বগুড়ায় ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর

শেষের পাতা

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৬
রাজধানীর ক্যাসিনোর মতোই মফস্বলের ক্লাবগুলোতে রাতভর চলে জুয়ার আসর।
ঢাকার ক্যাসিনোতে অভিযানের পর বগুড়ার ক্লাবগুলো একদিনের জন্য বন্ধ থাকলেও আবারো জমজমাট হয়ে ওঠে। ঢাকায় অভিযানের পর জেলা পর্যায়ে  এই প্রথম বগুড়ায় শনিবার রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার টাউন ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম কামালসহ ১৫ জুয়াড়িকে আটক করেছে সদর থানার পুলিশ। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসদ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। শহরের সাতমাথার টেম্পল রোডে অবস্থিত এই ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট জুয়ার আসর চলছিল।

জানা গেছে, রাত ৯টায় টাউন ক্লাব ঘেরাও করে সদর থানা পুলিশ। ক্লাবের ভেতর ঢুকে প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় ক্লাবের ভেতরে জুয়া খেলায় ১৪ জন এবং জুয়া পরিচালনা করার অভিযোগে টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম কামাল শামীমকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।
টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও শামীম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। আটককৃত অন্যান্যরা হলেন- শামীম কামাল, গোলাম আলী, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলাম, মুকুল, মঞ্জুরুল আলম, আব্দুল ওয়াছেক পিন্টু, সিরাজুল ইসলাম, সাগর, মোক্তার হোসেন, মো. বাচ্চু মিয়া, আবুল হোসেন, কেএন আলম শহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, প্রতিদিন কী পরিমাণ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছিল এটা বলা যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে টাউন ক্লাবে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া চালানোর অভিযোগ ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের নামে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

টাউন ক্লাব: শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম জায়গা সাতমাথার টেম্পলরোডে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সংলগ্ন অবস্থিত। এই ক্লাবে বগুড়া শহরের ভিআইপি লোকজনের ওঠাবসা। এখানে প্রতিরাতে শহরের বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, স্কুল কলেজের একাধিক শিক্ষক জুয়ার আসরে বসতো। একাধিক সূত্র জানিয়েছে এখানে প্রতিরাতে কোটি টাকার উপরে জুয়া খেলা হতো।
শহীদ তারেক সংঘ: শহরের কাটনার পাড়ায় অবস্থিত এই ক্লাবেও প্রতিরাতে জুয়ার আসর বসে। এখান থেকেও একাধিকবার পুলিশ জুয়ারিদের আটক করেছিলো। এছাড়াও বগুড়া শহরের ইউএফসি ক্লাব, রাইফেল ক্লাবসহ রাজাবাজার, টেম্পলরোড, নবাববাড়ী রোডের বেশ কিছু বোর্ডিংয়ে রুম ভাড়া নিয়ে প্রতিরাতে। এসব জুয়ার আসরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বাংলা মদ, গাঁজাসহ নেশার সামগ্রীও থাকে। এদিকে বগুড়া শহরের বাইরে আদমদীঘি, সান্তাহার, দুপচাঁচিয়া, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম উপজেলাতেও দিব্যি চলছে জুয়ার আসর। এসব থানা পুলিশের চোখের সামনে হলেও পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে হতাশ সাধারণ মানুষ।

অনলাইনেও চলে জুয়া: অবাক হওয়ার কিছু নেই। তরুণ সমাজের বড় একটা অংশ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পরেছে। বিশেষ করে ক্রিকেট খেলায় এই জুয়ার বেশি হয়ে থাকে। শহরের বেশির ভাগ সেলুনগুলোতে বসে এই খেলা নিয়ন্ত্রণ করে জুয়াড়িরা। ক্রিকেটের বলে বলে চলে এই জুয়া। ফোনে ঘরে বসে থেকেও এই জুয়ায় অংশ নেয়া যায়। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের শহর এলাকাগুলোতে এই অনলাইন জুয়াড়ি বেশি। এদের কার্যক্রম সহযে বোঝা যায় না বিধায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় এরা।
জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে: নেশার এই খেলায় অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজন, তাদের সন্তানরা জড়িয়ে পড়ছেন। এতে দিনে দিনে আর্থিক ভাবে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। দিন মজুর, শ্রমিক, রিকশা সিএনজি চালকসহ নিম্ন শ্রেণির লোকজন রাতারাতি টাকার মালিক বনে যাওয়ার আশায় জুয়ায় বসে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রতিনিয়তই। এতে অনেকের দাম্পত্য জীবনেরও অবসান হয়েছে। নিয়মিত রাতে ঘরে না ফেরায় পারিবারিক কহলের সৃষ্টি হচ্ছে।

জুয়ার টাকা জোগার করতে অপরাধে জড়াচ্ছে অনেকে: জুয়ার টাকা জোগার করতে অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। চুরি ছিনতাই ডাকাতির পাশাপাশি খুন-খারাপি পর্যন্ত করছে অনায়াসেই। এতে দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পথে যাচ্ছে। অসহায় হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। কোন ভাবেই ফেরাতে পাড়ছে না তরুণ জুয়াড়িদের। এদিকে অনেক থানা পুলিশের বিরুদ্ধে জুয়াড়িদের সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে। নিয়মিত জুয়ার আসর থেকে টাকা তুলে নীরব ভূমিকা পালন করছে ওই সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এমন অভিযোগ অহরহ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এদিকে বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম মানবজমিনকে জানান, বগুড়া শহরে বড় পরিসরে কোথাও জুয়ার আসর বসে না। যদি কোথাও বসে তাহলে দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে। তিনি আরো বলেন, জুয়াড়িদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলবে।

 


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০১৯-০৯-২২ ২১:৩৯:০১

সারা দেশে অপরাধ ও অপরাধী, এবং দুর্নীতি এত বেড়েছে সবাইকে ধরলে দেশের ২০ শতাংশ জনসংখ্যা জেলে যাবে।

আপনার মতামত দিন

খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি গ্রেপ্তার

বছরে ৮৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য হিসেবে জমা হয়

অনুমতি না পাওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ স্থগিত

সরকারি চাকুরেদের গ্রেপ্তারে অনুমতির বিধান কেন বেআইনী নয়: হাইকোর্ট

খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ডাক

খালেদ ও শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ

ভোলার ঘটনার প্রতিবাদে হেফাজতের কর্মসূচি

ভোলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, ৬ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

এমপি হারুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

আইনজীবী সহকারি খুন: ১২ জনের ফাঁসি

লেবাননে সরকারবিরোধী আন্দোলন, আজ ধর্মঘট

ভোলার ঘটনায় বুধবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

বায়ু দূষণে বাড়ে হার্ট অ্যাটাক, অ্যাজমা

ভারত-পাকস্তান দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে