করোনা ছড়াচ্ছে দেশে দেশে

মানবজমিন ডেস্ক

প্রথম পাতা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৮

হঠাৎ করেই চীনের বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাস। গত কয়েক দিনে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং ইরানে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এ ভাইরাসের। চীনের বাইরে এখন পর্যন্ত মোট ১২০০ জনেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছে করোনাতে। ফলে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দ্রুতই হয়তো বিশ্বের সর্বপ্রান্তে এর ধ্বংসাত্মক ও করুণ পরিণতি দেখা যাবে।
সংক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে করোনা। ইরানের অবস্থা ইতিমধ্যে বেশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইরানের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
সর্বশেষ, কুয়েত ও বাহরাইনে করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে কুয়েতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন আর বাহরাইনে আক্রান্ত হয়েছেন একজন। তবে ইতিমধ্যে দেশ দুটিতে আরো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানেও করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে দেশটিতে কতজন আক্রান্ত হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
আশঙ্কা করা হচ্ছে চীনের পর মধ্যপ্রাচ্যেই সবথেকে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে করোনা ভাইরাস। ইরানে উদ্বেগজনকভাবে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টে কোম নগরীর একজন এমপি বলেছেন, ওই শহরে করোনায় মারা গেছেন ৮০ জন। তবে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হচ্ছে এখন পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছে দেশটিতে। ইরান, কুয়েত, বাহরাইনে করোনা সংক্রমণের ফলে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও আর্মেনিয়া।
চীন বিপ্লবের পর এবারই প্রথমবারের মতো চীনে পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই অধিবেশন বসার কথা মার্চে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অধিবেশনের পরবর্তী একটি তারিখ নির্ধারণ করবে স্ট্যান্ডিং কমিটি।
ইরানের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এশিয়ার শেয়ারবাজার এবং ওয়াল স্ট্রিট স্টকের দ্রুত পতন হয়েছে গতকাল। তবে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে সাত বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ এখন। বুধবার প্রথম আক্রান্তের কথা জানায় ইরান। এরপরই দ্রুত সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র শহর কোম-এ। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ ও অভিবাসন বিষয়ক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক ও আফগানিস্তান।
এদিকে ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভার ভেরান বলেছেন, কীভাবে ইউরোপে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সর্বোত্তমভাবে লড়াই করা যায় তার উপায় খুঁজে পেতে শিগগিরই তিনি ইউরোপিয়ান স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইতালিতে তৃতীয় একজন এই ভাইরাসে মারা যাওয়ার পর তিনি এমন কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ফ্রান্সে কোনো মহামারি নেই। কিন্তু সমস্যাসংকুল অবস্থা বিরাজ করছে আমাদের দরজায়, ইতালিতে। এ বিষয়ে আমরা গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শহরগুলো অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইতালি। জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে ভেনিস কার্নিভাল। এর উদ্দেশ্য ইউরোপে করোনার বিস্তার রোধ করা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরএআই’কে প্রধানমন্ত্রী গুসেপে কন্টে বলেছেন, এই বিস্ফোরক ঘটনায় আমি বিস্মিত। সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন সবাইকে। বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় সবই আমরা করবো। দেশটির লোম্বার্ডি এবং ভেনেটো অঞ্চলে কমপক্ষে এক ডজন শহরে সব মিলিয়ে মানুষ আছেন ৫০ হাজার। তাদেরকে কার্যত কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। ভেনেতো অঞ্চলের গভর্নর লুকা জাইয়া বলেছেন, যদি আমরা ধৈর্য না ধরি তাহলে এর অর্থ হবে আমাদের ধারণার চেয়েও ভয়াবহ।
ওদিকে, দু’জন যাত্রীর দেহে জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়ার পর ইতালি থেকে আলপস-এর ওপর দিয়ে যাওয়া ট্রেন সার্ভিস প্রায় চার ঘণ্টা স্থগিত করে রাখে অস্ট্রিয়া। ওই ট্রেনটি ইতালির ভেনিস থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল জার্মানির মিউনিখে। এর মধ্যে দু’জন যাত্রীকে পরীক্ষা করে নেগেটিভ পাওয়ার পর তা চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার বলেছেন, ইতালির সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা নিয়ে গতকাল করোনা ভাইরাস বিষয়ক টাস্কফোর্স বৈঠকে বসবে।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিশনার পাওলো জেনিলোনি। তিনি বলেছেন, ইতালি কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তার প্রতি আস্থা আছে ব্রাসেলসের। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতে আরো ১৬১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গতকাল রিপোর্ট করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সেখানে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৬৩। সেখানে এ ভাইরাসে সপ্তম একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে রোববার থেকে সেখানে সংক্রমণ নিয়ে লাল সতর্কতা বা রেড এলার্ট জারি করেছে সিউল। এর অধীনে স্কুল-কলেজ অস্থায়ী ভিত্তিতে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জনসাধারণকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা থেকে জোর করে বিরত রাখা হয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস গেব্রেইসাস করোনা নিয়ে সবাইকে সাবধান হতে বলেছেন। তার মতে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ থামানোর সুযোগ দিনে দিনে কমছে। বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার অধ্যাপক পল হান্টারও একইরকম আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনের বাইরে অন্য দেশেও যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। অধ্যাপক পল হান্টার বলেন, যে সময়ের পর একটি বিশ্ব-মহামারি আর ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে মনে করা হয় গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সময় আরো কাছে চলে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান এবং ইতালিতে করোনা ভাইরাসের যে সার্বিক অবস্থা, তাকে একটি বিশ্ব-মহামারির প্রাথমিক ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘লকডাউন’

২৭ মার্চ ২০২০

ছুটির নোটিশ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত