কাল থেকে ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ’

বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩১

দেশে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০১৯’। ‘পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করি, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ৭ থেকে ১২ই ডিসেম্বর এই সপ্তাহ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে অত্যন্ত আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সপ্তাহটি উদযাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে অ্যাডভোকেসি সভা, প্রেস ব্রিফিং, সেবা কেন্দ্র হতে বিশেষ সেবা প্রদান, অডিও ভিডিও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, টিভি চ্যানেলে স্ক্রলিং-এর মাধ্যমে বার্তা প্রচার, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডকুমেন্টরি প্রচার ইত্যাদি। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতারে জিংগেলও প্রচারিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে সুবিধাজনক ভেন্যুতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিং-এর আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি এ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী দেশের সকল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রসমূহে এখন থেকে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলের মা ও মেয়ে শিশুদের জন্য অধিক মূল্য হবার কারণে ন্যাপকিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এতে করে তাদের শরীরে ক্যানসারসহ নানাবিধ জটিল রোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে দেশের সর্বত্র এ বছর থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে আমাদের মা- বোনদের জন্য বিনামূল্যে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রদান করা হবে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যু হার প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক আরো বলেন, এসডিজি অর্জনে ৩.৭.২ সূচকে কৈশোরকালিন মাতৃত্ব কমানোর ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। কারণ ১৪ বছর বা তার কম বয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে গর্ভজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যু ঝুঁকি ৫ গুণ বেশি। ২০ বছরের বেশি বয়সী মায়েদের তুলনায় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী মায়েদের মৃত্যুহার দ্বিগুণের বেশি।

এক্ষেত্রে অধিকাংশ মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে অনিহা থাকে। একারণে সারাদেশের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি সিস্টেম চালু করে দেয়া হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ. খ. ম. মহিউল ইসলাম, ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশে ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪৮৮টি উপজেলা, ৬০টি মা-শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ৪০০৮ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র অর্থাৎ মোট ৪৬২৮টি সেবাকেন্দ্র থেকে একযোগে পালিত হবে ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ-২০১৯’।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত