বীমা দাবির ৫৭২ কোটি টাকা পূরণ না করায় ১৪ কোম্পানিতে পর্যবেক্ষক

শেষের পাতা

এম এম মাসুদ | ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২০
গ্রাহকদের বীমা দাবির ৫৭২ কোটি টাকা পূরণ না করায় ১৪ কোম্পানিতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক
সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ র্কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পর্যবেক্ষকরা এসব কোম্পানির কার্যক্রমে সংযুক্ত থেকে বীমা দাবি মেটাতে ভূমিকা রাখবেন বলে আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে।  এদিকে সঠিকভাবে গ্রাহকদের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করায় দেশে ব্যবসা করা বীমা কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় এজেন্ট পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে দিন দিন অর্থনীতিতে কমে যাচ্ছে বীমার অবদান।
জানা গেছে, বছরের পর বছর ঘুরেও গ্রাহক বা তাদের স্বজনরা বীমা দাবির টাকা পাচ্ছে না কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। পরে তারা টাকা না পেয়ে অভিযোগ করছেন আইডিআরএর কাছে। এ অবস্থায় গ্রাহকদের বীমা দাবি পূরণে ১৪টি জীবন বীমা কোম্পানিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে আইডিআরএ। আইডিআরএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ৫৭২ কোটি টাকা।

বীমা আইন ২০১০ এর ৭২ ধারা অনুযায়ী, পলিসির মেয়াদ পুর্তির ৯০ দিনের মধ্যে দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৯০ দিনের পরে পরিশোধ করা হলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ব্যাংক রেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ যোগ করে সুদ দিতে হবে। কিন্তু এ নিয়মের তোয়াক্কা করছে না কোম্পানিগুলো। ফলে বছরের পর বছর ধরে বীমা দাবি অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা কোম্পানিগুলো হলো- বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্সুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং মেটলাইফ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে সম্প্রতি জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশের বীমা শিল্পের বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি বীমা প্রতিষ্ঠানের দাবি পরিশোধের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় এ খাতে আস্থার সংকট রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বীমা গ্রহীতা অধিক সংখ্যায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করছেন এবং মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের অবহিত করছেন। এ অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তিতে বীমাকারী দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নিচ্ছেন এবং জবাবদিহির অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বীমাকারীদের জবাবদিহির মধ্যে আনয়নের নিমিত্তে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়মিত পরিবীক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আইডিআরএর সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। তাতে দেশের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর অনিষ্পন্ন দাবিতে ৫৭২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আটকে আছে। ২ লাখ ৭১ হাজার ২৪০টি পলিসির দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি, সারেন্ডার বা মেয়াদ পুর্তির আগে বীমা ভেঙে ফেলা, সার্ভাইবেল বেনিফিট এবং গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বীমার দাবি রয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর শেষে ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৩টি পলিসি তামাদি অবস্থায় রয়েছে। কোনো পলিসি কিছুদিন নিয়মিত চলার পর গ্রাহক আর পরিচালনা না করলে সেগুলো তামাদি হয়ে যায়। এসব পলিসির গ্রাহকদের মধ্যে যাদের নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা, তাদের অনেকেই অর্থ পাচ্ছেন না।

আইডিআরএ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটলাইফের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিদেশি মালিকানার এই বীমা কোম্পানির অধীনেই দেশের জীবন বীমার ২৩ শতাংশ হয়েছে। প্রগেসিভ লাইফের ৪০ কোটি ৯৪ লাখ ও পদ্মা ইসলামী লাইফের ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ কোম্পানি দুটো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সর্বশেষ বছরে এই দুই কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ডও দেয়নি। সানলাইফের ১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বীমা দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। গোল্ডেন লাইফের ৬৭ কোটি, বায়রা লাইফের ১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বীমা দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল লাইফের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ৯৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা কোম্পানি জীবন বীমা কর্পোরেশনের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ১৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। মেঘনা লাইফের ১৭ কোটি ৯৩ লাখ, সন্ধানী লাইফের ১৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বীমা দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে।
আইডিআরএর এক কর্মকর্তা বলেন, ১৪ কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা দ্রুত করতে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, সমপ্রতি ১৪ কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তি দ্রুত করার জন্য আইডিআরএ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক। এতে বীমা খাত গতিশীল হবে। ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) বিনীত আগরওয়াল বলেন, জীবন বীমার গ্রাহকরা সঠিকভাবে দাবির টাকা না পাওয়ায় এক ধরনের ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে প্রয়োজনীয় এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন এজেন্ট না আসায় নতুন ব্যবসাও আসছে না। ইমেজ সংকট কাটানো গেলে অবশ্যই বীমা খাতের আওতা বাড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানিগুলো বছরে যে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে তার ৭৩.৫ শতাংশই জীবন বীমা কোম্পানির। বাকি ২৬.৫ শতাংশ সাধারণ বীমা কোম্পানির। বর্তমানে জীবন বীমা খাতে ১ কোটি ৭ লাখের মতো পলিসি সচল আছে। তবে এ সংখ্যক মানুষ বীমার আওতায় নেই। কারণ একই ব্যক্তির একাধিক বীমা করা আছে। বীমার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৮০ থেকে ৮৫ লাখের মতো হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরেক মায়ের

ওরা যাবে কোথায়?

জয়শঙ্কর ঢাকায়

বঙ্গবন্ধু হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতারাই জড়িত

২ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

দেড় মাসে স্বর্ণের দাম বাড়লো ৫ বার

মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কম

২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, ভণ্ডপীর গ্রেপ্তার

গারো তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

কাঁচা চামড়া বেচা-কেনা শুরু

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার পুনর্বাসন করবে- ওবায়দুল কাদের

গ্রাহক নয়, উবার পাঠাওকে ৫% ভ্যাট দিতে হবে- এনবিআর

ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে রেলওয়ের ব্যর্থতায় হাইকোর্টের রুল

পারভেজ পুলিশি রিমান্ডে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশে র‌্যালি করবে বিএনপি