১৬ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা দুই বছরেই অচল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বাংলারজমিন ২০ অক্টোবর ২০১৯, রোববার

ঝিনাইদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্পটে লাগানো সিসি ক্যামেরাগুলো দুই বছরে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। শহর ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো স্থান থেকে গায়েব হয়ে গেছে ক্যামেরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মরিচা আর ময়লা জমে আছে ক্যামেরা ও তারে। ২০১৭ সালে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। শহরের ১০টি স্পটে বসানো হয় ১২৮টি সিসি ক্যামেরা। এতে ঠিকাদারের ব্যয় হয় ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু তাকে ঝিনাইদহ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া হয় ৯ লাখ টাকা।
বাকি টাকা ঠিকাদার পাননি। ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এখনো ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন। অনেকবার ঘুরে ঘুরে এখন আর টাকা চান না। ঠিকাদারের দেয়া তথ্যমতে, ঝিনাইদহ শহরের পায়রাচত্বর, পোস্ট অফিস মোড়, স্বর্ণকার পট্টি, শিল্পকলা এলাকা নিয়ে একটি স্পট তৈরি করা হয়। এখানে ৩২টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যামেরাগুলো কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের। সদর থানার গেট থেকে উজির আলী স্কুল পর্যন্ত স্থাপন করা হয় ১৬টি ক্যামেরা। এগুলো কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল ঝিনাইদহ সদর সার্কেল (পুলিশ) অফিসের। কলাবাগান পাড়া থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত বসানো হয় ১৬টি ক্যামেরা। কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বাসা থেকে। ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় বসানো হয় ৮টি সিসি ক্যামেরা। কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল বাস মালিক সমিতির। আরাপপুর এলাকার ১২টি সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল রাহেলা প্রসাধনীর মুক্তার আহম্মেদের। ক্যাসেল ব্রিজ এলাকার ৬টি ক্যামেরার কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর বাসা থেকে। ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে হাটখোলা রোডের ১৬টি ক্যামেরা কন্ট্রোলের দায়িত্ব ছিল রংধনু প্লাজার আবদুল আওয়ালের। এভাবে ১০টি স্পটে ১২৮টি ক্যামেরা বসানো হয়। অভিযোগ উঠেছে ক্যামেরাগুলো পুরানো মডেলের হওয়ায় বেশি দিন টেকেনি। তবে ক্যামেরা বসানোর পর শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়েছিল। শহরের কয়েকটি দোকানে চুরির ঘটনা উদঘাটনও হয়েছিল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে। তারপর ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে পড়তে থাকে। তবে বেশির ভাগ ক্যামেরা লাইট পোস্ট থেকে চুরি হয়ে গেছে। ঝিনাইদহ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু বলেন, আমার ধারণা টাকা না পেয়ে ঠিকাদার জাহিদুল নিজেই ক্যামেরাগুলো খুলে নিয়ে গেছে। তিনি ব্যবসায়ী ও শহরবাসীর স্বার্থে সিসি ক্যামেরা প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। ঠিকাদার তামিম কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি কেন ক্যামেরা খুলে নেবো। লাগিয়ে দেয়ার পর সেগুলো তো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুলিশ ও মালিক সমিতির ছিল। ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু জানান, শহরের পায়রা চত্বরের ৪টি ক্যামেরা চালু আছে। বাকি ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বর্ষার পর নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, আগে বসানো ক্যামেরাগুলো ছিল ব্যাক ডেটেড। শহর জুড়ে নতুন মডেলের ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন -এর সর্বাধিক পঠিত