ফেডারেল মার্কিন কমিশনের মতে

এনআরসি আসলে আসামের মুসলিমদের দেশছাড়া করার হাতিয়ার

এক্সক্লুসিভ

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৩
আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) আসলে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন ও দেশ ছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত ফেডারেল মার্কিন কমিশন এই অভিযোগ করেছেন। আসামের এই নাগরিকপঞ্জী হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া ২০১৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের আদেশে শুরু হয়েছিল। যেখানে রাজ্যের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে তারা ভারতীয়। তারা এই দেশে ২৪শে মার্চ, ১৯৭১ সালের আগে থেকেই  নাগরিক। তবে গত ৩১শে আগস্ট আসামের যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। আসামের জন্যই একমাত্র এনআর সি হয়েছে।

আগামী দিনে ভারতের সর্বত্রই এনআরসি চালু করা হবে বলে বিজেপি নেতারা নিয়মিত হুমকি দিয়ে চলেছেন। গত শুক্রবার ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম জানিয়েছে যে, বেশ কয়েকটি দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এনআরসি আসামের বাঙালি মুসলিম সমপ্রদায়ের ভোটাধিকার কাড়তে, সুস্পষ্টভাবে নাগরিকত্বের জন্য একটি ধর্মীয় প্রয়োজনীযতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং মূলত মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করে তোলার উদ্দেশ্যেই গৃহীত কর্মসূচি।
মার্কিন কমিশন  জানিয়েছে, এনআরসি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার একটি টুল এবং বিশেষত ভারতীয় মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করে তোলা এর উদ্দেশ্য। ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থার নিম্নমুখী প্রবণতার এটি একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। নীতি বিশ্লেষক হ্যারিসন আকিনসের তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে মার্কিন কমিশন অভিযোগ করেছে, ২০১৯ সালের আগস্টে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই বিজেপি সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যা মুুসলিমবিরোধী পক্ষপাতিত্বকেই প্রতিফলিত করে। কমিশন আরো জানিয়েছে, বিজেপি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য একটি ধর্মীয় পরীক্ষা তৈরির লক্ষ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যাতে হিন্দুরা এবং কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বেঁচে যাবে ঠিকই, তবে বাদ পড়বেন মুসলমানরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে, এনআরসি হালনাগাদ করা একটি বিধিবদ্ধ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, যা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের  নির্দেশিত একটি আইনি প্রক্রিয়া। মন্ত্রকের মতে, এটি একটি  বৈষম্যহীন প্রক্রিয়া, যাতে পক্ষপাতদুষ্টতা এবং অন্যায়ের কোনো অবকাশ নেই। কারণ এনআরসি-তে তথ্য জানানোর আবেদন ফরমে কোথাও আবেদনকারীদের ধর্ম জানতে চাওয়া  হয়নি। এ ছাড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া যে কোনো মানুষের বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার অধিকার রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নূর মোহাম্মদ

২০১৯-১১-১৯ ২২:৪৮:২৪

এ কথা শত ভাগ ঠিক। শুধু মাত্র মুসলমান দের কে রাষ্ট্রহীন করাই মূল উদ্দেশ্য। মিয়ানমারেও তাই হয়েছে। দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা নির্যাতনের ন্যায়বিচার চায় অক্সফ্যাম

বিক্ষোভ মোকাবিলায় উত্তর-পূর্ব ভারতে নামানো হল সেনা

বৃটেনে সাধারণ নির্বাচন আজ

কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ কড়া নিরাপত্তা

টিসিবি’র পচা পিয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ

কুষ্ঠরোগীদের জন্য ওষুধ তৈরি করতে দেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

হাইকোর্ট মোড়ে ৩ মোটরসাইকেলে আগুন

ভিন্নমতের কারণে ১০ বছরে নিহত ১৫২৫, গুম ৭৮১

ভারতীয় নাগরিকপঞ্জীর সমালোচনায় রানা দাসগুপ্ত

ইউএনডিপি’র মানব উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

দুদুসহ বিএনপি’র পাঁচ নেতার ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন

বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধসহ ১৩ নির্দেশনা ইউজিসি’র

শাজাহান খানকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ইলিয়াস কাঞ্চনের

লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাস হয়ে গেল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল

‘ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান পদস্খলন হলে ঐতিহাসিকভাবে দেশটির অবস্থান দুর্বল হবে’