ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ছিল নিয়ন্ত্রিত: সুজনের পর্যবেক্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২০

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন। তবে অতীতের তুলনায় নিয়ন্ত্রণের ধরন ছিল কিছুটা ভিন্ন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই ত্রুটিপূর্ণ  নির্বাচনগুলো যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে। গতকাল সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। এতে একটি অনলাইন জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, জরিপে অংশ নেয়া ৯৪ শতাংশের মতে সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। লিখিত প্রতিবেদন পাঠ করেন, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েতে ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।
 
লিখিত বক্তব্যে দিলীপ কুমার সরকার  বলেন,  ঢাকা উত্তরে সর্বমোট ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৪২ জন, বিএনপি সমর্থিত ২ জন, জাতীয় পার্টি সমর্থিত ১ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী- ৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৪ জন বিজয়ী হন।  ঢাকা দক্ষিণে সর্বমোট ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৫৬ জন, বিএনপি সমর্থিত ৭ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী- ৫ জন এবং স্বতন্ত্র ৭ জন বিজয়ী হন। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে একজন নারী বিজয়ী হন। ঢাকা উত্তরে সর্বমোট ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৩ জন, বিএনপি সমর্থিত ২ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণে সর্বমোট ২৫টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৯ জন, বিএনপি সমর্থিত ৪ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা উত্তরের ৫৪ জন বিজয়ী সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জনের  শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও তার নিচে।  এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীর সংখ্যা মাত্র ১৫ জন, এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি অতিক্রম করতে পারেননি ২২ জন। ঢাকা দক্ষিণের ৭৫ জন বিজয়ী সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৬ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও তার নিচে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীর সংখ্যা মাত্র ১৫ জন এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি অতিক্রম করতে পারেননি ৩৬ জন। সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুবই অল্প ভোট পড়েছে। উত্তর সিটিতে গড় ভোট পড়েছে ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং দক্ষিণে পড়েছে গড়ে ২৯ দশমিক সাত শতাংশ। প্রতিবেদনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির আরও বেশকিছু কারণ  তুলে ধরা হয় । তাতে বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর ভোটারদের আস্থা না থাকা (অর্থাৎ ভোট সুষ্ঠু হবে না এ ধরনের পূর্ব ধারণা)। ইভিএম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ও ইভিএমের ওপর আস্থা না থাকা। দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে শঙ্কিত হয়ে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ হওয়া। পাড়া-মহল্লা ও ভোটকেন্দ্র পাহারা এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকদের জটলা ও মহড়া। আঙুলের ছাপ না মেলার কারণে কিছু কিছু ভোটারের ভোট না দিয়েই ফিরে যাওয়া। একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়া। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে ‘ ভোটকেন্দ্রে না গেলেও তাদের প্রার্থী জয়ী হবেই’ এমন ধারণা বদ্ধমূল থাকা। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা ও ‘তাদের প্রার্থী জিততে পারবে না’ এমন ধারণা সৃষ্টি হওয়া। তাছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা এবং একসঙ্গে দুইদিন ছুটি থাকাও ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ। সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকার  দুই সিটি নির্বাচন কেমন হলো, তা জানতে নির্বাচনের পর  সুজনের ফেসবুক পেজে আমরা একটি অনলাইন ভোটের (পোল) ব্যবস্থা করি। আমাদের প্রশ্ন ছিল, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে আপনি মনে করেন কি না? এতে চার হাজার ৩০০ জন মানুষ অংশ নেন। যারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাদের ৯৪ শতাংশ বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। যদিও অনলাইন ভোট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়, এটি জনসাধারণের ধারণার অনেকটা ইঙ্গিত বহন করে। সুজন বলছে, একটি প্রচার আছে যে, নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা মনে করি, এই শান্তি অশান্তির চেয়েও ভয়াবহ। কেননা, ভয়ের সংস্কৃতির কারণে কেউ যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস না পায়, তবে সেই অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া দুষ্কর। ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার পরও যদি সেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়, তবে বুঝতে হবে প্রতিপক্ষ এখানে চরম দুর্বল।
এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দুইটা বিষয় বলতে চাই। একটা হলো, সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে ব্যর্থ সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আরেকটা বিষয় হলো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছারও অভাব রয়েছে। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক কমেছে যা আমাদের জন্য একটা অশনি সংকেত বলে আমি মনে করি।
ড.বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন ছিলো নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলোর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন তাহলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। আমরা জাতীয় নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতিকে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে কারচুপির তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলাম, আবারও সেই দাবি জানাচ্ছি।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভোটের মাধ্যমে জনগণকে অপমান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরাজয় মেনে নেয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে পরাজিতও হতে হয় এই বোধ তৈরি না হলে বর্তমান পরিস্থিাতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত