পাবনায় গণধর্ষণের পর থানায় বিয়ে

প্রশাসনের পদক্ষেপে নজর রাখছে হাইকোর্ট

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
পাবনায় গণধর্ষনের শিকার গৃহবধূর মামলা না নিয়ে থানা চত্বরে সন্দেহভাজন এক আসামির সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ প্রশাসনের সার্বিক পদক্ষেপে নজর রাখছে হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে পত্রিকায় প্রকাশিত খবর তুলে ধরে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল, গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা। জামিউল হক ফয়সাল বলেন, পাবনার বিষয়টি নিয়ে কিছু পত্রিকার প্রকাশিত নিউজ আদালতের নজরে এনেছিলাম। আদালত বললেন যে, এ বিষয়ে তো ইতিমধ্যে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনারা আবার কেন আসছেন? তখন আমি বললাম, ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিক। কিন্তু আজকের পত্রিকায় এসেছে বিয়ের কাজি, যিনি বিয়েটা পড়াতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, তাকে এবং ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওসির লোকজন। ওই ওসি যদি ওই থানায় দায়িত্বে বহাল থাকে তাহলে তদন্তটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, তদন্ত ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন আদালত বলেন, যেহেতু এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং যেহেতু কর্তৃপক্ষ অ্যাকশন নিচ্ছে, দেখেন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। যদি প্রশাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হয় তখন আপনারা আগামী সপ্তাহে আসেন আমরা দেখব। আদালত এও বলেছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৯শে আগষ্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে ওই নারীকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। টানা কয়েকদিন ধর্ষণের পর নির্যাতিতা গৃহবধূ কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা গত ৫ই সেপ্টেম্বর পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে গৃহবধূর নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ রাসেলকে আটক করে। তবে বিষয়টি মামলা হিসেবে থানা পুলিশ এজহারভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে ধর্ষক রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করে। গৃহবধূর বাবা বলেন, আমার মেয়ে অপহৃত হওয়ার কয়েকদিন পর তাকে খুঁজে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ দেই। পুলিশ আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে মেয়েকে থানা হেফাজতে রেখে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি থানায় রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বামী সন্তান থাকা অবস্থায় রাসেলের সাথে তাকে কিভাবে বিয়ে দেয়া সম্ভব তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা সামাজিকভাবে অপদস্থ হয়েছি। আমরা ধর্ষকদের বিচার চাই।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

এনআরসি’র নামে আসামে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক

ছয় মাসে মালয়েশিয়ায় ৩৯৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগ, কী করবেন গোলাম রাব্বানী

দৃশ্যত কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করায় আমাকে ভিসা দেয়া হয়নি

বিদেশ মিশনে নিয়োগ চেয়ে পুলিশের প্রস্তাব

খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আগুনে কি ইরানই ঘি ঢালছে?

আজ থেকে খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি

জাপাকে ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় পুলিশ ইউনিট গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে দুই শতাধিক মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে

নতুন ভিডিও ভাইরাল

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সম্পাদক নঈম নিজাম

নবজাতক সারাকে ফেলে লাপাত্তা মা-বাবা

সিলেটের নিপার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ প্রবাসী নাজমুলের