৯ বছরেও শফিউলের আক্ষেপ

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৭ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

২০১০-এ তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় পেসার শফিউল ইসলামের। শুরুটা দারুণ ছিল তার। টানা ৩ বছর দলে থেকেছেন। সেই সময়ে সেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজার পিছনে ছুটছিলেন। কিন্তু এরপর শুরু হয় তার দলে আসা যাওয়া। ২০১৬ থেকে টানা তিন বছর দলেই ছিলেন না। অবশেষে চলতি বছর শ্রীলঙ্কা সফরে দলে জায়গা পান শফিউল। ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে প্রমাণ করেন এখনো তিনি ফুরিয়ে যাননি।
এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫৯ ম্যাচে ৬৯ উইকেট শিকার শফিউলের। তার এই অর্জনে এখনো তিনি দেশের পেস বোলারদের উইকেট শিকারের তালিকাতে চতুর্থ স্থানে। অনেক পরে এসেও ১০৭ উইকেট নিয়ে তার ওপরে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় স্থানে রুবেল হোসেন, আর শীর্ষে মাশরফি। যেভাবে শুরু করেছিলেন মাশরাফির পরেই জায়গা করে নিতে পারতেন। হয়তো ৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে শফিউলের আক্ষেপ কম নয়। যদিও তিনি এ জন্য ভাগ্যকেই দোষ দেন। গতকাল অনুশীনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমকে শফিউল ইসলাম বলেন, ‘৯ বছর আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। নিজের দিক থেকে আমি খুশি না। যখন জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছি প্রথমবার, তারপর তিন বছর নিয়মিত খেলতাম। মাঝখানে হয়তো খেলতে পারিনি। ইনজুরি বা অন্যান্য কারণে। এখনও ক্যারিয়ার শেষ হয়নি। যদি সুযোগ পাই, যেটুকু সুযোগ পাই একটা লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারবো।’
কেন শফিউল হঠাৎ করেই হারিয়ে গেলেন! দায়টা কার? এমন প্রশ্নের জবাবে বগুড়ার এই পেসার নিজের ভাগ্যকেই দোষ দেন। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ম্যানেজমেন্টে সমস্যা না। আসলে দুর্ভাগ্য বলবো। যা হয়েছে কোনো কারণে, আল্লাহ্‌ যা লিখে রেখেছেন সেটাই হয়েছে। আমি আমার কাজ সবসময় করার চেষ্টা করেছি। যখনই জাতীয় দলে ফিরে যাই, নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য চেষ্টা করি। হয়তোবা ডাক পাওয়ার পর ইনজুরিতে পড়েছি, এটাকে দুর্ভাগ্যই বলবো। আসলে এটা নিয়ে বলার কিছু নেই।’ আবারও দলে সুযোগ পেয়েছেন, আশা করছেন সামনেও খেলতে পারবেন। তাই নিজের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, ‘ভালো জায়গায় বল করলে যেকোনো জায়গায় সফল হওয়া সম্ভব। বিশ্বের সব বোলাররাই এভাবে সফল হয়েছে। জায়গাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কোচ এগুলো নিয়ে কাজ করছেন। উইকেট যে রকমই হোক আমি যদি সুযোগ পাই, আমি চাইবো যে উইকেটের সাহায্য থাকুক। এটা হলে নিজের কাছেই ভালো লাগবে। উইকেটের আচরণ এবং কন্ডিশন অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করবো।’
২১৫ ওয়ানডে ম্যাচে ২৬৫ উইকেট নিয়ে এখনো পেসারদের মধ্যে শীর্ষে আছেন মাশরাফি। কেন তার মতো হতে পারলো না অন্য পেসাররা! এ নিয়ে শফিউল বলেন, ‘মাশরাফি ভাই অনেক অভিজ্ঞ। তার মতো পেসার বের হচ্ছে না। সবাই চেষ্টা করছে, সবাই তো একরকম হয় না। ইনশাল্লাহ এরকম আরও পেস বোলার বের হবে আশা করি।’ দেশে নতুন পেস বোলিং কোচ এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট দায়িত্ব নিয়েছেন পেসারদের। তার অধীনে শফিউলরা কাজও শুরু করেছেন। তাই প্রশ্ন এসেছে বিদায়ী কোচ কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে এই কোচের কী পার্থক্য? যদিও এক সপ্তাহে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয় এই পার্থক্য। শফিউলও জানালেন তাই। তিনি বলেন, ‘ল্যাঙ্গেভেল্টের সঙ্গে এখনো ওইভাবে কাজ করা হয়নি, তিন-চারদিন হয়েছে। সে মেইন ফোকাস করছে কন্টিনিউ এক জায়গায় বল করতে। যেন এলোমেলো বোলিং না হয়। ব্যাটসম্যান যেন কষ্ট করে রান করে।’


আপনার মতামত দিন



খেলা অন্যান্য খবর

৬ বছর পর গোল খরায় মেসি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



খেলা সর্বাধিক পঠিত