অবশেষে নারায়ণগঞ্জ ছাড়লেন এসপি হারুন

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৪
নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে হয়েছে আলোচিত-সমালোচিত এসপি হারুন অর রশিদকে। বদলি আদেশের পরও তিনদিন তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করেছেন। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশ বিভাগসহ নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পুলিশ লাইনে তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানায় জেলা পুলিশ প্রশাসন। এসময় বিদায়ী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতাপশালী এই পুলিশ কর্মকর্তা। যদিও বেলা ১১টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এসপি হারুনের বিরুদ্ধে শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে। এরআগে বুধবার রূপগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসের একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  গাড়ি থেকে নেমে এসপি হারুনকে দেখে উষ্মা প্রকাশ করেন। এরপরই নারায়ণগঞ্জ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এসপি হারুন।
এবং তড়িঘড়ি করে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় জেলা পুলিশ লাইনে। গতকাল বেলা ১২টায় অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হলেও রহস্যজনকভাবে সেই অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা দুইটার দিকে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়েন এসপি হারুন। মাত্র ১১ মাস দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নেগেটিভ-পজেটিভ নানা ঘটনার জন্ম দেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও-১) আবদুল মমিন বলেন, বিদায় অনুষ্ঠান শেষে রীতি অনুযায়ী তার গাড়ি পুলিশ কর্মকর্তারা টেনে পুলিশ লাইনসের বাইরে নিয়ে যান। এরপর তাকে প্রটোকল দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো বলেন, নতুনভাবে কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত  এখন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম।

বিদায় সংবর্ধনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ওদিকে, বিভিন্ন অভিযোগের মুখে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শিগগিরই শুরু হবে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের এমন বক্তব্যের পরেও নারায়ণগঞ্জের সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এসপি হারুনকে স্বাভাবিকভাবে বদলি করা হয়নি। নির্দিষ্ট অভিযোগে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ বক্তব্য খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তারপরেও তার এমন বিদায় অনুষ্ঠানের কারণে সর্বমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে এই বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সকালে এসপি হারুন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দুপুর ১২টায় আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে লোকসমাগম হচ্ছিল না। যে কারণে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা দেরিতে বেলা দুইটায় বিদায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। তবে বেশির ভাগ আমন্ত্রিতই অনুষ্ঠানে যাননি। অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন নিয়েও পক্ষ-পাতিত্ব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপবিষ্টদের জন্য দুপুরের খাবার আর পুলিশ সদস্য ও আমন্ত্রিত অন্যদের জন্য সাধারণ নাস্তার আয়োজন করা হয়। এতে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, এসপি হারুনের বিদায়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি এসেছে। তার হাত থেকে ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে আমাদের কর্মসূচিও দিতে হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, ৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়ায় তিনি দেশের একটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীর কর্ণধারের স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় তুলে এনেছেন। আইনের রক্ষক হয়ে এমন কাজ যে করতে পারে তার কোন ভাবেই পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে দেশের আরেক শিল্পপতিকেও আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাই এসপি হারুনের বিরুদ্ধে উঠা সব গুলো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন এই সাংবাদিক নেতা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, তার দায়িত্বপালনের সময়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সরকার দলের এমপির পক্ষে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে এসপি হারুনের নির্দেশে থানায় জিডিও করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তার কাছে নিরাপদ ছিল। তাহলে প্রশ্ন উঠে-এসপি হারুনের মিশন কী ছিল? নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনকে দুর্বল করা? তার কর্মকান্ডে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। তার মতো বিতর্কিত একজন সরকারি কর্মকর্তার বিদায় অনুষ্ঠান স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।  

উল্লেখ্য, গত ৩রা নভেম্বর এসপি হারুনকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাকে ঢাকায় পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার (ট্রেনিং রিজার্ভ) পদে পদায়িত করা হয়। তার বিরুদ্ধে আম্বার ডেনিমের কর্ণধার ও বিসিবি’র পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠে। চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে রাসেলের স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়। এরআগে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৫ই মে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ এসপি হারুনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

হারুন রশিদ

২০১৯-১১-০৭ ১৮:২০:০৬

এইরকম চাঁদাবাজ ও অনৈতিক চরিত্রের লোককে পুলিশ সুপার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেওয়া ঠিক নয় | খবর পরে বুজলাম এইটাই তার প্রথম চাঁদাবাজী নোই এর আগেও সে এইরকম ঘটনা সে করেছে

আপনার মতামত দিন

মন্দভাগ ট্রেন দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

জবিতে অনিয়ম করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাকে ‘তড়িগড়ি’ বদলি

সংসদ সচিবালয়ে ডে কেয়ার সেন্টার নিয়ে আক্ষেপ

হামলার প্রতিবাদে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ!

নিজেকে বলিভিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন সিনেটর

আবরার হত্যার বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে : আইনমন্ত্রী

শাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু ৫ শিক্ষার্থী আটক

বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছি না: কোহলি

ভুয়া সিভি দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর চাকরি!

জাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে হুমায়ুন পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ চান শাওন

ওআইসি’র পক্ষ থেকে মামলা করায় চাপে থাকবে মিয়ানমার

সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নওয়াজের

চাঁদপুরে শোকের মাতম (ভিডিও)

মানব উন্নয়নে ভারত-পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি: তথ্যমন্ত্রী