করোনা আতঙ্কে রোগীশূন্য কমলগঞ্জ হাসপাতাল

সাজিদুর রহমান সাজু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে

বাংলারজমিন ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার

রোগ-বালাই হলে মানুষ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। প্রাণ রক্ষাকারী সেই প্রতিষ্ঠান রোগীশূন্য। রহস্যময় প্রাণঘাতী করোনার আতঙ্কে কমলগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে বাড়ি ছুটে গেছেন রোগীরা। অথচ দুই দিন আগেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুসহ অনেক রোগী ছিল এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রোগী শূন্য হয়ে পড়ে কমলগঞ্জের এ হাসপাতালটি। বিকালে সাড়ে ৫টার পরে মাইসা আক্তার নামের অসুস্থ শিশু রোগীকে নিয়ে শিশুটির মা শেফালী ফিরে গেছেন বাড়ি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির মা বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ে স্বজন কেউই তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেননি। রোগী শূন্য হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন।
তাই শিশুটি সুস্থ্য হওয়ার আগেই বুকে আগলে হাসপাতাল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ওই ওয়ার্ডে পৌঁছে তাদের ছবি তুলতে চাইলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শিশুটির মা। মায়ের কান্নায় ৭ মাসের অবুঝ শিশুটিও কান্না শুরু করলে ছবি তুলার খেয় হারিয়ে ফেলি।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গত এক সাপ্তাহ ধরে হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোরে শত শত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন চিকিৎসকরা। অথচ ভাইরাস থেকে রক্ষার তাদের নেই কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই)। ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে সরকারিভাবে তাদের দেয়া হয়নি বিশেষ কোনো পোশাক। আদৌ কি সরকারি ভাবে তাদের কোনো বিশেষ পোশাক দেয়া হবে তাও কেউ বলতে পারছেন না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২০টি আইসোলেশন সিট তৈরী রাখলেও, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য এখনও পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য কমপেক্সে পৌঁছেনি কিট। হাসপাতালের আউটডোর এবং ইনডোরে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার কোনো পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে চিকিৎসক ও নার্সরা স্ব-স্ব উদ্যোগে রিংকোট ক্রয় করে তা পরিধান করে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, গত দুইদিন মানুষ আতঙ্কে হাসপাতালের আউটডোরে ভিড় করলেও ভয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। রোববার ১২ জন ও সোমবার ৬ জন রোগী ভর্তি ছিল। আজ বিকালে একমাত্র শিশু রোগী হাসপাতাল ছাড়ায় হাসপাতালের সব ওয়ার্ড গুলোই খালি হয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, আজ-কালের মধ্যে চিকিৎসকদের করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার সরঞ্জাম হাসপাতালে পৌঁছে যাবে।



আপনার মতামত দিন



বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

মানবজমিনের শেরপুর প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল

৩১ মার্চ ২০২০

দৈনিক মানবজমিনের বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের মা মীরজান ...

নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণ শিশু সন্তানের পর চলে গেলেন মা

৩১ মার্চ ২০২০

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল এলাকায় সেপটিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে ৮ মাসের শিশু সন্তান আহমেদ হোসেন ইয়াসিন নিহত ...

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে একহাজার কিট হস্তান্তর শিক্ষা উপমন্ত্রী’র

৩১ মার্চ ২০২০

নয়শ সরকারী ও একশত ব্যক্তিগত করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ...

দিরাইয়ের পল্লীতে দু'পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

৩১ মার্চ ২০২০

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ধান শুকানোর খলা (মাঠ) তৈরীকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত