চট্টগ্রামে বন্দুকযুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের বড় ভাই নিহত

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

এক্সক্লুসিভ ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫১

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পাশে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের বড় ভাই খোরশেদ আলম (৪৫) নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। খোরশেদ আলম পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাশকুর রহমান। তিনি জানান,  খোরশেদ আলম আগ্রাবাদ এলাকায় যুবলীগ ও বড় ভাই পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতো। তার বিরুদ্ধে আলোচিত মান্নান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশের হাত থেকে বারবার পালিয়েছে সে। একাধিকবার কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে বারবার অপরাধ করেই যাচ্ছিল। রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গেলে র‌্যাবের টহল দল দেখে খোরশেদ ও তার অনুসারীরা গুলি ছোড়ে।
এ সময় র‌্যাবের টহল দলের সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খোরশেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৮ই আগস্ট নগরীর আগ্রাবাদের বিভিন্ন শিপিংহাউজ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপর উল্টো হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগে দুইবার পালায় সে। সদরঘাট থানার ওসি ফজলুর রহমান ফারুকী জানান, খোরশেদ আলম পেশাদার সন্ত্রাসী। নগরীর কোতোয়ালি   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
, সদরঘাট ও ডবলমুরিং থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ অস্ত্র ও মাদকের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারছিল না। ওসি জানান, নগর যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় খোরশেদ ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করছেন। এমন অভিযোগ করেন এলাকার লোকজনেরা। খোরশেদ প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলেও এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করত না। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, খোরশেদ আলম আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, শেখ মুজিব রোড, চৌমুহনী পাঠানটুলি রোড, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, কমার্স কলেজ রোড, কাটা বটগাছ, জমির উদ্দিন লেন, মোগলটুলি বাজার, বার কোয়ার্টার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও চাঁদাবাজি করত। তবে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের কথা জেনেছি। তবে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ৩০শে জুন দিবাগত রাত ১টার দিকে আরেক পেশাদার সন্ত্রাসী গোলাম সরওয়ার প্রকাশ হামকা মিলনসহ ১০-১৫ সহযোগী নিয়ে মনির হোসেন মান্নান নামে এক ব্যক্তির হাত বিচ্ছিন্ন করে কুপিয়ে হত্যা করে ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহটি সড়কের পাশে ফেলে দেয় খোরশেদ আলম।
মান্নান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে খোরশেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় খোরশেদকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল পাওয়া যায়। এ হত্যা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাভোগও করেছে খোরশেদ। এ মামলায় আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়।
নগর যুবলীগের নেতারা জানান, নগরীর পাঠানটুলী ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের অনুসারী ছিলেন। সমপ্রতি কাদেরের সঙ্গে দূরত্ব হয় খোরশেদের। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, খোরশেদ ওয়ার্ড যুবলীগের সঙ্গে ছিল। পদের বিষয়টি আমি নিশ্চিত নই। তবে আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার, যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

শাজিদ

২০১৯-১০-১৫ ২০:১১:৪৭

চট্টগ্রামের প্রত্যেক থানায় আওয়ামী এমপিদের আশির্বাদে শত শত সন্ত্রাসী, দখলবাজ, ধ্বর্ষক রয়েছে এদের বিরোদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেয়া হলে জনগন আইনকে নিজের হাতে তোলে নিবে সন্দেহ নাই। এই ভয় অনেক আগে থেকেই আওয়ামীদের ছিল এখন আছে তাই কথায় কথায় আওয়ামীরা বলে থাকেন যে ক্ষমতা হারালে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারাবে, অথচ তারা বলছেন না যে, লক্ষ লক্ষ মানুষ কেন প্রাণ হারাবে???

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

স র জ মি ন ঢাকা উত্তর ৩ নং ওয়ার্ড

ভোটারদের মধ্যে নানা শঙ্কা ও কৌতূহল

২২ জানুয়ারি ২০২০

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

মিসাইলের ইতিহাসে নয়া অধ্যায়

২২ জানুয়ারি ২০২০





এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত