বৃটেনের নির্বাচনী ব্যবস্থা

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫০

বৃটেনে সাধারণত ডিসেম্বরে নির্বাচন হয় না। প্রায় এক শতক পর দেশটিতে বছরের এই সময়ে নির্বাচন হচ্ছে। চার বছরের মধ্যে বিশ্বের পঞ্চম অর্থনৈতিক শক্তির তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন আজ বৃহসপতিবার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট সহ পুরো বৃটেনের ভাগ্য নির্ধারণের দিন আজ। ২০১৭ সালে আগাম নির্বাচন ডেকে বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। বিরোধী দল লেবার ও লিবারেল ডেমোক্রেটের কাছে কয়েক ডজন আসন হারিয়েছিলেন তিনি। দুই বছর না যেতেই তার উত্তরসূরি বরিস জনসনও আগাম নির্বাচনের ডাক দিলেন। নিজের ব্রেক্সিট চুক্তি ঘিরেই প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।
কিন্তু গত নির্বাচনের মতো অপ্রত্যাশিত ফলাফল হলে বাতিল হয়ে যেতে পারে পুরো ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াই। লিবারেল ডেমোক্রেট ও লেবার পার্টি উভয় দলই দ্বিতীয়বার গণভোটের আয়োজনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন জনসন ও তার দলই। নির্বাচনের আগ দিয়ে পাঠকদের জন্য বৃটেনের পুরো ভোটদান সহ পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা তুলে ধরা হলো।
নির্বাচনী আসন ও ভোটার


বৃটেনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৬৫০টি নির্বাচনী আসনে। প্রত্যেকটি আসন থেকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের একজন প্রতিনিধি বা সাংসদ (এমপি) নির্বাচিত হন। পুরো বৃটেনজুড়ে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক বাসিন্দা বৃহসপতিবার ভোট দিতে পারবেন। প্রবাসী বৃটিশরাও ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। গত বছরের হিসাব অনুসারে, বৃটেনের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ।
ভোটদান
লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) থেকে ভোটকেন্দ্র খুলবে। ভোটগ্রহণ চলবে স্থানীয় সময় রাত ১০টা (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টা) পর্যন্ত। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনের মাধ্যমে ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রিম ভোট দেয়া যায়। অনেকে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রিম ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। ভোটাররা যেকোনো একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কোনো আসনে যে প্রতিদ্বন্দ্বী আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট অর্জন করতে পারেন তিনিই জয়ী। হেরে যাওয়া প্রার্থীরা কোনো নির্বাহী ক্ষমতা পান না। কোনো এই ব্যবস্থার সমর্থকরা জানান, এটি সহজ ও পরিচিত পদ্ধতি। এতে সরকার গঠনে সুবিধা হয়। তবে সমালোচকদের দাবি, বেশির ভাগ আসনেই বহু সংখ্যক ভোটার হেরে যাওয়া দলের পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন। এতে সংসদে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।
প্রসঙ্গত, অপর একটি ভোটদান পদ্ধতি হচ্ছে ‘প্রিফারেন্সিয়াল’ বা পছন্দসই ভোটদান। এই পদ্ধতি অনুসারে, কোনো ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীদের র‌্যাংক করতে পারে। সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থীকে প্রথম ও তার পরের পছন্দের প্রার্থীকে দ্বিতীয় এভাবে ক্রমানুসারে একাধিক প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকে। তবে বৃটেনে এ পদ্ধতিটি চালু নেই।
ফলাফল
ভোটদান শেষেই একটি বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করা হয়ে থাকে সাধারণত। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ফলাফল জানা যায়। ২০১৭ সালের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে তেরেসা মে’র দলের আসন হারানোর বিষয়টি আগ থেকেই সঠিকভাবে অনুমান করা গিয়েছিল।
কিছু কিছু আসনে ভোটদান শেষেই ভোট গণনা শুরু হয়। সেসব আসনে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালেই তারা জয়ী প্রার্থীর নাম জানতে পারেন। অন্যান্য আসনে কিছুটা দেরিতে শুরু হয় গণনা। সব মিলিয়ে বৃটেনে শুক্রবারের মধ্যেই ফলাফল জানা যাবে।
এরপর
বুথফেরত জরিপ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের সরকারি ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত জয়ী দল নিজেদের জয় ঘোষণা করে বা বিরোধীরা তাদের পরাজয় মেনে নয়। তবে ফলাফল খুব কাছাকাছি হলে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করে সকলে। যদি কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয় নিশ্চিত না করতে পারে তাহলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠন হবে। বৃটেনের সংবিধান অনুসারে, কোনো দলকে সরকার গঠনের জন্য নিম্নকক্ষের ন্যূনতম ৩২৬ আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইন পার্টি পার্লামেন্টে অংশ না নেয়ায় সাধারণত এরকম একক দলের জয় দেখা যায় না। যেমন ২০১৭ সালেও ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠন হয়েছিল। এমতাবস্থায় একাধিক দল জোট গঠন করে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাবে ক্ষমতাসীন সরকার। তারা ব্যর্থ হলে প্রধান বিরোধী দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হবে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর





বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত