যমুনার তীরে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের উচ্ছ্বাস

বাংলারজমিন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এবারো অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতিযোগিতার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সাবেক মন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। এনায়েতপুর-বেলকুচির মেঘুল্লায় যমুনার নদীবক্ষে এই প্রতিযোগিতায় ঢাক-ঢোলের বাজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জারিসারি ও ধুয়া গানের সঙ্গে মাঝিদের জোরে টানো ছন্দময় বৈঠার সে দৃশ্য ছিল অতুলনীয়। অর্ধশতাধিক অংশ নেয়া নৌকার এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা পাবনা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষের আবেগ, উত্তেজনা এবং মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা।
গত ২ সপ্তাহ আগে বেলকুচির মেঘুল্লার যমুনা নদীতে গতকাল নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালায় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য বাইচের দিন গত সোমবার সকালেই টাঙ্গাইল, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর, সদর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও বেলকুচি এবং উল্লাপাড়ার কয়েকশ’ বিভিন্ন নৌকাযোগে এবং সড়ক পথে প্রতিযোগিতা স্থল মেঘুল্লা ঈদগা মাঠ যমুনার তীরের ৪ কিলোমিটার জুড়ে সমবেত হয় অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিযোগী পানশি, কোষা ও বৃহৎ আকারের খেলনা নৌকাও দুপুর ১টার মধ্যে চলে আসে। এরপর বেলা ৩টায় শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা।
ঘণ্টির ঝনঝনানি, ঢোল, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উদ্বুদ্ধ করণদাতাদের ‘জোরসে বল হেইও, আরো জোরে হেইও, বাইয়া যাও হেইও’র ছন্দে ছন্দে মাঝিরা বৈঠা হাতে বেয়ে যায় নৌকা। তখন তীরবর্তী স্থানে সমান তালে ছুটে চলে সমর্থকরা। দুই তীরে করতালি, হর্ষধ্বনি পরিশ্রান্ত মাঝিদের উৎসাহ জোগায়। তখন চৌহালীর খাসধলাই থেকে আসা একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের (সালাম কুটি) সুবিশাল ৯০ হাত লম্বা খেলনা নৌকাটি ঘিরেই ছিল সবার আগ্রহ। দৃষ্টিনন্দন পুরো কাঠের নৌকাটি যখন ৯০ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে প্রতিযোগী নৌকার সঙ্গে টান শুরু করলো তখনই বাঁধ ভাঙ্গা মানুষের সে কি উচ্ছ্বাস।
খেলায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর আসনের এমপি অধ্যাপক ডা. হাবীবে মিল্লাত মুন্না। জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী ইকতেখার উদ্দিন শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার, বেলকুচি পৌরমেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাসসহ জেলা, থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পরিষদের সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তখন এই অতিথিরা বিজয়ী সালাম কুটি, বাংলার বাঘ, সোনার বাংলা, প্রথম আলো, সোনারতরী, সেভেন স্টার, বিজয় ৭১, পাবনার জনতাসহ বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে ফ্রিজ এবং পরাজিতদের এলইডি টিভি উপহার দেয়া হয়।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

parvez khaled

২০১৯-০৯-১৭ ১৮:২৫:৪৬

খুব প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নৌকা বাইচ আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক অংশ। প্রতি জেলায় ও বিভাগীয় নগরীতে প্রতি বছর নৌকা বাইচের আয়োজন করলে খুব ভাল হয়। আমাদের সংস্কৃতি আমাদের মাঝে বেচে থাক।

আপনার মতামত দিন

দলবেঁধে বিদেশ ভ্রমণ

টাকার মান কমানোর উদ্যোগ যা ভাবছেন বিশ্লেষকরা

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত

দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিত

গণভবনে আবরারের বাবা-মা, দ্রুত বিচারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চার বড় ভাইকে নিয়ে সিলেটে নানা জল্পনা

ড. ইউনূসের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত

পরিবেশ রক্ষা করেই সুন্দরবন এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে- সালমান এফ রহমান

বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অপরাধকরণ নিয়ে উদ্বেগ

শিশুর ওপর এ কেমন বর্বরতা!

ছাত্রলীগ থেকে অমিত সাহা বহিষ্কার

আবরারের ছবিতে ভিজেছে হাজারো চোখ

‘শিবির সন্দেহে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়’

মিজান ও অমিত সাহা জানায়, আবরার শিবির করে

খোকন-শ্যামলসহ ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হবে হাওর: প্রেসিডেন্ট