আমাদের জেনারেটর স্টার্ট হতে ৩০ সেকেন্ডের মত সময় নেয়।ফলে প্ল্যান্ট চালু রাখা গেল না। টেলিফোনে একটু বিমর্ষ মনে হলো।
• পরের দিন খুশিতে টগবগ করতে করতে জানালেন,ব্রিটেন থেকে কাঁচামাল এসে পৌঁছেছে।বৈদ্যুতিক গোলযোগের সমস্যাও কাটিয়ে উঠেছি।দুই তিন দিনের মধ্যে কিট উৎপাদন শুরু করে সরকারকে দিতে পারব পরীক্ষার জন্যে।
সরকারের থেকে পাঁচজন করোনা রোগীর রক্ত নিয়েও পরীক্ষা করে দেখিছি,আমাদের কিট শতভাগ সঠিক রেজাল্ট দিয়েছে।আমরা আগেও নিশ্চিত ছিলাম।এখন আরও নিশ্চিত।
• বিদ্যুৎ বিভাগ বা সরকারের কেউ খবর নেয়নি,কী সমস্যা বা কেন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল!
• দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও আধুনিক কিডনি ডায়াল্সিস সেন্টার গড়ে তুলেছেন গরীব মানুষের জন্যে।
• ১৯৭১ সালে ভারতের মাটিতে গড়ে তুলেছিলেন ৪৮০ শয্যার বাঁশ-ছনের হাসপাতাল।যেখানে যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশনও হতো।সেই হাসপাতালটি স্বাধীন দেশে নাম হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।নামটি বঙ্গবন্ধুর দেওয়া।
• এখন তার দু’টি কিডনি প্রায় অকেজো।সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস করতে হয়।একবার ডায়ালিসিসে সময় লাগে ৪ ঘন্টা।বয়স ও কিডনি সমস্যা নিয়ে করোনা ঝুঁকির শীর্ষে অবস্থান করছেন ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
১৯৭৪ সাল।বিচিত্রা’র প্রচ্ছদে ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী
(লেখাটি সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

কাজী আহমেদ

২০২০-০৪-১৫ ০৩:১৮:৪৯

যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মূৰ্তিযোদ্ধাদের জন্য হাসপাতাল করেছিলেন, যার গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম দিয়েছিলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু. তিনিই আজ আনুগত্য না দেখানোয় বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের দ্বারাই অবহেলিত, কখনও নিগৃহীত.

delwar hossain

২০২০-০৪-১৩ ০৭:৩৬:৫০

Salute to Dr. Zafarullh. আমরা আপনাকে ভালোবাসি।

Akbar Ali

২০২০-০৪-১৩ ০৬:৫৭:০০

একজন অনুকরণীয় বিরল আইকন, ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, নির্মোহ যোদ্ধা। লুটপাটের দেশে জন্মেও তিনি শুধু অকাতরে বিলিয়েই গেছেন। গোলাম মোর্তোজা’র সুন্দর মূল্যায়ণের জন্য তাঁকেও ধন্যবাদ। মহোদয়ের অবশিষ্ট জীবনের সুস্থ্যতার জন্য প্রার্থনা করি।

Sohel

২০২০-০৪-১২ ১৬:৪৩:১২

বাংলার ফিনিক্স (Phoenix) কে বারবার নিশ্চিহ্ন করতে চাইলেও তা করা যায়না

নায্রুল

২০২০-০৪-১৩ ০০:২৪:৫৪

জাতির গর্ভ .........।। আল্লাহ্‌ দীর্ঘ জীবী করুন , আমীন !

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৪-১২ ২২:১৫:৫৫

কবি জীবনানন্দ দাসের জননী বাংলার প্রয়াত মহিলা কবি শ্রীমতি কুসুম কুমারী দাস তাঁর 'আর্দশ ছেলে' কবিতায় প্রথম দু' চরনে লিখেছিলেন' আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' প্রয়াত কবির অভিপ্রায় ও আশা সত্যিই জনাব জাফরউল্লাহ চৌধুরী পূরন করতে পেরেছেন।তিনিই কবির কল্পিত সেই আর্দশ ছেলে। এ মহান মুক্তিযোদ্ধা ও কর্মবীরের সুস্বাস্হ্য এবং দীর্ঘায়ূ কামনা করি।

tanbir

২০২০-০৪-১২ ০৮:০৭:১৬

dr.jaffrullah chowdhury sir Bangladesh ak Jon real legend,ai desh ar manusher Jonno nir Sarto bave ja thine kore Chen ta neta-netri Rao kore nai.allah ai legend lok take dirgo nek hayat din.

আবুল কাসেম

২০২০-০৪-১২ ০৮:০১:২১

তাঁর কীর্তিময় কর্ম জীবন পাঠ্যবইয়ে অন্তরভুক্ত করা হোক।

মাসুম

২০২০-০৪-১২ ০৭:৪৯:৩৩

ক্ষণজন্মা মানুষ । আমার দেখা অসাধারণ মানুষ। একবার কাছে যেতে ইচ্ছে করে। স্যার এর সাথে সামনাসামনি কথা বলতে ইচ্ছে করে।

আনিস উল হক

২০২০-০৪-১২ ০৭:৪৪:৫৮

বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শে দীক্ষিত এই মহান বাঙ্গালী বীর এর জীবনী তাঁর জীবদ্দশাতেই আমাদের স্কুল পাঠ‍্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ বলে মনে করি।

Advocate Abu Taher C

২০২০-০৪-১২ ০৭:৪০:০৫

তাদের মত মানুষ দরকার বাংলাদেশে।

Shahid Khandker

২০২০-০৪-১২ ২০:৩৮:০৩

এঁদের কেই বলে ক্ষণ জন্মা পুরুষ । অন্তজীন নিবেদিত প্রানের একজন বিরল মানুষ । কিন্তু জাতী কি তাঁকে মুল্যায়ন করে?

আবুল কাসেম

২০২০-০৪-১২ ০৭:৩৩:৪৭

সফল হোক মানবতার সেবকের মানব সেবার উদ্যোগ।

আদিল

২০২০-০৪-১২ ০৭:৩৩:২০

প্রকৃত বীর ! দেশ প্রেমিক এর মুক্তিযোদ্ধা কে লক্ষ্য কোটি সালাম ও শ্রদ্ধা ! আমাদের দেশে ঘরে ঘরে জাফরুল্লাহ চৌধুরী জন্ম নিক । স্কুলের পাঠ্যসূচিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উপর লেখা থাকা উচিত , যেন শিশুরা জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে জেনে অনুপ্রাণিত করতে পারে । এমন অসাধারণ কর্মবীর ত্যাগী দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য আবারও শ্রদ্ধা । জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘজীবী হোন ।

আপনার মতামত দিন

ফেসবুক ডায়েরি অন্যান্য খবর



ফেসবুক ডায়েরি সর্বাধিক পঠিত