গোলাপী ঘরে ১৫ ভূমিহীন পরিবারের রঙিন স্বপ্ন

দেশ বিদেশ

এস আলম তুহিন, মাগুরা থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার
বিধবা নারী রিনা খাতুন। নিজের ভিটেমাটি ছাড়া কয়েক বছর ধরে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে কেটেছে তার। দুই সন্তানের জননী রিনা খাতুনের অতীত দিনগুলো ছিল নিরাপত্তাহীন। বর্তমানে মাগুরা সদর উপজেলার মাধবপুর গুচ্ছগ্রামের ৭নং টিনশেড বাড়িটি এখন রিনা খাতুনের। নতুন বাড়িতে উঠে রিনা খাতুন এখন প্রতিটি দিন রঙিন স্বপ্নে বিভোর। সকালের সূর্য ওঠা দিনে তার সংসারের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন স্নেহের সন্তানদের মানুষ করতে। মুখে হাসির ঝিলিক নিয়ে দিন চলছেন রিনা খাতুন।
মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া মাধবপুর গুচ্ছগ্রামে ঠায় হয়েছে ১৫টি ভূমিহীন পরিবারের। যাদের প্রায় সবারই গল্প ওই রিনা খাতুনের মতো। তবে অন্যান্য যেসব ভূমিহীনের ঠায় হয়েছে তাদের চেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন এখানকার বাসিন্দারা। কারণ এই গুচ্ছগ্রামটি প্রথাগত নকশায় তৈরি হয়নি। বাড়ির নকশা থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই আনা হয়েছে পরিবর্তন। কাগজ কলমে গুচ্ছগ্রাম মনে হলেও স্থানীয়ভাবে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘পিংক ভিলেজ’ বা ‘গোলাপী গ্রাম’ নামে। রঙিন টিনের আধাপাকা বাড়ি, সোলার লাইট, পরিবেশবান্ধব চুলা, ঘরের সঙ্গে পাকা টয়লেট, শিশুদের জন্য খেলার জায়গা- সবই আছে এই গুচ্ছগ্রামে। মাগুরা সদর উপজেলার জগদল থেকে কাটাখালি যাওয়ার পথে নজর কাড়ে এই পিংক ভিলেজ। আশেপাশের এলাকার অনেকেই আসেন ঘুরতে।
সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গুচ্ছ ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় মাধবপুরে ১৫টি দুই রুমের ঘর তৈরি করা হয়েছে। প্রতি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। যেখানে মূল নকশা অনুযায়ী মাটির মেঝের উপর ১২টি আরসিসি খুঁটি দিয়ে টিনের ঘর তৈরির কথা ছিল। সেখানে মাটির মেঝের পরিবর্তে সিসি ঢালাইসহ পাকা মেঝে করা হয়েছে। আরসিসি খুঁটির পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ইটের দেয়াল। মূল নকশায় ঘরে দুই রুমের মাঝে ছিল বাঁশের বেড়া। পরিবতির্ত নকশায় দুই রুমের মাঝেও দেয়া হয়েছে ইটের দেয়াল। আর উপরে সাধারণ টিনের পরিবর্তে মাপ ঠিক রেখে দেয়া হয়েছে রঙিন টিন। পরিবর্তন আনা হয়েছে টয়লেটেও। সিরামিক প্যান ও আলাদা হাউজসহ বসানো হয়েছে পাকা টয়লেট।
প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, নকশা পরিবর্তন করা হলেও ঘরের স্থায়িত নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি। পুরো ভবন ঘিরে আরসিসি লিংটেল ও ডিপিসি ঢালাই দেয়া হয়েছে। জানালা দরজায় ব্যবহার করা হয়েছে মজবুত প্লেন শিট।
প্রকল্পের বাইরেও কিছু সুবিধা পেয়েছে এই গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। মূল রাস্তার সঙ্গে যুক্ত করতে ৫ ফুট প্রস্থ ও ৩৭৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ইটের সলিং রাস্তা করা হয়েছে পরিষদের তহবিল থেকে।
সাধারণ টিআর বরাদ্দ হতে প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে মোট ১৫টি সোলার স্থাপন করা হয়েছে। তিনটি টিউবওয়েলের সঙ্গে বসানো হয়েছে তিনটি সোলার স্ট্রিট লাইট। সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি বাড়িতে দেয়া হয়েছে চারটি করে ফলের গাছ। মোট ৪৮ শতক জমির ওপর ১৫টি ঘর নির্মাণের পাশাপাশি ৬ শতক পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা হয়েছে খেলার মাঠ হিসেবে। যেখানে শিশুরা খেলা করার পাশাপাশি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান করতে পারে।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সুফিয়ান জানান, প্রচলিত গুচ্ছগ্রামগুলো থেকে প্রায়ই একটি অভিযোগ পাওয়া যায় ঘরের মান ভালো নয়, ঘরে থাকা যায় না। কিছুদিন যাওয়ার পরে মানুষ আর থাকতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা গেল মানুষ আসলে মাটির ঘরে থাকতে চায় না। সামাজিক মর্যাদাসহ নানা কারণে ইটের ঘরের প্রতি মানুষের ঝোঁক। তাই এ কাজটি করতে সক্ষম হয়েছি। গোলাপি রং ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি নারী পছন্দের রঙ। রঙটা ব্যবহার করা হয়েছে নারী ক্ষমতায়নকে সামনে আনার জন্য। এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিটি ঘরের মালিক করা হয়েছে ওই পরিবারের নারী সদস্যকে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সাফে দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের

ভয়ঙ্কর অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

সকল এমপিকে মশা নিধনে যুক্ত করার আহবান

ছুটির দিনে রাজধানীতে দুর্ঘটনায় ঝরলো দুই প্রাণ

নিখোঁজের ৭ দিন পর নয়নের লাশ উদ্ধার

মোহাম্মদপুরে ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত

রেলস্টেশনের পাগলী এখন তারকা শিল্পী (ভিডিও)

কাশ্মীর ইস্যু: ভারত-পাকিস্তানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ট্রাম্প

ভারত-পাকিস্তান গুলি বিনিময়

ডেঙ্গু কেড়ে নিলো গৃহবধূসহ ৩ জনের প্রাণ

টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

সাতক্ষীরায় ‘মাদক ব্যবসায়ী’র গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

বাংলাদেশী কিশোরীর অন্ধকার জীবন

‘লুকিয়ে সিনেমা হলে ঢুকেছিলাম’

রাজি নয় রোহিঙ্গারা শুরু হলো না প্রত্যাবাসন

তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত