ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় মার্কিন সেনারা বাংকারে অবস্থান নিয়েছিল

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ৯ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বেশ কয়েক ঘন্টা আগেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে, মার্কিন সেনারা বাংকারে অবস্থান নেয়া এবং উপযুক্ত পোশাক পরার মতো পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল। সম্ভবত এ কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক ও হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এমন খবর প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সূত্র এবং ইরাকের সূত্র থেকে আগেভাগেই কর্মকর্তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা জানতাম এবং ইরাকিরা আমাদেরকে বহু ঘন্টা আগে বলেছিলেন যে, হামলা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সিনিয়র এক কর্মকর্তা এক্ষেত্রে ইরাকের ভূমিকার কথা খাটো করে দেখেছেন। তিনি বলেন, ইরাকিরা যদি এমন সতর্কতা দিতো তা অনেক ঘন্টা আগে দিতে পারতো না।
ওয়াশিংটন পোস্টকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলির সঙ্গে সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। এরপরই নোটিফিকেশন পাওয়া যায় যে, হামলা চালানোর প্রক্রিয়া চলছে। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, আগেভাগে সতর্কতা পাওয়ার ফলে সামরিক কমান্ডাররা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিলেন। এ সময়ে মার্কিন সেনাদের বাংকারে নিয়ে যেতে পেরেছেন এবং তাদেরকে প্রটেকটিভ গিয়ার পরাতে পেরেছেন। এতে আরো বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘন্টা পর পর্যন্তও মার্কিন সেনারা নিরাপত্তামূলক অবস্থানে আত্মগোপন করে ছিল। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ন্যূনতম সংখ্যক সেনা পশ্চিম ইরাকের আল আসাদ বিমান ঘাঁটি থেকে হামলার আগেই সরে পড়েছিল। দ্বিতীয় একজন প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, কোন সেনা নিহত হন নি। এটা কোনো ভাগ্যের বিষয় না। সামরিক কমান্ডাররা ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ভাল সাড়া দিয়েছিলেন।

হামলার পরে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, আগেভাগে পাওয়া সতর্ক ব্যবস্থার ভূমিকার কথা। স্বীকার করেছেন, এতে প্রাণহানী ঠেকানো গেছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি রাডার নেটওয়ার্কের বিষয়ে কথা বলেছেন। এই রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করতে পারে। এই তথ্যের আলোকে ওই পত্রিকাটির রিপোর্ট বলেছে, কমপক্ষে দুটি গোয়েন্দা সূত্র যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মরক্ষার পরিকল্পনা নিতে সময় দিয়েছে। প্রথমত, এমন ইঙ্গিত ছিল যে, ইরাকে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। তবে এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে তা পরিষ্কার নয়।  আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, (ইরাক) সরকারের ভিতর থেকে সুস্পষ্ট কিছু তথ্য পেয়েছিল মার্কিন সেনারা। পেন্টাগন বুঝে নিয়েছিল ইরান প্রতিশোধ নেবে। দ্বিতীয় সতর্কতা এসেছিল ‘টেকনিক্যাল’ উপায়ে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে সামরিক স্যাটেলাইট। এগুলো ব্যবহার করে উৎক্ষেপণের সামান্য পরেই ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে তারা সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রিপন

২০২০-০১-১৪ ১৯:৪৯:২৯

ভূগর্ভস্থ বাংকার কি মিসাইলের অভিঘাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে?

আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

প্রেসিডেন্টকে সোনিয়া গান্ধী

অমিত শাহকে বরখাস্ত করুন

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় বার্নি স্যান্ডার্স

দিল্লি সহিংসতায় মার্কিন রাজনীতিকদের গভীর উদ্বেগ

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত