বুলবুলের তাণ্ডব

মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বিধবা মমতাজ

এক্সক্লুসিভ

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি | ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রলয়ঙ্ককরী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বিধ্বংসী তাণ্ডবে উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামের বিধবা মমতাজ বেগম (৬০)- এর ছাপড়া ঘরটি গুঁড়িয়ে গেছে। টাকার অভাবে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দিন পেরুলেও মেরামত করতে পারেনি ঘরটি। এখনোও পর্যন্ত ভাগ্যে জুটেনি কোনোরকম সহযোগিতা। দুই ছেলে দিনমজুরি করে কোনো মতে চালায় সংসার। নিরুপায় হয়ে ছেলে, বউ ও নাতি-নাতনি নিয়ে বসতভিটার ওপর ছাপড়া দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দিনের বেলা কোনোমতে কাটলেও রাত কাটে ভয়ে। এলাকার প্রভাবশালী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরকমের সহযোগিতা না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন মমতাজ। মমতাজ বেগমের বাড়িতে গেলে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, ও ভাই আপনারা কী ঝড়ে যাগো ঘর ভাইঙ্গা গেছে হেগো নাম নেন? আমার ঘরডা ভাইঙ্গা চুরমার হইয়া গেছে।
পারলে মোর একটা ঘরের নাম দিয়েন। মোর দারে টাহা নাই, আপনেগো জন্য দোয়া করমু, তবুও মোর নামটা রাইখেন। জানা যায়, ছোট ছোট দুইটি ছেলে রেখে তার স্বামী মমিনউদ্দীন মাঝি মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পরে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসারে ছেলেদের পড়াশোনা করাতে পারেননি। ছেলেরা বড় হলে দিনমজুর করে কোনোমতে সংসার চালাতো। তাদের কষ্টের সঞ্চয়ের সামান্য টাকা দিয়ে কোনোরকম টিনের বেড়ায় নড়বড়ে ঘর তুলেন। কষ্টের মধ্যেও মাথাগোঁজার মতো একটু ঠাঁই ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তাও কেড়ে নিলো। দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা। মমতাজ বেগমের বড় ছেলে ইব্রাহিম মাঝি বলেন, ঘর ভাঙার পর ঘরের জন্য ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। এখনো পর্যন্ত ঘর পাইলাম না। এ ছাড়া কোনোরকম ত্রাণও পাইনি মোরা। মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছি। বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে নিয়ে খোলামেলা ঘরে দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটছে দিনগুলো। মেয়েটি নিয়ে অনেক চিন্তা হয়। গরিব বলে মোগো খবর কেউ রাখে না। সরকার একটি ঘর দিলে সবাইরে লইয়া একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাব্বির হোসেন ইসমাইল জানান, মমতাজ ও তার ছেলেরা খুবই অসহায় ও গরিব। ঘরটি ভেঙে পড়ায় অনেক কষ্টে ছাপড়ার মধ্যে গাঠাসা দিয়ে ছেলে, বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে থাকেন। সরকারিভাবে একটি ঘর পেলে অনেক উপকার হতো পরিবারটির। তবে শুনিছি ঘরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে তারা। এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ৫০ বান ঢেউটিন ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ট্রেনিংয়ের জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি আসার পরে ঘরের জন্য আবেদনকারীদের তালিকা যাচাই বাছাই করে যারা পাওয়ার উপযুক্ত তাদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সম্পর্ক ছিল মারিনি

কেন চাপের মুখে অর্থনীতি

গাম্বিয়ার প্রতি নৈতিক সমর্থন ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল শুনানি পর্যবেক্ষণে

কতজন কিনতে পারছে টিসিবি’র পিয়াজ

চলচ্চিত্র সমাজকে সংস্কার করতে পারে

জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠলো বঙ্গবন্ধু বিপিএল’র

বাদলের শূন্য আসন নিয়ে মহাজোটে টানাপড়েন

সচিবালয়ের আশেপাশে হর্ন বাজালে এক মাসের জেল

শুদ্ধি অভিযানে নাম আসা কাউকে ছাড় নয়

আলোচনায় মোহনের ‘মঙ্গল আসর’

ছাগলনাইয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই বরিশালে তিন খুন

দিবারাত্রির টেস্টের প্রস্তাব পাকিস্তানের!

পদ হারানো রাব্বানী চান নুরের পদত্যাগ

হাইডেলবার্গে আলী রীয়াজের অনুষ্ঠানে বাধা

গৃহবধূর চুল কর্তন: উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কী অ্যাকশন নেয়া হয়েছে, জানতে চান হাইকোর্ট