জলবায়ু ফান্ডের টাকায় ড্রেনে আরসিসি পিলার-স্লাব

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে

শেষের পাতা ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৪

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা সদরে জলবায়ু ফান্ডের টাকায় ড্রেনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে আরসিসি পিলার ও স্লাব। লাগানো হয়েছে ২০টি সোলার লাইট। দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এই প্রকল্প।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও আরসিসি পিলার ও স্লাবের মাধ্যমে প্রাইমারি ড্রেন নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা আরো বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
হাটহাজারী পৌর সদর এলাকার বাসিন্দা সেকান্দর সাঈম বলেন, আরসিসি পিলার ও স্লাব দিয়ে ড্রেন বানাতে কখনো দেখিনি। বরং আরসিসি পিলার ও স্লাবের কারণে বর্ষাকালে ড্রেন পানির চাপ নিতে না পেরে উল্টো কাচারি সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সাধারণত জলবায়ু ফান্ডের টাকায় মিটিগেশন এবং এডাপটেশন করা হয়। ড্রেনে আরসিসি স্লাব নিয়ে কীভাবে জলবায়ু প্রতিরোধ হবে জানি না। অপাত্রে ঘি ডালার মতো এ প্রকল্প।


ভুক্তভোগীরা জানান, হাটহাজারী মডেল থানার দক্ষিণ দিকে মরা পাহাড়ি ছড়া ছিল। হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়কের এ ছড়ার উপর রয়েছে একটি কালভার্ট। কিন্তু কালভার্টের পশ্চিম পাশে ছড়ার অস্তিত্ব বোঝা গেলেও পূর্বদিকে কোনো ছড়া নেই। প্রাকৃতিক এ ছড়াকে আরসিসি পিলার ও স্লাব দিয়ে আবৃত করা হয়েছে হাটহাজারী কাচারি সড়কের ব্রিজ পর্যন্ত। স্লাবের দুই পাশে রাখা হয়েছে চলাচলের পথও।
প্রকল্পের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে নেয়া এ প্রকল্পের আওতায় ৩৫০ মিটার স্লাবসহ আরসিসি প্রাইমারি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। এ জন্য ব্যয় হয় দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ২০টি সোলার বাতি খুঁটিসহ স্থাপন করা হয়।

হাটহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আহমদ খান বলেন, জলবায়ু ফান্ডের টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি প্রত্যক্ষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনরোধে সহায়ক না হলেও পরোক্ষভাবে কাজ করছে। এ ছড়ার মধ্যে আরসিসি পিলার ও স্লাব বসানোর কারণে এ উপজেলা সদরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। এ খালের ৩৫০ মিটার আরসিসি পিলার ও স্লাব বসানো হলেও বাকি অংশেও আরসিসি পিলার ও স্লাব বসানোর জন্য আরো একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, ট্রাস্ট ফান্ডের অনেকগুলো প্রকল্প বিভিন্ন পৌরসভায় দেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য মূলত এ ধরনের প্রকল্প দেয়া হয়। ট্রাস্ট থেকেও বিষয়টি মনিটরিং করা হয়। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা নজরদারিতে আনা হয়। হাটহাজারীর প্রকল্পটি জনদুর্ভোগ লাঘব না করলে পুনরায় প্রকল্প দেয়ার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডকে জানানো হবে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আবদুর রহমান রানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন, সংশোধন, বাস্তবায়ন, অর্থ অবমুক্তি এবং ব্যবহার নীতিমালায় বলা হয়েছে-জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি, কার্যক্রম থাকতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাবে প্রকল্প প্রস্তাবে তা উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রামে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যচ্ছে না। এর আগে চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে চার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক, মাঠ সংস্কার, রিটেইনিং ওয়াল এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

ফের দরপতনের কবলে শেয়ারবাজার

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

এনআরবি’র সেমিনার

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রণক্ষেত্র দিল্লি নিহত বেড়ে ১০

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

টিআইবি’র গবেষণা

দুদক ক্ষমতাসীনদের প্রতি নমনীয় বিরোধীদের হয়রানি

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



মাসে তোলেন কোটি টাকার চাঁদা

কক্সবাজারের কিং রাসেল

বন্ধ রেখেছে চায়না ইস্টার্ন

করোনা আতঙ্কে চীনের সঙ্গে ফ্লাইট কমছে