নাটকে বাড়ছে অশ্লীলতা

বিনোদন

এন আই বুলবুল | ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার
নাটকে বাড়ছে অশ্লীলতা। অশ্লীল সংলাপ, পোশাক ও বিভিন্ন ধরনের সুড়সুড়ি দৃশ্য দিয়ে দর্শককে আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতা চলছে এই সময়ের অনেক নাট্য নির্মাতার মধ্যে। গল্প ও শিল্পীদের চরিত্রের চেয়ে এসব নির্মাতার টার্গেট এখন ইউটিউব ভিউয়ার্স। ভিউয়ার্স বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে তারা যা-তা নির্মাণ করছে বলেই নাট্যবোদ্ধা এবং অনেক দর্শকের অভিমত। অনেকেই বলেন নাটকে অশ্লীলতা শুরু ‘আবাসিক হোটেল’ শিরোনামের একটি নাটকের মধ্য দিয়ে। এটি ২০১৭ সালে ইউটিউবে আসে। তারপর থেকে নাটকে অশ্লীলতা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ব্যাচেলর ট্রিপ’, ‘শোবার ঘর’, ‘টম অ্যান্ড জেরি-২’, ‘দুদুমিয়া’সহ বেশ কিছু নাটকে অশ্লীল সংলাপ দেখা যায়।
টিভি নাটকের চেয়ে ইউটিউবের জন্য যেসব নাটক নির্মাণ হচ্ছে সেগুলোতেই অশ্লীলতা বেশি দেখা যায়। টেলিভিশনেই দর্শকরা একটা সময় নাটক উপভোগ করতেন। সময়ের পরিক্রমায় টিভি থেকে নাটক চলে আসে ইউটিউবে। এখন অনেক নির্মাতা টেলিভিশনকে উপেক্ষা করে শুধু ইউটিউবের জন্যই নাটক নির্মাণ করছেন। ইউটিউব মুক্তবাজার। যে কারো স্বাধীনতা আছে এটির জন্য নির্মাণ করার। ইউটিউবে নেই কোনো সেন্সরবোর্ড। ফলে নতুন নির্মাতারা এই সুযোগটা ব্যবহার করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এই প্রসঙ্গে নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, টেলিভিশন নাটকে আপত্তিকর কিছু থাকবে এটি কারো কাম্য নয়। টেলিভিশনকে বলা হয় ড্রয়িং রুম মিডিয়া। এখানে পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে টিভি দেখেন। সময়ের সঙ্গে আধুনিকতা আমাদের মধ্যে এসেছে। তাই বলে অশ্লীলতাকে নিজেদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া যাবে না। নাটক এখন একইসঙ্গে টিভি ও ইউটিউব দু’মাধ্যমের জন্য নির্মাণ হচ্ছে। ফলে নাটক নির্মাণের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু অভিনয় ও নির্মাণ করলেই চলবে না। শিল্পী ও নির্মাতাদেরও সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে বলে আমি মনে করি। সমাজ ও তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই ধরনের নাটকে অভিনয় থেকে শিল্পীদের দূরে থাকা ভালো। নির্মাতাদেরও ভালো নাটক নির্মাণের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। নির্মাতা শিহাব শাহিন বলেন, আমাদের তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে এখন ভিউয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। ভিউয়ের দিক থেকে তাকে এগিয়ে থাকতে হবে এই মানসিকতা দূর করতে হবে নির্মাতাদের। তাহলে নাটকে স্থিতিশীলতা আসবে। এখন যেভাবে নাটক নির্মাণ হচ্ছে সেভাবে চলতে থাকলে চলচ্চিত্রের মতো একটা সময় আমাদের নাটকও শেষ হয়ে যাবে।  দর্শকরা খায় এমন ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দর্শকরা এখন হয়তো খাচ্ছে। কিন্তু একটা সময় এসব আর নিবে না। তখন কি হবে? ভালো কন্টেন্টে ভিউ কম হলেও তৃপ্তি থাকে একজন নির্মাতার। গড্ডালিকার প্রবাহে গা ভাসিয়ে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি। নাটকে অশ্লীলতা প্রসঙ্গে শক্তিমান অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, একটি শব্দ কোথায় কীভাবে উপস্থাপন হবে সেটি পরিবেশ বলে দেয়। সঠিক ক্ষেত্রে সঠিক ভাষা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। শুধু শুধু অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কিছু বলার মধ্যে সাহসিকতার কিছু নেই। নাটক আমাদের সমাজের কথা বলে। এখানে সমাজের অনেক কিছু তুলে ধরার সুযোগ আছে। তবে সেটির উপস্থাপনায় অবশ্যই শৈল্পিক ব্যাপারটা থাকতে হবে। সমাজের কথা বলতে গিয়ে নিজের খেয়াল-খুশিমতো কিছু করার কোনো মানে হয় না। আমি মনে করি, সুস্থ্থ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে নাটকে সমাজের অনেক অসঙ্গতি নির্মাতারা দর্শকের সামনে নিয়ে আসতে পারেন। এই সময়ে আমাদের নাটকের মান কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে সংশ্লিষ্ট একদিন সবাইকে কাজ ছাড়া থাকতে হবে। নাটক সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত, প্রতিযোগিতার নামে কোনো কোনো নির্মাতা কিংবা অভিনয়শিল্পী অকারণে এত বেশি খোলামেলা হচ্ছে তা চোখে লাগার মতো। সময়ের কিছু খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে তারা। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে দর্শক ভিনদেশের সংস্কৃতির দিকেই ঝুঁকে পড়বে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বাস্তবায়ন চায় চীন

ধরন পাল্টানোয় চিন্তিত চিকিৎসকরা

ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী

এরশাদের চেয়ারে জিএম কাদের

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের ৬ নির্দেশনা

রিফাত হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নি জড়িত

হটলাইন কমান্ডো নিয়ে আসছেন সোহেল তাজ

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে- সালমান এফ রহমান

বেসিক ব্যাংককে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়

১১ খাতে ওয়াসার দুর্নীতি পেয়েছে দুদক

‘আমলারাই এ সরকার টিকিয়ে রেখেছে’

ঢাবি থেকে ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আবারো শাহবাগ মোড় অবরোধ

ব্যাংক চান ডিসিরা

ব্যাগে শিশুর মাথা বহনকারী যুবককে পিটিয়ে হত্যা

পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা