কেবল কাশ্মীরিরাই জানে না কী হচ্ছে তাদের সঙ্গে!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
যাদের নিয়ে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সেই কাশ্মীরের জনগণই জানেন না কী হচ্ছে তাদের সঙ্গে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করা হয়েছে। কেড়ে নেয়া হয়েছে রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ সুবিধা। চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিল পাস হয়। পরে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ এক নির্দেশের মাধ্যমে ধারাটি রদ করেন। এই ধারা রদের প্রভাব সরাসরি পড়বে কাশ্মীরের জনগণের ওপর। ধারাটি অনুসারে, বাইরের কেউ কাশ্মীরে জমি কিনতে পারতো না, চাকরির আবেদন করতে পারতো না। তবে ধারাটি রদ হওয়ায় এখন থেকে যেকোনো ভারতীয়ই সেখানে গিয়ে জমি কিনতে পারবেন, বিনিয়োগ করতে পারবেন। একইসঙ্গে পূর্বে কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান ছিল, পতাকা ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের তৈরি বিধান মেনে চলতে পারতো তারা। কিন্তু এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপ করা সকল বিধান মেনে চলতে হবে তাদের। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, যাদের জন্য এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, সেই কাশ্মীরিরাই এখনো এসব পরিবর্তন সমপর্কে জানেন না। কেন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সে বিষয়েও সপষ্ট ধারণা নেই বেশিরভাগ জনগণের।
সোমবার ৩৭০ ধারা রদের ঘোষণা দেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে থেকেই এর প্রস্তুতি নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ঘোষণার পর বিক্ষোভ হতে পারে এমন আশঙ্কায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৩৮ হাজারের বেশি সামরিক সেনা। মোতায়েনের আগ দিয়ে অবশ্য বলা হয়েছিল, জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় এই সেনা মোতায়েন হচ্ছে। এদিকে, ঘোষণার দিন থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট সেবা, মোবাইল সেবা। পুরো রাজ্যজুড়ে জারি করা হয়েছে কারফিউ। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ফারুক আবদুল্লাহ সহ গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দি করা হয়েছে স্থানীয় নেতাদের। বাইরের বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে রাজ্যটিকে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে সেখানকার জনগণের ওপর।

তারা খবরের অপেক্ষায় আছে
আল জাজিরার শ্রীনগর প্রতিবেদক জানিয়েছেন, পুরো কাশ্মীর অচল অবস্থায় রয়েছে। শ্রীনগরের বাইরের কোনো খবর সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছেন না। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা না থাকায় বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ গণমাধ্যম। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করে তা পেনড্রাইভ ও অন্যান্য উপায়ে বাইরে পাঠাচ্ছেন প্রচারের জন্য। রাস্তার প্রত্যেক মোড়ে টহল দিচ্ছে সামরিক সেনারা। জরুরি দরকার ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে বিবিসি’র শ্রীনগরের প্রতিবেদক আমির পীরজাদা জানিয়েছেন, এখন কাশ্মীরে একজনের সঙ্গে আরেকজনের যোগাযোগ করার কোনো উপায়ই নেই। টেলিফোনের মাধ্যমে তিনি বলেন, আমরা শ্রীনগরে আছি, কিন্তু কাশ্মীরের অন্য জায়গায় কী হচ্ছে তা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ কোনো যোগাযোগ নেই। সেনারা সবকিছু চেক করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে- সবকিছু চেক করছে।
যোগাযোগ এতটাই বিচ্ছিন্ন যে ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়া সমপর্কেই জানেন না অনেকে। এ ব্যাপারে আমীর পীরজাদা জানান, তারা মঙ্গলবার সকালে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলে বারামুল্লাহ জেলায় গিয়েছিলেন, স্থানীয়দের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এ খবর তারা জানেন কিনা। অধিকাংশ লোকই বলেছেন, তারা আরো খবরের অপেক্ষায় আছেন। কারণ সবার কথা তারা বিশ্বাস করেন না। স্থানীয় নেতারা বন্দি থাকার খবরও অনেকে জানেন না। রাজ্যে সরকারি ঘোষণা প্রচার না হওয়ায় বেশিরভাগের মাঝেই অনিশ্চয়তা ও ভয় কাজ করছে। সেনা মোতায়েনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকে।
পীরজাদা বিবিসিকে জানান, সবখানেই উত্তেজনা। লোকজন ক্ষুব্ধ। তারা এখনো বুঝতে চাইছে কী ঘটছে, কী ঘটতে যাচ্ছে, তাদের ভাগ্যে কী আছে। সামনে ঈদ আসছে। মনে করা হচ্ছে ভারত সরকার তখন সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেবে- যাতে লোকজন উৎসবের আগে কেনাকাটা করতে পারে। আমাদের দেখতে হবে, ঈদের সময় বাড়ির বাইরে এসে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয় কিনা। আমরা এখনো তা জানি না।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নানা চোখে জয়শঙ্করের ঢাকা সফর

ভয়াল ২১শে আগস্ট আজ

জন্মের পরই ডেঙ্গু যন্ত্রণায়

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ব্যস্ত কর্মী এখন নিজেই ডেঙ্গু রোগী

এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়

ডেঙ্গুর সমাধান খুঁজতে ৩ সংস্থার প্রতিনিধি ঢাকায়

ধর্ষণের পর হত্যা

সড়কে আর কত মৃত্যু?

সবজি রপ্তানি করতে কার্গো বিমান কিনতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

লার্ভার ডেঞ্জার জোন সিলেটের কদমতলী

ছাগল ছিনতাইয়ের মামলায় ছাত্রলীগ নেতার জামিন

সোনারগাঁয়ে নৃত্যশিল্পীকে গণধর্ষণ

ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী কমান্ডারের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

ডেঙ্গু নির্মূলে ডিএনসিসির বিশেষ ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু

দক্ষিণ সিটির ১২শ’ বাড়িতে এডিসের লার্ভা

মিন্নিকে কেন জামিন নয়- হাইকোর্ট