বিএনপি’র গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য

ভিন্নমতের কারণে ১০ বছরে নিহত ১৫২৫, গুম ৭৮১

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫০

গত দশ বছরে শুধুমাত্র ভিন্নমত এবং ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তা পোষণ করার কারণে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষকে মামলার আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। এই সময়ে মামলা দেয়া  হয়েছে এক লাখ আট হাজার চৌদ্দটি। ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকার এবং আওয়ামী লীগের হাতে মারা গেছেন ১৫২৬ জন। গুম হয়েছেন বিএনপির ৪২৩ জনসহ সর্বমোট ৭৮১ জন। গতকাল গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এমন তথ্য তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের সন্ধান চেয়ে অশ্রুসজল কন্ঠে বক্তব্য রাখেন। শুরুতে বিএনপির সম্পাদনায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা তথ্য সম্বলিত গ্রন্থ্থ ‘অ্যাবসেন্স অব ডেমোক্রেসি এন্ড সিষ্টেমেটিক হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস বাই স্টেট অ্যাপারেটাস’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন বিএনপি মহাসচিব।
পরে গ্রন্থের ওপর তথ্য চিত্র তুলে ধরেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। এরপর দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।  বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ ১৫ টি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।
বৈঠকে কূটনীতিকদের মধ্যে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় গত ২০ মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এসব মামলায় যারা আসামি আছেন, তারা সবাই জামিন পেয়েছেন এবং জামিনে আছেন। কিন্তু দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্নভাবে সরকার তার জামিনে বাধাগ্রস্ত করছে। যতটুকু জানি-তার যে মেডিকেল রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিলো, সেই মেডিকেল রিপোর্ট এখন পর্যন্ত আসেনি। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিলো, সেই রিপোর্ট বাদ দিয়ে অন্য একটি রিপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে আমরা পরিস্কারভাবে লক্ষ্য করছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটক করে রাখার জন্য সরকার কাজ করছে এবং এভাবে তারা বড় রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। অনুষ্ঠানে গত ৩০শে নভেম্বর ভিসি গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটি পড়ে শুনান ফখরুল। যেখানে খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘ক্রিপল স্টেইজ’ উল্লেখ করে তার উন্নত চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়ে গেলো, আগামী বছর আমরা ৫০ বছর অর্থাৎ অর্ধ শত বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছি। এখনো বাংলাদেশের মানুষকে, আমাদের সন্তানদেরকে তাদের পিতার জন্যে, আমাদের মাকে তার সন্তানের জন্যে কাঁদতে হচ্ছে। আজকে গোটা বাংলাদেশে এমন একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, মানুষ তার কোনো অধিকারই পাচ্ছে না। এই সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জোর করে নির্বাচনে সমস্ত ভোট নিয়ে গেছে এবং বেআইনিভাবে অবৈধভাবে তারা ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যেই তাদেরকে এই বেআইনি কাজগুলো করতে হচ্ছে। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের বক্তব্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্মত্য সেন সুন্দর করে একটি জায়গায় বলেছেন, যে কখনোই কোনো ডেভেলপমেন্ট সাসটেইনেবল হবে না যদি সেখানে ডেমোক্রেসি না থাকে। বাংলাদেশে আজকে গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই। এই সরকার মানুষকে বোকা বানিয়ে উন্নয়নের কথা বলে, উন্নয়নের নামে যে একটা মিথ্যা তৈরি করেছে সেই মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। শুধুমাত্র উন্নয়ন দিয়ে কখনো জনগণের সমস্যার সমাধান করা যায় না। সেই সঙ্গে যদি গণতন্ত্রই না থাকে, গণতন্ত্রের পরিবেশ যদি না থাকে তাহলে সেটা কখনোই ফলপ্রসু হতে পারে না। উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না যদি গণতন্ত্র না থাকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই সরকার ভোট লুট করে নিয়ে গেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। তারা জনগণের সরকার নয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবহার করে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। গত ১২ বছর ধরে তারা দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। শেয়ার মার্কেট লুট করে নিয়েছে। ব্যাংক লুট করে নিয়েছে। কিন্তু সরকার এর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, এই দেশে কোন গণতন্ত্র নেই। কারণ এই সরকার ১২ বছর ধরে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে কোন মানবাধিকার প্রচলিত আছে সেটা বলা যাবে না। প্রতি মুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘণ করা হচ্ছে। এই দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির একটি র‌্যালি করার কথা ছিল কিন্তু সেটিও করতে দেয়া হয়নি। তাই আমাদের বুজতে হবে আজ আমরা কোথায় আছি। কিভাবে বাস করছি।     
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং শ্যামা ওবায়েদ ও ফারজানা শারমিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, এএইচএম মোফাজ্জল করীম, নুর খান, মাসুদ আজিজ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে বিএনপির সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুুক, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবদিন ফারুক, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, এনামুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জহিরউদ্দিন স্বপন, জেবা খান, তাবিথ আউয়াল, মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘিরে তদন্ত পরিবারের সন্দেহ

২২ জানুয়ারি ২০২০

নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

সোনাইমুড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

২২ জানুয়ারি ২০২০

প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন

২১ জানুয়ারি ২০২০

সংস্কারপন্থিদের জয়জয়কার

জামায়াতের নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেলেন যারা-

২১ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত