স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই বরিশালে তিন খুন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে

শেষের পাতা ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২২

হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বানারীপাড়ার ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব। বরিশাল থেকে জাকিরকে আটকের পরপরই বেরিয়ে আসে রহস্য। কুয়েত প্রবাসীর বাড়ির দুই নির্মাণ শ্রমিক জাকির ও জুয়েল একরাতে গৃহকর্ত্রীসহ জামাতা এবং ভাগ্নিকে হত্যা করে নিজেদের আড়াল করতে চেয়েছিল। ঘাতক জুয়েল হাওলাদারকে বরিশাল শহর থেকে আটক ও নিয়ে যাওয়া সমুদয় স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। র‌্যাবের মিডিয়া শাখা এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে ঘাতকদ্বয় জ্বীন নিয়ে আসার নামে ঘটনার রাতে নাটকীয়ভাবে ওই বাড়ির দরজা  খোলা রেখে ঘরে প্রবেশ করে।

গত শনিবার ভোররাতে বানারীপাড়া উপজেলার শালিয়াবাগপুর গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী আব্দুর রবের বাড়িতে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রবাসীর বাড়িতে একাধিক সদস্যের বসবাস থাকলেও ওই রাতে বৃদ্ধ মা মরিয়ম বেগম (৭০), ভগ্নিপতি শফিকুল আলম (৬৫) এবং খালাতো ভাই ইউসুফ (৩২)কে শ্বাসরোধ করে হত্যার সময়ক্ষণ কেউ আঁচ করতে পারেনি। সকালে বৃদ্ধার কলেজপড়ুয়া নাতি জেগে উঠে দাদির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। মুহূর্তে হইচই পড়ে যায়।
পরে ঘরের অন্যকক্ষে ভগ্নিপতি শফিকুল এবং বাড়ির পাশে পুকুরে ইউসুফের হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও তদন্তে নামে। পুলিশ বাড়িতে অবস্থানরত নির্মাণরত জাকির নামক এক ব্যক্তিকে আটক করে। বরিশাল র‌্যাবের কর্মকর্তারা পরবর্তীতে থানার অভ্যন্তরে একান্তে জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে জুয়েল নামে একজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করে। র‌্যাবের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়েলের অবস্থান শনাক্তে মাঠে নামে।

শনিবার রাতে বরিশাল শহরের পশ্চিম মতাশার মুহুরিকান্দা এলাকা থেকে জুয়েলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই সময় জাকিরের বরিশাল নগরীর সাগরদীর ভাড়া বাসা  থেকে ওই রাতে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার ও তিনটি  মোবাইলফোন সেটসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল ও জাকিরকে মুখোমুখি করা হলে উভয়ে অভিন্ন তথ্য দিয়ে জানায় লোভের বশবর্তী হয়ে তিনজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পূর্বে ওই জ্বীন নিয়ে আসার নাটক সাজিয়ে ছিল।

র‌্যাব সূত্র জানায়, জাকির দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী আব্দুর রবের বাড়িতে নতুন ভবন নির্মাণে শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি বাদশাহ পরিচয় দিয়ে নিজের দক্ষতা প্রকাশ করে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। যাতায়াতের সূত্র ধরে প্রবাসীর বাড়িতে বেশি মাত্রার স্বর্ণালঙ্কার থাকার ধারণায় সদ্য কাজে  যোগদানকারী অপর সহযোগী নির্মাণ শ্রমিক জুয়েলের সঙ্গে চুরির পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু ঘটনার রাতে জ্বীন নিয়ে আসার নামে বাড়ির দরজা খোলা রাখার পরামর্শ দেয়া হলেও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বেড়াতে শফিকুল আলম ও খালাতো ভাই ইউসুফের উপস্থিতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে উভয় ঘাতক মিলে একে একে তিনজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যুবক ইউসুফ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে তাকে হত্যার পর বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে হাত-পা  বেঁধে ফেলে দেয়। এই ঘটনা মরিয়ম ও শফিকুল আঁচ করতে পারায় তাদেরকেও একই পরিণতির শিকার হতে হয়। হত্যাকাণ্ডের পরে ভোরে গ্রামবাসীর অলক্ষ্যে জুয়েল লুণ্ঠিত মালামাল নিয়ে বরিশাল শহরে চলে আসে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে বাড়িতে রাতে অবস্থানকারী জাকির গ্রামেই থেকে যায়। মূলত সে প্রচার করতে চেয়েছিল গোটা ঘটনাটি চুরির রূপ দিতে। কিন্তু তার সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে বরিশাল র‌্যাবের একটি টিম ছায়া তদন্তের আলোকে গ্রামে ঘুরে থানায় গিয়ে জাকিরকে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় সে পুরো ঘটনার স্বীকারোক্তি দেয়।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

গ্রেপ্তার-হয়রানি না করার নির্দেশ

প্রথম আলো সম্পাদকসহ ৬ জনের জামিন শুনানি আজ

২০ জানুয়ারি ২০২০

প্রশাসনে ওএসডি ২৯০ জন

২০ জানুয়ারি ২০২০

শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আমিন

২০ জানুয়ারি ২০২০

বার্গনার আসছেন ফেব্রুয়ারিতে

শেষবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ দূত লি

২০ জানুয়ারি ২০২০

সিপিবির সমাবেশে হামলা

আজ রায়

২০ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত