যেভাবে পথশিশু কাওসার

ষোলো আনা

শারমিন রহমান টুম্পা | ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
ছোট্ট কাওসার আহমেদ। বয়স মাত্র ৮ বছর। বছরখানেক আগেও সে পথশিশু ছিল না। ছিল পরিবার। থাকতো বাবা- মা’র সঙ্গে। বছর দুয়েক আগে দরিদ্রতার কাছে পরিবারসহ বরিশালের গৌরনদী থেকে পাড়ি জমান রাজধানীতে। শুরু হয় কাওসারের জীবনযুদ্ধ। প্রথমে কাজ করতো লেগুনার হেলপার হিসেবে। এভাবেই বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনোভাবে কেটে যাচ্ছিল জীবন।

কিন্তু হঠাৎ করেই ঝড় আসে তার জীবনে। কাওসারের মা বিয়ে করেন আরেকটি। ছেড়ে চলে যান তাদের। ভয়াবহ বিপদ নেমে আসে কাওসারের জীবনে। কাওসারের বাবাও আরেকটা বিয়ে করে। লেগুনা বন্ধ হয়ে যাওয়া হেলপারের কাজটাও হারায় সে। শুরু করে ফুল বিক্রি। আয় কম হওয়ায় তার বাবা সিদ্ধান্ত নেয় কাওসারকে দিয়ে ভিক্ষা করবে। কিন্তু ভিক্ষা করতে না চাওয়ায় অবর্ণনীয় নির্যাতন শুরু হয় কাওসারের ওপর। নির্যাতনের পরেও ভিক্ষা করতো না সে। দিন শেষে ফুল বিক্রি করে ৫০/৬০ টাকা যা পেতো তাই দিতো বাবার হাতে তুলে। কিন্তু এভাবেই কষ্টে দিন চলতো তার। কিন্তু একদিন বাড়িতে ফিরে দেখে বাবা তাকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

 কাওসার হয়ে যায় পথশিশু। পেয়ে যায় কিছু বন্ধু। সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও ফুল বিক্রি করে সময় কাটে তার। এখন কাওসারের সম্বল গায়ে জড়ানো পোশাকটুকুই। অন্য কাপড় পেলে ফেলে দিতে হয় এই আগের কাপড়। কারণ আগের কাপড় রাখার স্থান নেই কাওসারের। ঘুম তার বিছানাহীন। কখনো ফুটপাথ, কখনো বা মসজিদের বারান্দায়। সারাদিনে ফুল বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সকাল-দুপুরের খাবার যোগাড় করাই দায়। রাতে অবশ্য পেট পুরে খেতে পারে সে। বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার প্রতিদিনই রাতে খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের।

কাওসারের কাছে মায়ের কথা বলতেই চোখ ছলছল হয়ে ওঠে। চোখের পানি লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা। কাওসার বলে, ‘রাইতে ঘুমাইলেই আম্মাকে স্বপ্নে দেখি। মনডায় চায় মায়ের কাছে গিয়া থাকি। যেদিন আম্মাকে স্বপ্নে দেখি সেই রাইতে আর ঘুমডা হয় না।’


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Saiful Sarker

২০১৯-০৯-০৬ ২১:২৭:৫৬

His parents should be held responsible for his welfare until he is adult. Once Govt start charging parents for kids welfare, people will think twice before giving birth to a child. But urgently we need to have a system in place to look after these abandon kids. Feeling bad when we see a good amount of money is spent on sending rich people for Hajj on govt expenses where as kids are left on the street.

Omar Farook

২০১৯-০৯-০৬ ০৫:৫৭:০৩

সরকারি েেেতিমখানাগুলোতে এতিম নয় এমন বহু ছেলে দূর্ণীতির মাধ্যমে ভর্ত্তি হয়ে নিবাসী। কিন্তু েেেদেরনঠাই হয়না। এদেরকে খুজে সরকারী েেেতিমখানায় স্থান দেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোসনা কি এই?

Quazi Nasrullah

২০১৯-০৯-০৬ ১১:৪০:১৫

He should be taken to safe home.

আপনার মতামত দিন

বাড়ির কাজ বন্ধ রাখতে ক্রসফায়ারের হুমকি!

ডেঙ্গু: এবার ‘শক সিন্ড্রোমে’ মৃত্যু বেশি

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা

অভিযান ইতিবাচক, এতদিন হয়নি কেন?

মতিঝিল যেন ক্যাসিনো পল্লী

২ কর্মকর্তা লাপাত্তা

খালেদের সহযোগী ও অর্থের সন্ধানে র‌্যাব

সমাধান সূত্র বের হবে আশাবাদী বৃটেন

বশেমুরবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

বগুড়ায় ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর

সিলেটে ৯ মাসে ৫৮৮ চিহ্নিত জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতেও ক্যাসিনো কয়েন-কিরিচ

রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এর দুর্ঘটনা

নিরাপত্তা চেয়ে সিলেটে ৫৬ সাংবাদিকের জিডি

সরকারি নির্দেশে চীনজুড়ে চলছে ইসলাম দমন

সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন শুরু কার্যতালিকায় নেই কাশ্মীর, রোহিঙ্গা ইস্যু