সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড, আরমানের ৫ দিন

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১:৪৯ | সর্বশেষ আপডেট: ২:০২

মাদক ও অস্ত্র আইনের পৃথক দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া সম্রাটের সহযোগি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন এ আদেশ দেন। পৃথক দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাদক ও অস্ত্র মামলায় সম্রাটকে ২০ দিন ও মাদক মামলায় আরমানকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

অস্ত্র আইনের মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ই অক্টোবর কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের পর সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইল অফিসে আরও মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সেই সংবাদ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বেলা একটার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।

সম্রাটের দেখানো মতে তার বেডরুমের জাজিমের ওপরে তোষকের নিচ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে ২টি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও ২টি লাঠি উদ্ধার করা হয়।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে সম্রাটকে নিয়ে অভিযানে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ৪ প্যাকেট তাস ও ১ হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মূল রহস্য উদঘাটনে আরমানের এবং অস্ত্র-গুলির রহস্য উদঘাটনে সম্রাটের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড নামঞ্জুর ও আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান এ জামিনের বিরোধিতা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের এ সময় আরও ছিলেন- মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, তাপস কুমার পালসহ প্রমুখ।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৭ অক্টোবর বিকালে সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় এসব মামলা করেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আটক করে র‌্যাব। একইসঙ্গে সম্রাটের সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আটক করা হয়। ওইদিনই কাকরাইলে যুলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র-গুলি, মাদক ও ক্যাঙ্গারুসহ বিরল প্রজাতির প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্যপ্রাণীর চামড়া সংরক্ষণের দায়ে ৬ মাসের কারাদ-ে দ-িত করেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল সম্রাটের গ্রেপ্তার নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইসি) সম্রাট ও তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দেয়।



আপনার মতামত দিন

অনলাইন -এর সর্বাধিক পঠিত