শর্ত সাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে মিয়ানমার

এক্সক্লুসিভ

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া থেকে | ২৯ জুলাই ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৪
শর্ত সাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে রাজি বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারে  রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট  থোয়ে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গা  নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক  শেষে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা নাগরিকত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব  দেয়া হবে। এ ছাড়াও যারা ‘দাদা, মা ও সন্তান’ এই তিনের অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। একইভাবে ন্যাশনাল  ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) অনুযায়ী কাগজপত্র দেখাতে পারবে তাদেরও নাগরিকত্ব দেয়া হবে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে বলেছেন, ‘দুইদিন ধরে একাধিক বৈঠকে  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের প্রস্তুতি সম্পর্কে  রোহিঙ্গাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ দফায়  বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দাবিসমূহ জানা গেছে। প্রত্যাবাসনের  ক্ষেত্রে মিয়ানমার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩ ক্ষেত্রে আলোচনা করার। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে তা আবারো হবে। একই সঙ্গে আসিয়ানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হবে। আসিয়ানের  রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মার্চ মাসে দেয়া প্রস্তাবনা বিবেচনা করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ সংক্রান্ত বৈঠক হবে ঢাকায় ফিরে। মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি রোববার সকালে কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পে যান। যেখানে শনিবারের বৈঠকে অংশ  নেয়া ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফায়  বৈঠক করেন। টানা ২ ঘণ্টার  বেশি সময় ধরে বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিজের নানা দাবির কথা জানান  রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা বলেছেন, নাগরিকত্ব ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার নিরাপত্তা প্রদান করলে তারা স্বদেশে ফেরত যাবেন। মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের কথা শোনেন এবং  রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়ার আহ্বান জানান। ফেরত  গেলে তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। গতকাল দুপুরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে  রোহিঙ্গা হিন্দুদের সঙ্গে আলাপ করেন। এ সময় হিন্দু রোহিঙ্গারা  কোনো দাবি বা শর্ত ছাড়াই মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হয়েছেন। তবে মুসলিম  রোহিঙ্গাদের মতো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন তারাও নানা শর্তজুড়ে দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলকে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের  নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল শনিবার বিমানযোগে সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪শে আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর রাখাইন রাজ্যে চলা হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সব রকমের প্রস্তুতির পরও মিয়ানমার রহস্যজনক কারণে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। পরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। চীনের ভূমিকা অস্পষ্ট থাকলেও সম্প্রতি তারাও সবুজ সংকেত দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে  রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিন দেখে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের আগমন। প্রতিনিধিদলটি গতকাল বিকালে ঢাকায় ফিরে গেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্যাংক নোটের আদলে টোকেন ব্যবহার দণ্ডনীয়

পুলিশ এতদিন কি করছিল?

সিরিজ বোমা হামলা: ৫ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা

পাষণ্ড ছেলে...

যমুনায় নৌকা ডুবি, নিহত ১

ফাইনালে অনিশ্চিত রশিদ খান

ঢাবিতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের অবস্থান, স্লোগান, উত্তেজনা

আগস্টে ইন্টারনেট সংযোগ বেড়েছে ২০ লাখ: বিটিআরসি

সৌদি আরবে হামলা থামানোর প্রস্তাব হুতির, সমর্থন জাতিসংঘের

‘জাবিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলন, সাবেক ভিসির এজেন্ডা’

জাবি’র ভর্তি পরীক্ষা শুরু, ২০ কোটি টাকার ফরম বিক্রি

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মানবেতর জীবন যাপন

‘দেশটা জুয়াড়িদের দেশ হয়ে গেছে’

মাকে বাঁচাতে সন্তানের আকুতি