মহাসমাবেশ ঘিরে চাঙ্গা চট্টগ্রাম বিএনপি

এক্সক্লুসিভ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৯
অনুমতি পায়নি এখনো। তবে পাবেন, এই আশায় আগামী ২০শে জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এজন্য মহানগর থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন চলছে প্রস্তুতি সভা।

নেতাকর্মীরা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২০শে জুলাই চট্টগ্রামে বিভাগীয় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি চলছে। ৪ঠা জুলাই মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবর মহাসমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে দলের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দপ্তর সমপাদক ইদ্রিস আলী জানান, মহাসমাবেশের জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘির পাড়ই প্রথম পছন্দ ছিল। কিন্তু সেখানে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা থাকায় সমাবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লালদীঘির পাড়ের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর অথবা নগরীর কাজীর দেউরি মোড়ে মহাসমাবেশের জন্য আবেদন করা হয়েছে।   

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, কাজীর দেউরি মোড়েই আমরা মহাসমাবেশ করতে চাই। তবে সিএমপি এখনো অনুমতি দেয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যে মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।
যেকোনো মূল্যে নগর বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন প্রস্তুতি সভা করছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠছেন।

সূত্র জানায়, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য গত মঙ্গলবার সকালে দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। বিকালে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দল।  মনোয়ারা বেগম মনির সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহিলা দল নেত্রী জেলি চৌধুরী, আখিভ সুলতানা প্রমুখ।

এছাড়া একই সময়ে নগরীর দোস্ত বিল্ডিংয়ে দক্ষিণ জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে সাধারণ সমপাদক আজগরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সমপাদক মাহবুবে রহমান শামীম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সমপাদক হারুনুর রশিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, শফিউল আলম চৌধুরী জকু, অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সিনিয়র যুগ্ম সমপাদক আলী আব্বাস বক্তব্য রাখেন।
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক মাহবুবে রহমান শামীম সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি ও আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন।

এর আগে গত ১২ই জুলাই শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে বিভাগীয় বিএনপি। ১৩ই জুলাই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ই জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি সভা। ১৫ই জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সমপাদক মো. সাহেদের নেতৃত্বে আয়োজন করা হয় প্রস্তুতি সভার।

১৬ই জুলাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য শামসুল হক ও মহসীনের নেতৃত্বে যুবদলের বিদ্রোহী গ্রুপও সমাবেশের প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। এর আগে ১৫ই জুলাই সোমবার চট্টগ্রাম-৮ আসন বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমপাদক ও সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবে রহমান শামীম বলেন, ২০শে জুলাই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সমাবেশ। খালেদা জিয়া বিএনপির নেতাকর্মী ও গণতন্ত্রের জনগণের নেত্রী। সমাবেশে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি তথা নগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা রয়েছে। অন্য সাংগঠনিক জেলাগুলো হচ্ছে- কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে আমরা সমাবেশ করবো এবং তা জনসমুদ্রে রূপ নিবে।

এদিকে সমাবেশের অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, ২০শে জুলাই সমাবেশ করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। এজন্য তাদের আরো দু’দিন অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭শে অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে মহানগর বিএনপির কার্যালয় নসিমন ভবনের সামনে নুর আহমদ সড়কে সর্বশেষ সমাবেশ করে বিএনপি। এরপর প্রায় ঝিমিয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা। আর এর পেছনে মূল কারণ ছিল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা শত শত রাজনৈতিক মামলা। অধিকাংশ নেতাকর্মী এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। এদের কয়েকজন সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আবার নাইটক্লাব, আবার নারীসঙ্গ এবং...

সাদুল্লাপুরে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

ফারুক হত্যা মামলায় আটক আরও এক রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ট্রাম্প-মোদি বৈঠক আজ, উঠবে কাশ্মীর ইস্যু

চলচ্চিত্রের খল অভিনেতা বাবর আর নেই

মাদকের অভয়ারণ্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

জি-৭ সম্মেলনে আকস্মিক হাজির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাকে ছাত্রলীগ নেতার মারধর, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুরে বাসচাপায় পোশাক শ্রমিক নিহত, যানবাহনে আগুন, ভাঙচুর

পাবনায় জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

অ্যামাজন নিয়ে ঐকমতের কাছাকাছি জি-৭ নেতারা

‘দর্শক কাঁদতে কাঁদতে হল থেকে বের হবে’

বুমরাহর তোপে ১০০ রানে অলআউট উইন্ডিজ, ভারতের রেকর্ড গড়া জয়

গ্রিজম্যান ২, বার্সেলোনা ৫, বেতিস ২

স্টোকসের অবিশ্বাস্য ইনিংসে ইংল্যান্ডের ইতিহাস গড়া জয়

শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা মুহিতের সুনামের সঙ্গে মানানসই হবে না: টিআইবি