অবৈধ বালু উত্তোলন

ফেনী নদীর ভাঙনে ছোট হচ্ছে মীরসরাইয়ের জনবসতি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ও মীরসরাই প্রতিনিধি

এক্সক্লুসিভ ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৯

মীরসরাই উপজেলার ফেনী নদী অংশে ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন চলছে। উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়ন ও ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল। দীর্ঘদিন বালু উত্তোলনে ফেনী নদীর ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে মীরসরাইয়ের জনবসতি। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিকে অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বালু তোলার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ইতিমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়নের ফেনী নদীর কোল ঘেঁষে পশ্চিম জোয়ার, কাটাগাং এবং ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজম নগর এলাকায় হিঙ্গুলী খালের মুখে ফেনী নদীর মোহনা ট্রলারে কাটা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা কিছু বলার সাহস পায় না।
বৈধ ইজারাদার এর মধ্যে নাঙ্গলমোড়া, কাটাপশ্চিম জোয়ার, হিঙ্গুলী, পশ্চিম জোয়ার, মোল্লাঘাটা থাকলেও বেশিরভাগ কাটা ডেজারের মালিক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

২০১০ সালের বালুমহল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি- বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। স্থানীয়রা জানান, ফেনী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলায় উন্নতমানের বালু সরবরাহের বিশাল খনি হিসেবে পরিচিত ফেনী নদীর বালু। ইজারা ছাড়াই ফেনী নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন নদীতে অসংখ্য ড্রেজার মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার ফুট সরকারি বালু লুট করে বিক্রি করছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। ফেনী নদীর দুইপাড়ে অবস্থিত বালুমহালগুলো ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই বালুমহাল বালু তোলার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া আছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ফেনী নদীর লাঙ্গলমোড়া মৌজা ইজারাদার মেসার্স সিদ্দিকী এন্টারপ্রাইজ ও ছাগলনাইয়া অংশে রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েলের রৌশন এন্টারপ্রাইজ ও নওরিন এন্টারপ্রাইজ সহ চারটি বালুমহালের বৈধ ইজারা রয়েছে। বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি সোনা মিয়া বলেন, মীরসরাই ফেনী নদীর অংশে ৪টি বৈধ ইজারাদার আছে। সরকারি নিয়ম ভেঙে কেউ যদি বালু উত্তোলন করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। মধ্যম আজম নগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ হোসেন বলেন, ছোট বেলা এখানে সরু খাল ছিলো সেটা দিয়ে আমরা সাঁতার কাটতাম। কিন্তু ফেনী নদী মোহনা ৮০-৯০ ফুট নদীর গভীরে বালু উত্তোলনের কারণে ওই সরু খালটি পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

১নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, আমরা সরকারী নিয়ম-কানুন মেনে নদীর মাঝ খান থেকে বালু উত্তোলন করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকি। কেউ যদি সে নির্দেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন করে, সে ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন এর মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, ইতিমধ্যে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কয়েকজনকে জরিমানা করেছি। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

আপনার মতামত দিন



এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

ক্যাপশন নিউজ

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিবিসি’র রিপোর্ট

মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে দিল্লিতে

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সহিংসতায় টগবগ করে ফুটছে ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকা। এরই মধ্যে সেখানে কমপক্ষে ২০ জন ...

সিলেটে ইন্টারনেট ক্যাবল লাইন অপসারণ না করার আহ্বান

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সিলেট নগরের ইন্টারনেট ক্যাবল লাইন অপসারণ না করার আহ্বান জানিয়েছে ...

দিল্লিতে সেনা মোতায়েন দাবি কেজরিওয়ালের

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

 দিল্লি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেছেন, পুলিশ সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে ...

২৩ বছর পরেও...

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত