অধিকারের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার

দেশ বিদেশ

  স্টাফ রিপোর্টার | ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেয়া কয়েকজনের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলো। গতকাল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে সংগঠনটি। এক বিবৃতিতে অধিকার জানায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের কথা। এর ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই ঘোষণার ভিত্তিতে গঠনতন্ত্র প্রণীত না হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে থাকে এবং স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও তা ব্যাপকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বাস্তবায়নের সংগ্রামে নিয়োজিত থেকেছে।
অধিকার তার মানবাধিকার কর্মকাণ্ডে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বাক্‌ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্মীয়, জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্যসংরক্ষণ, তথ্যানুসন্ধান, প্রতিবেদন তৈরি করাসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযানে নিয়োজিত আছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীদের হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ ভারতের বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসন, যা বাংলাদেশের জনগণের মানবাধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে সে বিষয়েও অধিকার সোচ্চার থেকেছে। এছাড়াও মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, তথ্যানুসন্ধান করা, মিয়ানমারের ওপর গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশন এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘঠিত গণহত্যার বিচারের জন্য তথ্য এবং প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
অধিকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো ছাড়াও এর দীর্ঘ পথচলায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রচারাভিযান চালিয়ে গেছে। অধিকার এর প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২৩শে মার্চ আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত এর (আইসিসি) রোম সংবিধিতে অনুস্বাক্ষর করে। এছাড়া অধিকার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের স্পেশাল কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস পাওয়া সংগঠন হিসেবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন ফোরামে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সক্রিয় অংশ নেয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে অধিকার হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোট সরকারের আমলে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ এর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে অধিকার সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। ফলে ওই সময়ে সরকার অধিকার এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতের রোম সংবিধি অনুস্বাক্ষর করার প্রচারণার জন্য সংগৃহীত তহবিলের অর্থছাড় দিতে বাধা দেয় এবং ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানায়। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের শাসনামলের পুরো সময়ে অধিকার জরুরী অবস্থার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অধিকার এর পরিচালককে নৌ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হয়রানির সম্মুখিন হন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর অধিকার এর ওপর পুনরায় নিপীড়ন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে চরম আকার ধারণ করে। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ই মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনার ওপর অধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করায় বিনা পরোয়ানায় ২০১৩ সালের ১০ই অগাস্ট রাত ১০টায় অধিকার এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আদিলুর রহমান খান এবং অধিকার এর পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানকে নির্বতনমূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০০৯) এ অভিযুক্ত করা হয়। তারা যথাক্রমে ৬২ ও ২৫ দিন কারাগারে আটক থাকার পর জামিনে মুক্ত হন।
 


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে মিরপুরে যাচ্ছে ক্রিকেটাররা

এমপিও ভুক্ত হলো যেসব প্রতিষ্ঠান

অপেক্ষায় পাপন, ক্রিকেটাররা গুলশানে

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ক্রিকেটারদের অপেক্ষায় পাপন

বৃটেনে লরির ভেতর ৩৯ মৃতদেহ

তাহিরপুরে শিশু ধর্ষণের শিকার, ধর্ষক আটক

ফিটনেস ক্যাম্পে যোগ দেয়নি ক্রিকেটাররা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি সভাপতি পাপন

২৭৩০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় আগামীকাল

সমালোচনা সত্ত্বেও পাকিস্তানে ৮ অর্ডিন্যান্স অনুমোদন

নুরের ফেসবুক আইডি হ্যাকড, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

প্রাথমিকের শিক্ষকদের মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা

প্রিন্স অব কলকাতা থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের রাজা

কাওসারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি