অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জিরোলাইনে পাহারা

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে

বাংলারজমিন ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

 ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে রাজশাহীর চরখানপুর সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে চরখানপুর গ্রামের প্রায় আড়াইশ’ বাসিন্দা রাত জেগে পালাক্রমে এ কাজ করছেন। অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্তের জিরোলাইন বা নোম্যান্সল্যান্ডের ওপরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি অস্থায়ী চৌকি স্থাপন করেছে। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজিবির কোম্পানি পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে চিঠি ও বার্তা পাঠালেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি। সত্যতা নিশ্চিত করতে রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তবে রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী স্থানীয় গণ্যমাধ্যমকে জানান, বিএসএফ জিরোলাইনের ৭০ মিটারের ভিতরে অস্থায়ী ছাউনিটা করেছে, সেটি নোম্যান্সল্যান্ডের ওপরে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নোম্যান্সল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ মিটার ভেতরে চৌকি করার নিয়ম। হঠাৎ গড়ে ওঠা এই চৌকিটা দেখতে পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের চরলবণগোলা কোম্পানিকে চিঠি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিএসএফ কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গ্রামবাসীরা জানান, গত ২৮শে নভেম্বর তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিজিবি ব্যাটালিয়ন-১ এর আওতাধীন চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক সুবেদার নজরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুজন সদস্য। সভায় সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীর সহযোগিতা চায় বিজিবি। চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ (দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নায়েক সুবেদার নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৭শে নভেম্বর তারা জানতে পারেন ভারত থেকে ওই সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। এ জন্য পরের দিনই তিনি গ্রামের ইউপি সদস্য এরশাদুল হক ও কোহিনুর বেগমকে ডেকে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় গ্রামের বাসিন্দারা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত পালা করে পাহারায় থাকবেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এক দল আর রাত ১২টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত আরেক দল গ্রামবাসী বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।
 




আপনার মতামত দিন



বাংলারজমিন -এর সর্বাধিক পঠিত