ছাতকে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত দু’শতাধিক

বাংলারজমিন

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দু’গ্রামবাসীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ দু’শতাধিক ব্যক্তি আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। দু’ঘণ্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জের সাদা বীজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা সাদা ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি-ফোরস্ট্রোক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইটপাটকেল ও কাচের বোতল ব্যবহার করা হয়। উভয় পক্ষ থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড টিআর শেল ও ফাঁকা গুলি করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও এর আশেপাশে রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদ শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে এতে বাধা দেয় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানী ফরিদ মিয়া। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকালে সাদা ব্রিজ এলাকায় সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দু’ঘণ্টা ব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলাকালে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। খবর পেয়ে থানা ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টা চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইয়াকুব আলী (গুলিবিদ্ধ), মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আবদুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির, আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যান্য আহতের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর পুত্র ইয়াকুব আলী (৩০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে। ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ইরানে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিতে নিহত শতাধিক: অ্যামনেস্টি

অভিনেত্রী কাজী নওশাবার মামলা ৬ মাসের জন্য স্থগিত

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

কৃষক-জনতার প্রতিরোধে উত্তাল বলিভিয়া, নিহত ৩ আন্দোলনকারী

দেশের মানুষ এখন খোলা জেলে বন্দী : মির্জা আব্বাস

সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের না পালানোর আহ্বান

এ অপেক্ষার শেষ কখন?

সারা ভারতে এনআরসি হবে: অমিত শাহ

চালকের মুখে পোড়া মবিল, রক্ষা পাচ্ছে না ব্যক্তিগত গাড়িও

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটে অচল দেশ

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনসন-করবিনের মধ্যে ঝাঁঝালো বিতর্ক

‘আত্মরক্ষার্থে বাংলাদেশকে দায়ি করছে মিয়ানমার’

বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতায় ঝুঁঁকি বাড়ছে: সিপিডি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ