দুই যুগ পর দেশে ফেরা, মায়ের কাছে যাওয়া হলো না

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রথম পাতা ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪০

দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষা। দেশে ফিরে মাকে দেখবেন। জড়িয়ে ধরবেন। আরো কত স্বপ্ন ছিল তার মনে। সে অনুযায়ী দেশেও আসেন আমেরিকা প্রবাসী রুহুল আমিন। বিমানবন্দরে বাবা ও ভাইরা তাকে স্বাগত জানায়। ২৪ বছর পর বাবা ও ভাইদের দেখে জড়িয়ে ধরেন। আনন্দের কান্না বয়ে যায় সবার চোখে।
কতক্ষণে মাকে দেখবেন? সে আকাঙ্ক্ষায় ছিল রুহুল। বিমানবন্দর থেকে একটি মাইক্রোবাসে রওয়ানা দেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। সঙ্গে বাবা ও ভাইয়েরা। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খশির নামনগর গ্রামের আলিম উদ্দিনের পুত্র রুহুল আমিন । কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর জন্মভূমি বাংলাদেশে এলে পৌঁছালেও জন্মদাত্রী মাকে আর দেখা হয়নি। এর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তার প্রাণ। এ খবরে গোটা বিয়ানীবাজারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সড়ক দূর্ঘটনায় রুহুলের পিতা, দুই ভাই, গাড়ির চালক ও এক মহিলা গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী জানান, পরিবারের ৫ ভাইবোনের মধ্যে রুহুল ছিলেন   সবার বড়। খায়রুল আমিন নামের এক ভাই ব্রাজিল হয়ে দু’বছর আগে আমেরিকা যান। ছোট ভাই নুরুল আমিন ও ফখরুল আমিন এবং ছোট বোন লেখাপড়া করছে। ১০ বছর বয়সে আমেরিকা যান রুহুল আমিন। কিন্তু গ্রিনকার্ড পেতে দীর্ঘ ২৪ বছর সময় কেটে গেছে। গ্রীন কার্ড না পাওয়ায় এতোদিন তিনি দেশে আসেননি। আর গ্রীন কার্ড হাতে পেয়ে মাকে দেখতে আর বিয়ে করতে ৬ সপ্তাহের জন্য দেশে এসেছিলেন রুহুল আমিন। বুধবার বাংলাদেশে মাটিতে পা রাখেন রুহুল।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিয়ানীবাজার থেকে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসে রুহুল রওয়ানা দেন বাড়ির উদ্দেশে। রাত ৮টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবড়িয়ার বিজয়নগরের শশই এলাকায় পাথরবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি ধুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় রুহুল আমিন। দুর্ঘটনায় রুহুলের বাবা ও ছোট দুই ভাইসহ পাঁচজন আহত হন। তারা হলেন- রুহুলের বাবা আলিম উদ্দিন, ছোট দুই ভাই নুরুল আমিন ও ফখরুল আমিন, মামাত ভাই এমরান আহমদ ও মাইক্রোবাস চালক বাদশা মিয়া। আহতদের মধ্যে নুরুল আমিন ও বাদশা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ব্রাহ্মনবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার এস আই মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, মাইক্রোবাসের চালক ক্লান্ত এবং ঘুমের ঘোরে থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।  

রুহুলের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে মাকে ফোনে করে জানান, মা আমি আসতেছি। এটাই ছেলের সঙ্গে তার মার শেষ কথা। মা যখন ছেলের অপেক্ষায় তখনই খবর পৌঁছে মৃত্যুর। ছেলে মৃত্যুর সংবাদে মা এখন পাগলপ্রায়। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি। গতকাল বিকালে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ডাক সঞ্চয়ের মুনাফা কমায় ক্ষোভ, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ায় ত্রাহি অবস্থা

মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে হাত

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সেলফি যখন যম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শি জিন পিংকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

চীনে ৫ লাখ মাস্ক ১০ লাখ গ্লাভস পাঠাচ্ছে ঢাকা

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



ডাক সঞ্চয়ের মুনাফা কমায় ক্ষোভ, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ায় ত্রাহি অবস্থা

মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে হাত

শি জিন পিংকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

চীনে ৫ লাখ মাস্ক ১০ লাখ গ্লাভস পাঠাচ্ছে ঢাকা