আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ই চূড়ান্ত, মানতে বাধ্য বিশ্ব: রেজিস্ট্রার

কূটনৈতিক রিপোর্টার

অনলাইন ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:১৯ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৩

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে আজ। দুনিয়ার দৃষ্টি এখন হেগে।

আদালতের নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার ফিলিপ গটিয়ার বলেছেন, ওয়ার্ল্ড কোর্টখ্যাত বিচার আদালতের যেকোনো রায়ই চূড়ান্ত। এটি মানতে বিশ্ব বাধ্য। চূড়ান্ত রায়ের পর আপিলের কোনও সুযোগ নেই। সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে বিচার আদালতে নিয়োগ পাওয়া ফিলিপ গটিয়ার জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা হিসেবে আইসিজের ভূমিকা, এর কার্যপ্রণালীসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে বলেন, জাতিসংঘ সনদ মোতাবেক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো সম্পাদনে আইসিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখনই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখনই বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার মীমাংসা করার একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। রাষ্ট্রের সামনে তাই এমন একটি আন্তর্জাতিক আদালতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যেখানে বিচারের জন্য তারা তাদের বিরোধকে উত্থাপন করতে পারবে এবং যা এই বিরোধের একটি মীমাংসা প্রস্তাব করতে পারবে। এটিই বিচার আদালতের মুখ্য ভূমিকা।
সারাবিশ্বের জন্য এটিই একমাত্র স্থায়ী আদালত, যেখানে ন্যায্যতার অস্তিত্ব রয়েছে এবং যা জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ। ‘বিচারিক অঙ্গ’ পরিভাষাটির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সদর দপ্তর নিউইয়র্ক থেকে হাজার মাইল দূরে হলেও বিচার আদালত জাতিসংঘেরই অঙ্গ।’

গত অক্টোবরে এক সাক্ষাতকারে ফিলিপ গটিয়ার বলেন- রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিই আইসিজের মূল কাজ। তবে, আইনি কাঠামোর মধ্যে নেই কিন্তু থাকা প্রয়োজন এমন কিছু বিষয়েও বিচার আদালত পরামর্শ দিতে পারেন। বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইসিজে মূলত বিবদমান পক্ষগুলোর অধিকার ও দায়িত্বের পরিসরটি স্পষ্ট করে করণীয় সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত জানান, যাকে বলে বাইন্ডিং জাজমেন্ট। কিন্তু এতকিছুর পরও কেউ আইসিজের সিদ্ধান্ত না মানলে কি হবে?

ফিলিপ গটিয়ারের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে এটি চিরায়ত প্রশ্ন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংযোগ ছাড়া রায় কার্যকরের কোনো পদ্ধতি নেই। তবে এটা প্রতিষ্ঠিত যে, বিচার আদালতের রায় অবশ্য পালনীয়। কার্যক্ষেত্রে এর রেকর্ড বেশ ভালো, যা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত হয়। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ওই বিচার আদালত ১৫ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত, যাদের প্রায় কাছাকাছি সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বা সাধারণ পরিষদ নির্বাচিত করে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি বৈধতার বিষয় রয়েছে, এখন পর্যন্ত যা সুপরিকল্পিত একটি ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত। এটি বেশ ভালোভাবে কাজ করছে বলেও দাবি করেন ফিলিপ গটিয়ার।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিচার আদালতে এখন পর্যন্ত ১৭৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টির এখনো রায় হয়নি। মামলাগুলোর ৫০ শতাংশই হয়েছে গত ৩০ বছরে। এই পরিসংখ্যানকে আইসিজে ও এর পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দাবি করে গটিয়ার বলেন- আইসিজেতে মামলা করাটা সহজ  নয়। তিনি (ফিলিপ) বেশ জোরের সঙ্গে বলেন, সীমান্ত, সমুদ্রসীমা থেকে শুরু করে শান্তি ও নিরাপত্তার নানা ক্ষেত্রে আইসিজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে সন্ত্রাসীদের হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চরম নৃশংসতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরের কয়েক মাসে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ এই নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রায় দু’বছরের মাথায় ওই গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া মামলাটি করলো। দেশটির আইনমন্ত্রী ১১ই নভেম্বর  ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে মামলাটি দায়ের করেন। আজ থেকে শুরু হওয়া ওই শুনানিতে গাম্বিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। রোহিঙ্গা সঙ্কটের ভিকটিম হিসাবে বাংলাদেশও গাম্বিয়াকে নৈতিক সমর্থন ও তথ্য-উপাথ্য দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাগরিক সমাজের দু’জন প্রতিনিধিসহ পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে ১৪ সদস্যের একটি টিম শুনানি পর্যবেক্ষণে গেছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

সিরাজগঞ্জে ইউপি সদস্য বকুল হত্যা

৩ মাসেও রহস্য উৎঘাটন হয়নি

২৭ জানুয়ারি ২০২০

লাশের অপেক্ষায় বাবা-মা

২৭ জানুয়ারি ২০২০

‘ইসিতে কোনো সমন্বয় নেই’

২৭ জানুয়ারি ২০২০





অনলাইন সর্বাধিক পঠিত