দাবি আদায়ে শাবিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

শাবি প্রতিনিধি

শিক্ষাঙ্গন ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে চলমান আন্দোলন থেকে দ্ইু ভাগে উত্থাপিত ১৬টি দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার গোলচত্বর সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার আশু ৬টি দাবির আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও দাবি মেনে না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গোলচত্বরে রাস্তা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয় নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরবর্তীতে সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রশাসনিক ভবনের নিচে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

এ সময় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বলেন, এটি অফিসিয়াল কোন বক্তব্য নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে কিছু কিছু জায়গায় একমত হতে পেরেছি। এটি একটি খসড়া সিদ্ধান্ত।
পরবর্তীতে এই প্রস্তাবগুলো প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবগুলো যদি প্রশাসনকে সুপারিশ করি আশা বিষয়গুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। যতদ্রুত সম্ভব বিষয়গুলো আমরা লিখিত আকারে জানিয়ে দিবো।

খসড়া সিদ্ধান্তগুলোতে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের কর্মকান্ডে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে, তবে কোন কারণে অনুমতি না দিলে প্রশাসন তা লিখিতভাবে জানিয়ে দিবে, রাত ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মেয়েদের হলে প্রবেশের বিষয়ে অনুমতি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, লাইব্রেরি রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে সুপারিশ করা হবে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন সমাবর্তন উপলক্ষে ৫ থেকে ৮ই জানুয়ারি হল বন্ধ থাকবে, তবে সমাবতর্নের পরে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত হল খোলা রাখার জন্য আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় অনুরোধ করবো। টংগুলোতে তাদের মত করে খাবার রাখতে পারবে এবং চাহিদা অনুযায়ী যৌক্তিক সময় পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে।

এছাড়া মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশে অনুমতি না নেওয়া, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান বাড়ানো ও দাম কমানো, আইআইসিটি গ্যালারি ও পরিসংখ্যান গ্যালারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ না নেওয়া এবং রিডিং রুমের বিষয়গুলো পরে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদী দাবিগুলো আমাদেরও প্রাণের দাবি। দীর্ঘদিন থেকে আমরা বলে আসছি এগুলো হওয়া উচিৎ। এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য যতটুকু জ্বালানি দরকার তা চলে এসেছে। বিশেষ করে ১২শ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়িত হলে আর সমস্যা থাকবে না।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত আকারে কোন বক্তব্য না আসায় এবং শিক্ষার্থীদের আশু ৬টি দাবি মেনে না নেওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী রোববারও তাদের আন্দোলন চলবে বলে জানা যায়।

ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৭শে নভেম্বর (বুধবার) ১৬ দাবি সামনে নিয়ে এসে প্রশাসনকে দুইভাগে আল্টিমেটাম দেয় তারা। এর মধ্যে ৬টি আশু দাবি বুধবার (৪ঠা ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এছাড়া আরও ১০টি দীর্ঘমেয়াদী দাবি আগামী বছরের ২৬ মার্চ এর মধ্যে বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, ৮ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে গত ১৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ডিসেম্বরের শীতকালীন ছুটি পিছিয়ে আগামী বছরের ৫ থেকে ১৬ই জানুয়ারি করা হয়। একই সাথে ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২০শে নভেম্বর ক্যাম্পাসে মানববন্ধনের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মানববন্ধনের অনুমতি না নেওয়ায় প্রক্টরিয়াল বডি এসে তা পন্ড করে দেওয়ার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ও প্রক্টর বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

মানববন্ধনে প্রক্টরিয়াল বডির বাধার প্রতিবাদে ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার ফের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ, সম্মিলিত প্রতিবাদী গান, মশাল মিছিল ও রোড পেইন্টিং করে আসছেন তারা। এছাড়া অর্বাচীন নামে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল শিক্ষার্থীরা।

এই দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার দাবিতে গত রোববার (১লা ডিসেম্বর) ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বরাবর লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর

জকসুর দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ

১৬ জানুয়ারি ২০২০





শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত