লালদিঘি গণহত্যার রায়

পুলিশের সাবেক ৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

প্রথম পাতা ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৩

১৯৮৮ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ২৪ জন নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার বিকাল ৩টায় বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সবু প্রসাদ বিশ্বাস, রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সবু প্রসাদ বিশ্বাস জানান, রায়ে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আব্দুলাহ এবং মমতাজ উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও দন্ডবিধির ৩২৬ ধারায় প্রত্যেকের আরও দশ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সবু প্রসাদ বিশ্বাস জানান, ৩২ বছর আগে ১৯৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি নগরীর লালদিঘী ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ২৪ জন নিহত ও দু’শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন কুমার বিশ্বাস, স্বপন চৌধুরী, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ, শাহাদাত, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া ও মো. কাসেম।
এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম গণহত্যা হিসেবে পরিচিতি পায়। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ই মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়। কিন্তু মামলাটি তেমন সক্রিয় ছিল না।

তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ই জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩রা নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলার শুরু থেকে গোপাল চন্দ্র মন্ডল পলাতক থাকে। রকিবুল হুদা, বশির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম মারা যান। বাকি চারজন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। আদালতে দুই দফায় এ মামলার চার্জ গঠন করা হয়। প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ৫ই আগস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় ২০০০ সালের ৯ই মে ৮ আসামির বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/২০১/ ১০৯/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৭ সালের ২২রা অক্টোবর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার মোট ১৬৮ জন স্বাক্ষীর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগ নেতা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন সাক্ষ্য দেন। ১৪ই জানুয়ারি মোট ৫৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সোমবার আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনে অসম্মতি জানালে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে রায় ঘোষণা করেন।
প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা
১৯৮৮ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ২৪ জন নিহতের ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকাল ৩টায় এ রায় দেয়া হয়। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মামলার অন্যতম সাক্ষী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এম এ সালাম এবং সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, সেদিন আমরা লালদীঘির ময়দানে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপরও আমরা সমাবেশ করেতে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। নেত্রীকে নিয়ে সমাবেশ স্থলে অগ্রসর হলে আমাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। অল্পের জন্য নেত্রী রক্ষা পান। এই সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। আমার পায়ে গুলি লাগে। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি।
তিনি বলেন, আজ মামলার রায় হয়েছে। রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন একটায় দাবি রায়টি যাতে দ্রুত কার্যকর করা হয়।
একই কথা বলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এম এ সালাম। তিনি বলেন, এক সময় রায় নিয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এ সরকারের আমলেই আজ মামলার রায় হয়েছে। ওইদিন আমরাও ওই মিছিলে ছিলাম। হয়তো আমিও সেদিন মারা যেতে পারতাম। ঘটনায় যারা মারা গেছেন তাদের পরিবার মামলার রায়ে নিশ্চয় খুশি হবে। অবিলম্বে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা যেন আর না ঘটে এটি একটি সতর্কবার্তা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি নগরের লালদীঘি মাঠে সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ২৪ জন মারা যান। আহত হন দুশতাধিক মানুষ। নিহতরা হলেন, মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত।
এ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী দেন আওয়ামী লীগ নেতা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ ৫৩ জন।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘অনেক বড় বড় স্যারও আসতেন’

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভুতুড়ে দিল্লিতে এখনো আতঙ্ক

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফের বাড়লো বিদ্যুতের দাম

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাল বিএনপি’র বিক্ষোভ

এবারো জামিন মেলেনি খালেদার

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত