আলাপন

‘এখন যে কেউ গায়ক কিংবা গায়িকা বনে যাচ্ছে’

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০২
গুণী সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। ধারাবাহিকভাবে শ্রোতাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। অডিওর বাইরে চলচ্চিত্রের গানেও তিনি পেয়েছেন সফলতা। বর্তমানে নতুন গানের বাইরেও দেশ-বিদেশের স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত এ সংগীত তারকা। সব মিলিয়ে কেমন আছেন? ফাহমিদা নবী বলেন, বেশ ভালো আছি। ভালো থাকার চেষ্টা করি সব সময়। বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? ফাহমিদা বলেন, ব্যস্ততা তো অবশ্যই গান নিয়ে। স্টেজ শো ও বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকছি। তাছাড়া নতুন গানের রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই আর কি। নতুন গানের কাজ সম্পর্কে বলুন। কি কাজ করছেন? ফাহমিদা নবী বলেন, নতুন গানের কাজ আসলে মোটামুটি সব সময় চলতে থাকে। সম্প্রতি ‘সমান্তরাল দুটি রেখা এক তো হবার নয়’- এমন কথার একটি নতুন গানের কাজ করেছি। এর ভিডিওর শুটিংও শেষ মোটামুটি। এর বাইরে আরো কয়েকটি নতুন গানের কাজও চলছে। এগুলো সামনে নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রকাশ হবে। বর্তমানে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে? ফাহমিদা নবী বলেন, এখন সংগীত ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা অস্থির। কোম্পানির বাইরেও যে কেউ ইউটিউবে গান প্রকাশ করতে পারছে। এটা ইতিবাচক হিসেবে নেয়া উচিত ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন যে কেউ গায়ক কিংবা গায়িকা বনে যাচ্ছে। এটা কিন্তু ভয়ংকর একটি ব্যাপার। যার যেটায় জ্ঞান নেই সে সেটা হতে চাইছে। এটা শুধু সংগীতের ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রেই হচ্ছে। যার যেটা হবার যোগ্যতা নেই তার সেটা হবার চেষ্টা করাও উচিত নয়। আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির কথা যদি বলি দেখা যাচ্ছে সবাই গায়ক কিংবা গায়িকা হতে ব্যস্ত। গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের ক্ষেত্রেও তেমনই অবস্থা। এ কারণে কিন্তু গানের মান আর থাকছে না। এখন মানহীন গানের ভীড়ে ভালো গানগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ মানহীন গানের সংখ্যা বেশি, প্রচারণা বেশি। কিন্তু এখান থেকে উত্তরনের পথ কি? ফাহমিদা নবী বলেন, সচেতনতা তৈরি হতে হবে নিজের মাঝে। শ্রোতাদের সচেতন হতে হবে। যারা গানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের সচেতন হতে হবে। তবে যদি উপলব্ধি বিষয়টা নিজের মাঝে না থাকে তাহলেতো হবে না।  কেউ যদি বুঝতে না চায়, তাকে জোর করে বোঝানো যায় না। তাই উপলব্ধিটাই সব থেকে বড় বিষয়। এ প্রজন্মের গান কি শোনা হয়? তারা কেমন করছে বলে মনে হয়? ফাহমিদা নবী বলেন, অবশ্যই শোনা হয়। অনেক অস্থিরতার মধ্যেও যে মেধাবী শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আমাদের নেই, তা বলবো না। অনেকেই ভালো করছে। অনেকের গান আমার ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দ। আমি বিশ্বাস করি তারা সঠিক জায়গায় থাকলে অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। তবে রাতারাতি তারকা হবার প্রবণতাটা এখন বেশি। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কাজ যদি মানসম্পন্ন হয় তবে সেটাই একদিন তাকে তারকায় পরিণত করবে। তারকা হবার চেষ্টার দরকার নেই। ফাহমিদা নবী আরো বলেন,  একটা কথা আছে যারা দ্রুত ওপরে ওঠে তারা দ্রুতই পড়ে যায়। এ কথার সঙ্গে আমি একমত। তাই তরুণ প্রজন্মকে বলবো ভালো কথা-সুরের প্রতি মনোযোগী হতে। শিখার কোন শেষ নেই। প্রতিনিয়ত শেখার চেষ্টা করতে হবে। আমি নিজেও ছোট-বড় সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। সংগীত শিক্ষার আসলে শেষ নেই। তাই সব সময় শিখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর একটা কথা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে মানুষ হিসেবে ভালো হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সেটাই একজন শিল্পীকে বড় করে, বাঁচিয়ে রাখে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাড়ির কাজ বন্ধ রাখতে ক্রসফায়ারের হুমকি!

ডেঙ্গু: এবার ‘শক সিন্ড্রোমে’ মৃত্যু বেশি

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা

অভিযান ইতিবাচক, এতদিন হয়নি কেন?

মতিঝিল যেন ক্যাসিনো পল্লী

২ কর্মকর্তা লাপাত্তা

খালেদের সহযোগী ও অর্থের সন্ধানে র‌্যাব

সমাধান সূত্র বের হবে আশাবাদী বৃটেন

বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

বগুড়ায় ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর

সিলেটে ৯ মাসে ৫৮৮ চিহ্নিত জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতেও ক্যাসিনো কয়েন-কিরিচ

রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এর দুর্ঘটনা

নিরাপত্তা চেয়ে সিলেটে ৫৬ সাংবাদিকের জিডি

সরকারি নির্দেশে চীনজুড়ে চলছে ইসলাম দমন

সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন শুরু কার্যতালিকায় নেই কাশ্মীর, রোহিঙ্গা ইস্যু