সরাইলে দাঙ্গা প্রতিরোধে শপথ, অস্ত্র সমর্পণ

বাংলারজমিন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | ৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
সামান্য ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাইলে দাঙ্গা বেধে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে। দাঙ্গার কারণেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে থাকে। হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান জীবন। আবার অনেককে বরণ করতে হচ্ছে স্থায়ী পঙ্গুত্ব। অর্থনৈতিক ক্ষতি তো আছেই। কলঙ্কিত হচ্ছে পরিবার গোত্র ও সমাজ। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। দাঙ্গার রশি টেনে ধরতে এগিয়ে এসেছেন সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন টিটো।
পেছন থেকে পরিকল্পনা দিচ্ছেন পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান। থানা সূত্র জানায়, শাহাদাত হোসেন সরাইল থানায় যোগদান করেছেন গত ১৬ই জুলাই ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে। শুরু থেকেই তিনি সরাইলের দাঙ্গা প্রতিরোধ নিয়ে ভাবছেন। চিন্তা, পরিকল্পনা ও কাজ সবই চলছে একসঙ্গে। জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের লোকজনকে জড়ো করছেন। এখানকার দাঙ্গা প্রবণ স্থানগুলোর মানুষের চিন্তা ও দৃৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে সভা করছেন। দাঙ্গার ক্ষতিকর দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করছেন। কথা বলছেন মসজিদের মুসল্লিদের সঙ্গেও। গত ১৮ই আগস্ট প্রথম কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যানারে সরাইল অন্নদা স্কুলের মাঠে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমকে প্রধান অতিথি করে দাঙ্গা প্রতিরোধে একটি সমাবেশ করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন পুলিশ সুপার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর। সেইদিন সকল বক্তাই দাঙ্গামুক্ত সরাইল দেখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। আর এখান থেকেই যাত্রা শুরু করেছেন সরাইল থানার ওসি। বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে চলছে সভা। দাঙ্গা না করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তারা করছেন শান্তি প্রতিষ্ঠা করার শপথ। সেই সঙ্গে প্রকাশ্য জনসভায় নির্বিঘ্নে সমর্পণ করছেন দেশীয় অস্ত্রগুলো। মসজিদের মুসল্লিরা দুই হাত উপরে তুলে বলছেন, আর দাঙ্গা বা সংঘর্ষ নয়। আমরা শান্তিপূর্ণ সরাইলের বাসিন্দা হয়ে বাঁচতে চাই। এ পর্যন্ত সমগ্র উপজেলায় ১২টি সভা হয়েছে। প্রত্যেকটি সভায় শান্তি শপথের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্রগুলো সমর্পণ করেছেন মানুষ। এর মধ্যে ১১ই সেপ্টেম্বর বুধবার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামে, ২৯শে সেপ্টেম্বর রোববার সরাইল সদর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে, ১লা অক্টোবর নোয়াগাঁও গ্রামে, ২রা অক্টোবর পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে, ৩রা অক্টোবর আঁখিতারা গ্রামে, ১৬ই অক্টোবর সরাইলের সৈয়দটুলা গ্রামে, ২৪শে অক্টোবর কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে, ২৫শে অক্টোবর সদর ইউনিয়নের উচালিয়াপাড়া গ্রামে, ২৮শে অক্টোবর অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে, ২রা নভেম্বর চুন্টা সেনবাড়ি ময়দানে, ৫ই নভেম্বর অরুয়াইল আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে ও ৬ই নভেম্বর পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে দাঙ্গা প্রতিরোধ বিষয়ে সভা করেছেন। শুক্রবারে বিভিন্ন গ্রামের মসজিদগুলোতেও করছেন আলোচনা। মাঝে মধ্যে সভায় উপস্থিত হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। এসব সভায় শুধু দাঙ্গা নয়, মাদকের কুফল ও খেসারত বিষয়ে ও দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বক্তারা। ফলে প্রকাশ্য সভায় স্থানীয় লোকজন হাত তুলে শান্তির শপথ করেছেন। সেই সঙ্গে তাদের দেশীয় অস্ত্রগুলো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হাতে সমর্পণ করেছেন ও করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সবার ধারণা সব ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এ সভার কাজ অব্যাহত থাকলে মানুষের মনে দাঙ্গা বিরোধী মনোভাব তৈরি হবে। এক সময় অবশ্যই সকলে শান্তির পতাকাতলে এক হবে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, উদ্বুদ্ধকরণ কাজের মাধ্যমে মানুষের মনোবৃত্তি ও আচরণকে পরিবর্তন সম্ভব। আমি এটা বিশ্বাস করি। তাই এ লক্ষ্যেই আমি সরাইলের দাঙ্গা ও মাদককে শতভাগ না পারলেও একটা জায়গায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। লোকজন এগিয়ে আসছেন। সবার সহযোগিতা পেলে অবশ্যই সফল হব।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

৬০ বাংলাদেশি আসছেন, ৩ লাখের বিতাড়ন বেঙ্গালুরু থেকেই

ইন্দো-প্যাসিফিকের ধারণা স্পষ্ট করার দাবি, বিআরআই নিয়ে বিতর্ক

বাসটি চলে যায় রানুর ওপর দিয়ে

ছোঁয়ার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ স্বজনরা

হবিগঞ্জে শোকের মাতম

সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বুলবুলে ২৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংসদে রাঙ্গার কড়া সমালোচনা

রাঙ্গা অনুতপ্ত, বক্তব্য প্রত্যাহার, তবে...

ডা. শফিক জামায়াতের নতুন আমীর

মন্ত্রীর দাবি পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি ম্যালওয়ারের আড়িপাতা

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামি কুমিল্লা কারাগারে

৫ বিচারপতিকে মোদির অভিনন্দন

দুর্ঘটনায় নিহত ৭