‘শ্রোতারা ছুড়ে ফেলার আগেই সরে দাঁড়াচ্ছি’

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গান করছেন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ। নিজের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় গান। তার গাওয়া কালজয়ী গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরে। গানের সঙ্গে বরাবরই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারণেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। অডিও ও প্লেব্যাকের পাশাপাশি ফেরদৌস ওয়াহিদ স্টেজ শোতেও ব্যস্ত থেকেছেন সব সময়। গানের বাইরে নায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে এবার নিজের দীর্ঘ গানের ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন এ শিল্পী। বিষয়টি এরইমধ্যে জানিয়েছেন। অবশ্য এ বছর গান করে যাবেন। সব মিলিয়ে এই সময়ে কেমন আছেন? ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আমি শুরু থেকেই একটি বিষয়ে বিশ্বাসী। সেটা হচ্ছে ভালো থাকা। এই চেষ্টা আমি সব সময় করি। আমি এখনো বেশ ভালো আছি। ব্যস্ততা কেমন চলছে? ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আমি কাজে ডুবে থাকতে পছন্দ করি। তবে আগের মতো বেশি কাজ করছি না। মনের মতো কিছু কাজ করছি। যেটা ভালো লাগছে সেটা করছি। ধরাবাধা নিয়মে থেকে গান প্রকাশ করতে আমার ভালো লাগে না। কিন্তু সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০২০ সালের পর আর গান করবেন না। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণটা আসলে কি? ফেরদৌস ওয়াহিদ হেসে বলেন, বিশেষ কোনো কারণ নেই। কিন্তু আর কত করবো! অনেক তো গান করলাম। নতুন গান ও স্টেজে সব সময় ব্যস্ত থেকেছি। কিন্তু শ্রোতারা ছুড়ে ফেলার আগেই সরে দাঁড়াচ্ছি। আসলে প্রত্যেক শিল্পীরই একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। যদিও আমি যুগের পর যুগ গান করে যাচ্ছি। এটা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ আর শ্রোতাদের ভালোবাসার কারণেই হয়েছে। তবে এখন আমার মনে হয়েছে থামা উচিত। এ কারণেই বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সব ধরনের গান
থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবো। এদিকে বিদায়ের আগে ২২টি নতুন গান প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গানগুলো একটি একটি করে প্রকাশ করবেন তিনি। এ বিষয়ে এ শিল্পী বলেন, বিদায়ের আগে ২২টি গান শ্রোতাদের জন্য উপহার স্বরূপ দিতে চাই। এরইমধ্যে প্রায় সব গানই তৈরি হয়ে আছে। আগামী বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গানগুলো প্রকাশ করবো। গানগুলোর স্টুডিও ভার্সন ভিডিওতে হাবিবের এবং আমার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে। ২২টি গানের মধ্যে ১২টি গান নতুন এবং ১০টি পুরনো গান রয়েছে। নতুন গানের মধ্যে রয়েছে ‘মাধুরী’, ‘রোদের বুকে’, ‘দি লায়লা’, ‘করলি পুড়িয়া ছাই’ প্রভৃতি। আর পুরনো গানের মধ্যে রয়েছে ‘মামুনিয়া’, ‘আগে যদি জানতাম’, ‘এমন একটা মা দে না’, ‘তুমি-আমি যখন একা’ প্রভৃতি। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কথা চিন্তা করে বিদায়ের আগে এ গানগুলো প্রকাশ করবো। এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে এখন? ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আমি মনে করি অবস্থা এখন ভালো। কারণ বিভিন্ন কোম্পানি ভালো গানে বিনিয়োগ করছে। তাছাড়া যে কেউ নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও গান প্রকাশ করতে পারছে। সারা বিশ্বের কাছে নিজের প্রতিভা পৌঁছে দেয়া এখন আগের থেকে সহজ। এটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। অবশ্য এর নেতিবাচক দিক যে নেই তা বলবো না। তবে সেটাকে বর্জন করে ইতিবাচক দিকটাকে কাজে লাগাতে হবে। এ প্রজন্মের শিল্পী-সংগীত পরিচালকরা কেমন করছেন? ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, আমার ছেলে হাবিব ওয়াহিদের পরে যদি বলি, তবে অনেক ভালো শিল্পী ও সংগীত পরিচালক এসেছেন। তবে এদেরকে ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। অনেক বাধা হয়তো আসবে। কিন্তু সেই বাধাকে উপেক্ষা করে কেবল নিজের কাজে মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই তারা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রাচীরে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ইউপি সদস্য নিহত

এনআরসি’র নামে আসামে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক

ছয় মাসে মালয়েশিয়ায় ৩৯৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগ, কী করবেন গোলাম রাব্বানী

দৃশ্যত কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করায় আমাকে ভিসা দেয়া হয়নি

বিদেশ মিশনে নিয়োগ চেয়ে পুলিশের প্রস্তাব

খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আগুনে কি ইরানই ঘি ঢালছে?

আজ থেকে খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি

জাপাকে ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় পুলিশ ইউনিট গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে দুই শতাধিক মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে

নতুন ভিডিও ভাইরাল

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সম্পাদক নঈম নিজাম

নবজাতক সারাকে ফেলে লাপাত্তা মা-বাবা