ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় বার্নি স্যান্ডার্স

দিল্লি সহিংসতায় মার্কিন রাজনীতিকদের গভীর উদ্বেগ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৪

দিল্লির সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, ভারত সফরকালে দিল্লির সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন তা হলো ‘ফেইলর অব লিডারশিপ’ বা নেতৃত্বের ব্যর্থতা। তিনি মানবাধিকারের ইস্যুতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই বলেছে, রাজধানী দিল্লির সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এর একদিন পরেই ভারমন্টের সিনেটর, এবার ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রন্টরানার বার্নি স্যান্ডার্স ওই মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় এখানে চলমান সহিংসতা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেছেন, যতটা শুনেছি তাতে এটা ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণ। কিন্তু এ নিয়ে আমি তার (মোদি) সঙ্গে আলোচনা করি নি।
এটা ভারতের বিষয়।

তার এমন মন্তব্যের পর বুধবার বার্নি স্যান্ডার্স টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, কমপক্ষে ২০ কোটি মুসলিমের বসবাস ভারতে। তারা একে তাদের দেশ মনে করেন। মুসলিম বিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গায় সেখানে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটা ভারতের বিষয়’। এর সমালোচা করে স্যান্ডার্স আরো লিখেছেন, মানবাধিকারের ইস্যুতে এটা হলো নেতৃত্বের ব্যর্থতা।

এর আগে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন একই দলের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থীদের ছাড়াও অন্যান্য প্রভাবশালী সিনেটররা বুধবার দিল্লির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এবং রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জন করনিন একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন এ নিয়ে। এতে তারা বলেছেন, নয়া দিল্লির সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য এই উদ্বেগের বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনাকে অব্যাহতভাবে আমরা সমর্থন করি। উল্লেখ্য, ওয়ার্নার এবং করনিন হলেন সিনেট ইন্ডিয়া ককাসের কো-চেয়ার। এটা হলো মার্কিন সিনেটে সবচেয়ে বড় ককাস।

অন্যদিকে কংগ্রেসম্যান জেমি রাসকিন বলেছেন, তিনি এই সহিংসতায় ভীতসন্ত্রস্ত। ধর্মীয় হিংসা ও গোঁড়ামি এতে উস্কানি দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, উদার গণতন্ত্রে অবশ্যই ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বহুত্ববাদকে সুরক্ষা দিতে হবে। পরিহার করতে হবে বৈষম্য ও ধর্মান্ধতা। শক্তিশালী কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের প্রধান রিচার্ড এন হ্যাস বলেছেন, ভারতের তুলনামুলক সফলতার কারণ হলো, সেখানে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমরা নিজেদেরকে ভারতীয় বলে মনে করেন। তিনি আরো বলেন, কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ সরকারের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

এর আগে ইউএস কংগ্রেস অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। দিল্লির সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএস কংগ্রেস অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম। মুসলিমদের ওপর হামলার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তারা বলেছে, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস যা-ই হোক না কেন, তাকে নিরাপত্তা দেয়া উচিত ভারত সরকারের।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০২-২৭ ১২:০১:২১

আমাদের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বোধ করি "তাদের আভ্যন্তরীন বিষয়ের" মোড়কে ঢাকা পড়ে গেছে।

আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের আকুতি

গণপরিবহনে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ করবেন না  

৬ এপ্রিল ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত